Explore
Wb Suggestion
Learn Today, Lead Tomorrow

Follow Us

জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর । Class 10 । সাজেশন বাংলা ।

WB SUGGESTION Verified
🗓 Posted: 17.08.2026
মাধ্যমিক বাংলা • অধ্যায় ০১

জ্ঞানচক্ষু

আশাপূর্ণা দেবী MCQ প্রশ্নোত্তর

PART 01 MCQ
লেখক আশাপূর্ণা দেবী
গল্পসংকলন কুমকুম
প্রশ্ন ৩০টি MCQ
লক্ষ্য পরীক্ষার প্রস্তুতি
01
CHAPTER CHECK

জ্ঞানচক্ষু — বহুনির্বাচনী অনুশীলন

গল্পের চরিত্র, ঘটনা, উক্তি, তপনের মানসিক পরিবর্তন, লেখক সম্পর্কে তার ধারণা এবং গল্পের মূল বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে প্রশ্নগুলি সাজানো হয়েছে।

01
লেখক পরিচিতি

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটির রচয়িতা কে?

A লীলা মজুমদার
B আশাপূর্ণা দেবী
C মহাশ্বেতা দেবী
D বনফুল
✓ সঠিক উত্তর B) আশাপূর্ণা দেবী
02
গল্পের উৎস

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কোন গল্পসংকলন থেকে গৃহীত?

A কুমকুম
B গল্পগুচ্ছ
C একুশে আইন
D ছেলেবেলা
✓ সঠিক উত্তর A) কুমকুম
03
প্রধান চরিত্র

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের প্রধান চরিত্র কে?

A তপন
B ছোটোমামা
C মেসোমশাই
D তপনের বাবা
✓ সঠিক উত্তর A) তপন
04
ঘটনা

তপন মামার বাড়িতে কেন এসেছিল?

A পড়াশোনার জন্য
B ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষে
C বেড়াতে
D অসুস্থতার কারণে
✓ সঠিক উত্তর B) ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষে
05
চরিত্র

তপনের ছোটোমাসি তার কাছে কেমন ছিলেন?

A অপরিচিত
B চিরকালের বন্ধু
C কঠোর অভিভাবক
D শিক্ষিকা
✓ সঠিক উত্তর B) চিরকালের বন্ধু
06
মেসোমশাই

তপনের নতুন মেসোমশাই পেশাগতভাবে কী ছিলেন?

A ডাক্তার
B অধ্যাপক
C আইনজীবী
D ব্যবসায়ী
✓ সঠিক উত্তর B) অধ্যাপক
07
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

তপনের নতুন মেসোমশাই সম্পর্কে কোন তথ্যটি শুনে তপনের চোখ ‘মার্বেল’ হয়ে গিয়েছিল?

A তিনি অধ্যাপক
B তিনি লেখক
C তিনি সাংবাদিক
D তিনি কবি
✓ সঠিক উত্তর B) তিনি লেখক
08
তপনের ধারণা

গল্পের শুরুতে তপন লেখকদের সম্পর্কে কী মনে করত?

A তাঁরা সাধারণ মানুষের মতোই
B তাঁরা অন্য জগতের মানুষ
C তাঁরা কেবল শিক্ষক
D তাঁরা খুব ধনী
✓ সঠিক উত্তর B) তাঁরা অন্য জগতের মানুষ
09
উপলব্ধি

নতুন মেসোমশাইকে দেখে তপনের কোন ধারণা ভেঙে যায়?

A অধ্যাপকরা কঠোর হন
B লেখকরা সাধারণ মানুষ নন
C গল্প লেখা কঠিন
D বই পড়া অপ্রয়োজনীয়
✓ সঠিক উত্তর B) লেখকরা সাধারণ মানুষ নন
10
মেসোমশাই

নতুন মেসোমশাই সুযোগ পেলেই কী করতেন?

A গল্প লিখতেন
B দিবানিদ্রা দিতেন
C গান গাইতেন
D বই পড়তেন
✓ সঠিক উত্তর B) দিবানিদ্রা দিতেন
11
ঘটনা

তপনের নতুন মেসোমশাই খবরের কাগজ নিয়ে কার মতো গল্প ও তর্ক করতেন?

A ছোটোমামাদের মতো
B শিক্ষকদের মতো
C বন্ধুদের মতো
D সাংবাদিকদের মতো
✓ সঠিক উত্তর A) ছোটোমামাদের মতো
12
উক্তি

“এ দেশের কিছু হবে না”—উক্তিটি কার?

A তপনের
B ছোটোমাসির
C মেসোমশাইয়ের
D তপনের বাবার
✓ সঠিক উত্তর C) মেসোমশাইয়ের
13
মেসোমশাই

মেসোমশাইয়ের কলেজে তখন কী চলছিল?

A পরীক্ষা
B গরমের ছুটি
C ভর্তি প্রক্রিয়া
D নতুন শিক্ষাবর্ষ
✓ সঠিক উত্তর B) গরমের ছুটি
14
তপনের উপলব্ধি

নতুন মেসোমশাইকে দেখে তপনের কী খুলে গেল?

A মনের দরজা
B জ্ঞানচক্ষু
C লেখার খাতা
D পড়ার আগ্রহ
✓ সঠিক উত্তর B) জ্ঞানচক্ষু
15
লেখা

তপন কী লেখার চেষ্টা করেছিল?

A কবিতা
B গল্প
C প্রবন্ধ
D নাটক
✓ সঠিক উত্তর B) গল্প
16
সময়

তপন তার প্রথম গল্পটি কখন লিখেছিল?

A সকালে
B দুপুরবেলা
C সন্ধ্যায়
D গভীর রাতে
✓ সঠিক উত্তর B) দুপুরবেলা
17
লেখা

তপন গল্প লেখার সময় কোন খাতা ব্যবহার করেছিল?

A নতুন খাতা
B হোমটাস্কের খাতা
C ডায়েরি
D মেসোমশাইয়ের খাতা
✓ সঠিক উত্তর B) হোমটাস্কের খাতা
18
প্রথম পাঠক

তপনের গল্পটি প্রথম কে পড়েছিলেন?

A তপনের বাবা
B ছোটোমাসি
C মেসোমশাই
D তপনের শিক্ষক
✓ সঠিক উত্তর B) ছোটোমাসি
19
ছোটোমাসির উক্তি

তপনের গল্প পড়ে ছোটোমাসি কী বলেছিলেন?

A গল্পটি খুব খারাপ
B “এ তো বেশ লিখেছিস রে”
C আবার লিখতে হবে
D গল্পটি ছিঁড়ে ফেলতে হবে
✓ সঠিক উত্তর B) “এ তো বেশ লিখেছিস রে”
20
ছোটোমাসির মন্তব্য

ছোটোমাসি তপনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন গল্পটি কোথাও থেকে—

A শুনে লিখেছে কি না
B টুকলিফাই করেছে কি না
C মুখস্থ করেছে কি না
D অনুবাদ করেছে কি না
✓ সঠিক উত্তর B) টুকলিফাই করেছে কি না
21
প্রকাশনা

তপনের গল্প কোন পত্রিকায় প্রকাশের কথা ওঠে?

A দেশ
B আনন্দমেলা
C সন্ধ্যাতারা
D শুকতারা
✓ সঠিক উত্তর C) সন্ধ্যাতারা
22
মেসোমশাইয়ের মন্তব্য

তপনের গল্প পড়ে মেসোমশাই প্রথমে কেমন মন্তব্য করেছিলেন?

A একেবারেই ভালো হয়নি
B দিব্যি হয়েছে
C অসাধারণ হয়েছে
D আবার লিখতে হবে
✓ সঠিক উত্তর B) দিব্যি হয়েছে
23
সংশোধন

মেসোমশাই তপনের গল্পে কী করার কথা বলেছিলেন?

A অনুবাদ
B কারেকশন বা সংশোধন
C সম্পূর্ণ পরিবর্তন
D গল্পটি বাদ দেওয়া
✓ সঠিক উত্তর B) কারেকশন বা সংশোধন
24
প্রকাশের ব্যবস্থা

তপনের গল্পটি পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করার কথা কে বলেছিলেন?

A তপনের বাবা
B ছোটোমাসি
C তপনের মা
D ছোটোমামা
✓ সঠিক উত্তর B) ছোটোমাসি
25
পত্রিকা

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার সঙ্গে মেসোমশাইয়ের কী সম্পর্ক ছিল?

A তিনি পত্রিকাটি লিখতেন
B তিনি সম্পাদকের পরিচিত ছিলেন
C তিনি পত্রিকার মালিক ছিলেন
D তিনি পত্রিকাটি বিক্রি করতেন
✓ সঠিক উত্তর B) তিনি সম্পাদকের পরিচিত ছিলেন
26
পাঠের তাৎপর্য

“রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই”—এখানে ‘জহুরি’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

A তপনের মা
B ছোটোমাসি
C নতুন মেসোমশাই
D তপনের বাবা
✓ সঠিক উত্তর C) নতুন মেসোমশাই
27
মানসিক অবস্থা

তপনের গল্প ছাপা হয়েছে শুনে প্রথমে তার মনে কী অনুভূতি তৈরি হয়েছিল?

A গভীর আনন্দ
B ভয়
C রাগ
D উদাসীনতা
✓ সঠিক উত্তর A) গভীর আনন্দ
28
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার সংখ্যা হাতে দেখে তপনের বুকের রক্ত ছলকে উঠেছিল কেন?

A নিজের গল্প ছাপা হয়েছে ভেবে
B পত্রিকাটি নতুন ছিল বলে
C মেসোমশাইয়ের ছবি দেখে
D পত্রিকাটি হারিয়ে গিয়েছিল বলে
✓ সঠিক উত্তর A) নিজের গল্প ছাপা হয়েছে ভেবে
29
গল্পের মূল উপলব্ধি

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি কী?

A লেখক হওয়া অসম্ভব
B লেখকরাও সাধারণ মানুষ
C গল্প লেখা অপ্রয়োজনীয়
D পত্রিকায় লেখা দেওয়া উচিত নয়
✓ সঠিক উত্তর B) লেখকরাও সাধারণ মানুষ
30
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণের মূল তাৎপর্য কী?

A বাহ্যিক সৌন্দর্য উপলব্ধি
B নতুন জ্ঞান ও বাস্তব উপলব্ধির উন্মেষ
C লেখার দক্ষতা অর্জন
D বই পড়ার অভ্যাস তৈরি
✓ সঠিক উত্তর B) নতুন জ্ঞান ও বাস্তব উপলব্ধির উন্মেষ
QUICK RECAP

Part 01 শেষ করার আগে এগুলো মনে রাখো

রচয়িতা আশাপূর্ণা দেবী
গল্পসংকলন কুমকুম
প্রধান চরিত্র তপন
নতুন মেসোমশাই লেখক ও অধ্যাপক
পত্রিকা সন্ধ্যাতারা
মূল উপলব্ধি লেখকরাও সাধারণ মানুষ
PART 01 ৩০টি MCQ সম্পূর্ণ পরের অংশে SAQ
বাংলা • জ্ঞানচক্ষু • অধ্যায় ০১

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১ নম্বরের জন্য নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

PART 02
STUDY NOTE

ছোট প্রশ্ন, পরিষ্কার উত্তর

প্রতিটি উত্তর পরীক্ষায় লেখার উপযোগী করে সংক্ষিপ্ত ও সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে।

01
লেখক

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটির রচয়িতা কে?

উত্তর

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটির রচয়িতা হলেন আশাপূর্ণা দেবী

02
উৎস

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কোন গল্পসংকলন থেকে গৃহীত?

উত্তর

গল্পটি আশাপূর্ণা দেবীর ‘কুমকুম’ গল্পসংকলন থেকে গৃহীত।

03
প্রধান চরিত্র

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের প্রধান চরিত্রের নাম কী?

উত্তর

গল্পের প্রধান চরিত্রের নাম তপন

04
চরিত্র

তপনের ছোটোমাসি তার থেকে কত বছরের বড়ো ছিলেন?

উত্তর

তপনের ছোটোমাসি তার থেকে প্রায় আট বছরের বড়ো ছিলেন।

05
সম্পর্ক

ছোটোমাসি তপনের কী ছিলেন?

উত্তর

ছোটোমাসি তপনের চিরকালের বন্ধু ছিলেন।

06
মেসোমশাই

তপনের নতুন মেসোমশাই কী ছিলেন?

উত্তর

তপনের নতুন মেসোমশাই ছিলেন অধ্যাপক ও লেখক

07
তপনের ধারণা

তপন প্রথমে লেখকদের কেমন মানুষ বলে মনে করত?

উত্তর

তপন প্রথমে লেখকদের অন্য জগতের মানুষ বলে মনে করত।

08
উপলব্ধি

মেসোমশাইকে দেখে তপনের কোন ধারণা ভেঙে যায়?

উত্তর

তপনের ধারণা ভেঙে যায় যে লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন

09
লেখা

মেসোমশাইকে দেখে তপনের মধ্যে কী ইচ্ছা জাগে?

উত্তর

তপনের মনে লেখক হওয়ার ইচ্ছা জাগে।

10
গল্প

তপন কী ধরনের লেখা লিখেছিল?

উত্তর

তপন একটি গল্প লিখেছিল।

11
গল্পের নাম

তপনের লেখা প্রথম গল্পটির নাম কী?

উত্তর

তপনের প্রথম গল্পটির নাম ‘প্রথম দিন’

12
প্রথম পাঠক

তপনের লেখা গল্প প্রথম কে পড়েছিলেন?

উত্তর

তপনের গল্প প্রথম ছোটোমাসি পড়েছিলেন।

13
ছোটোমাসি

তপনের গল্প পড়ে ছোটোমাসি কী বলেছিলেন?

উত্তর

ছোটোমাসি বলেছিলেন, “এ তো বেশ লিখেছিস রে!”

14
টুকলিফাই

ছোটোমাসি তপনকে কী প্রশ্ন করেছিলেন?

উত্তর

ছোটোমাসি রসিকতা করে জানতে চেয়েছিলেন, তপন গল্পটি কোথাও থেকে ‘টুকলিফাই’ করেছে কি না

15
মেসোমশাই

মেসোমশাই তপনের গল্পটি কী করার কথা বলেছিলেন?

উত্তর

মেসোমশাই গল্পটি ‘কারেকশন’ বা সংশোধন করে ছাপাতে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

16
পত্রিকা

তপনের গল্প কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?

উত্তর

তপনের গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

17
সূচিপত্র

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার সূচিপত্রে তপনের গল্পটির নাম কীভাবে লেখা ছিল?

উত্তর

সূচিপত্রে লেখা ছিল— ‘প্রথম দিন’ (গল্প) শ্রী তপন কুমার রায়

18
বুকের রক্ত

‘বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের’—কেন?

উত্তর

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় নিজের গল্প প্রকাশিত হয়েছে বুঝতে পেরে আনন্দে তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে

19
অলৌকিক ঘটনা

তপনের কাছে কোন ঘটনাটি অলৌকিক বলে মনে হয়েছিল?

উত্তর

তার লেখা গল্প হাজার হাজার ছেলের হাতে ছাপার অক্ষরে ঘুরবে— এই ঘটনাটি তপনের কাছে অলৌকিক মনে হয়েছিল।

20
কারেকশন

‘কারেকশন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

‘কারেকশন’ বলতে লেখার সংশোধন বা পরিবর্তন বোঝানো হয়েছে।

21
তপনের দুঃখ

তপনের আনন্দ ক্রমশ ম্লান হয়ে গেল কেন?

উত্তর

তপন বুঝতে পারে তার গল্পটি শুধু তার নিজের কৃতিত্বে ছাপা হয়নি এবং মেসোমশাই গল্পে ব্যাপক পরিবর্তন করেছেন

22
‘এর মধ্যে তপন কোথা?’

‘এর মধ্যে তপন কোথা?’—এখানে ‘এর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

এখানে ‘এর’ বলতে ‘সন্ধ্যাতারা’য় প্রকাশিত তপনের গল্পটিকে বোঝানো হয়েছে।

23
নিজেকে খোঁজা

প্রকাশিত গল্পে তপন নিজেকে খুঁজে পেল না কেন?

উত্তর

মেসোমশাই ‘কারেকশন’-এর নামে গল্পটি এতটাই বদলে দিয়েছিলেন যে সেখানে তপনের নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য আর ছিল না

24
গল্পের ভাষা

প্রকাশিত গল্পের প্রতিটি লাইন তপনের কাছে কেমন মনে হয়েছিল?

উত্তর

গল্পের প্রতিটি লাইন তপনের কাছে আনকোরা বা অপরিচিত মনে হয়েছিল।

25
সবচেয়ে দুঃখের

তপনের মতে লেখক হয়ে নিজের লেখা পড়তে গিয়ে অন্যের লেখা পড়ার চেয়ে দুঃখের আর কী হতে পারে?

উত্তর

তপনের মতে নিজের নামে প্রকাশিত লেখায় নিজের লেখকসত্তাকে খুঁজে না পাওয়াই সবচেয়ে দুঃখের।

26
জ্ঞানচক্ষু

তপনের ‘জ্ঞানচক্ষু’ কখন খুলেছিল?

উত্তর

নিজের নামে প্রকাশিত গল্পে নিজের লেখা খুঁজে না পেয়ে তপনের প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল

27
উপলব্ধি

তপন শেষ পর্যন্ত কী বুঝতে পেরেছিল?

উত্তর

তপন বুঝতে পেরেছিল যে নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য ও কৃতিত্বই আসল

28
সংকল্প

তপন ভবিষ্যতে কী সংকল্প করেছিল?

উত্তর

ভবিষ্যতে নিজের লেখা ছাপাতে হলে নিজেই সম্পাদকের কাছে লেখা পাঠাবে— তপন এমন সংকল্প করেছিল।

29
মূল বক্তব্য

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের মূল বক্তব্য কী?

উত্তর

গল্পটির মূল বক্তব্য হল নিজস্ব সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব

30
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণের সার্থকতা কোথায়?

উত্তর

তপনের লেখক সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর হয়ে বাস্তব উপলব্ধি ও আত্মমর্যাদার বোধ জেগে ওঠে। এই নতুন উপলব্ধির জন্যই ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণ সার্থক

ONE MINUTE REVISION

Part 02 — এক নজরে

গল্প জ্ঞানচক্ষু
রচয়িতা আশাপূর্ণা দেবী
প্রধান চরিত্র তপন
গল্পের নাম প্রথম দিন
পত্রিকা সন্ধ্যাতারা
মূল উপলব্ধি নিজস্বতা ও আত্মমর্যাদা
PART 02 ৩০টি অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর সম্পূর্ণ
মাধ্যমিক বাংলা জ্ঞানচক্ষু

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

২ ও ৩ নম্বরের পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতি

PART 03
EXAM

উত্তর লেখার আগে প্রশ্নটি ভালো করে বোঝো

এই অংশের উত্তরগুলি শুধু মুখস্থ করার জন্য নয়। প্রতিটি উত্তরে ঘটনার সঙ্গে কারণ ও তাৎপর্য যুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে পরীক্ষায় নিজের ভাষায় উত্তর লেখা সহজ হয়।

01 চরিত্র ও মানসিকতা

“কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।” কোন্ কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল?

উত্তর

তপন জানতে পারে যে তার নতুন ছোটোমেসোমশাই একজন লেখক এবং তাঁর লেখা বইও প্রকাশিত হয়েছে। তপনের ধারণা ছিল, লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন। তাই নিজের পরিচিত একজন মানুষ যে সত্যিকারের লেখক, এই কথা শুনে বিস্ময়ে তপনের চোখ মার্বেলের মতো গোল হয়ে যায়।

02 উপলব্ধি

“এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের”—কোন্ বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল?

উত্তর

তপনের ধারণা ছিল, লেখকরা হয়তো সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন না। তারা যেন অন্য জগতের মানুষ। তাই লেখকরাও যে তার বাবা, কাকা, মামাদের মতোই সাধারণ মানুষ হতে পারেন—এই বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল।

03 জ্ঞানচক্ষু

“নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।” কীভাবে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল?

উত্তর

তপনের ধারণা ছিল লেখকরা অন্য জগতের মানুষ। কিন্তু নতুন মেসোমশাইকে সে খুব কাছ থেকে দেখে বুঝতে পারে, তিনিও তার বাবা-কাকা-মামাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ। তিনি স্নান করেন, দাড়ি কামান, খবরের কাগজ পড়েন, ঘুমোন এবং অন্যান্য সাধারণ কাজ করেন। ফলে লেখকদের সম্পর্কে তপনের ভুল ধারণা দূর হয় এবং তার প্রথম জ্ঞানচক্ষু উন্মোচিত হয়।

04 চরিত্র

তপনের লেখক হওয়ার ইচ্ছা কীভাবে জেগেছিল?

উত্তর

নতুন মেসোমশাইকে দেখে তপন বুঝতে পারে যে লেখকরাও সাধারণ মানুষের মতোই মানুষ। এই উপলব্ধি তার মনে সাহস জোগায়। সে ভাবে, লেখক যদি সাধারণ মানুষ হয়েই গল্প লিখতে পারেন, তবে তপনেরও লেখক হতে বাধা নেই। এই ভাবনা থেকেই তার লেখক হওয়ার ইচ্ছা আরও প্রবল হয়।

05 প্রথম গল্প

তপনের লেখা গল্পটির বিষয় কী ছিল এবং তার নাম কী?

উত্তর

তপন তার নিজের বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি অবলম্বন করে একটি গল্প লিখেছিল। গল্পটির নাম ছিল ‘প্রথম দিন’

06 লেখার স্থান

তপন কোথায় বসে তার প্রথম গল্পটি লিখেছিল?

উত্তর

তপন মামার বাড়ির তিনতলার সিঁড়িতে বসে তার প্রথম গল্পটি লিখেছিল। দুপুরবেলা সে খাতা-কলম নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গল্পটি লেখে।

07 ছোটোমাসি

“ওমা, এ তো বেশ লিখেছিস রে!”—কে, কাকে বলেছিলেন?

উত্তর

কথাটি তপনের ছোটোমাসি তপনকে বলেছিলেন। তপনের লেখা ‘প্রথম দিন’ গল্পটি দেখে তিনি তপনের লেখার প্রশংসা করেছিলেন।

08 টুকলিফাই

ছোটোমাসি তপনকে ‘টুকলিফাই’ করার কথা কেন বলেছিলেন?

উত্তর

তপনের লেখা গল্পটি ছোটোমাসির কাছে ভালো মনে হয়েছিল। কিন্তু তিনি মজা করে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে তপন হয়তো গল্পটি কোথাও থেকে টুকে বা নকল করে লিখেছে। তাই তিনি ‘টুকলিফাই’ করার কথা বলেছিলেন।

09 মেসোমশাই

তপনের গল্প পড়ে নতুন মেসোমশাই কী মন্তব্য করেছিলেন?

উত্তর

তপনের গল্প পড়ে নতুন মেসোমশাই বলেছিলেন, “দিব্যি হয়েছে”। তিনি গল্পটিকে আরও কিছুটা সংশোধন করে পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করার কথা বলেন।

10 কারেকশন

“একটু ‘কারেকশন’ করে ইয়ে করে দিলে ছাপাতে দেওয়া চলে।” ‘কারেকশন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

এখানে ‘কারেকশন’ বলতে তপনের লেখা গল্পের ভাষা ও বক্তব্য সংশোধন করে প্রকাশযোগ্য করে তোলাকে বোঝানো হয়েছে। নতুন মেসোমশাই এই সংশোধনের দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছিলেন।

11 পত্রিকা

তপনের গল্পটি কোন্ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?

উত্তর

তপনের লেখা ‘প্রথম দিন’ গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। গল্পটির লেখক হিসেবে তপনের নামও সূচিপত্রে ছাপা হয়েছিল।

12 সূচিপত্র

“সূচিপত্রেও নাম রয়েছে”—সূচিপত্রে কী লেখা ছিল?

উত্তর

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার সূচিপত্রে লেখা ছিল— ‘প্রথম দিন’ (গল্প), শ্রী তপনকুমার রায়। নিজের নাম মুদ্রিত দেখে তপন প্রথমে অত্যন্ত আনন্দিত হয়।

13 আনন্দ

তপনের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন মনে হয়েছিল কোন্ দিনকে?

উত্তর

নিজের লেখা গল্প ‘প্রথম দিন’ যখন ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় নিজের নামে প্রকাশিত হয়, তখন তপনের মনে হয়েছিল সেটিই তার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন

14 পরিবর্তন

প্রকাশিত গল্প পড়ে তপন নিজের মধ্যে কী পরিবর্তন অনুভব করেছিল?

উত্তর

গল্পটি পড়তে গিয়ে তপন বুঝতে পারে, গল্পটি তার নিজের লেখার মতো নেই। মেসোমশাই ‘কারেকশন’-এর নামে গল্পটি অনেকটাই পরিবর্তন করেছেন। ফলে নিজের নামে প্রকাশিত লেখাটির মধ্যে তপন নিজের সৃষ্টিকে আর খুঁজে পায়নি

15 “এর মধ্যে তপন কোথা?”

“এর মধ্যে তপন কোথা?”—কথাটির তাৎপর্য কী?

উত্তর

মেসোমশাইয়ের সংশোধনের ফলে তপনের গল্পটি এতটাই বদলে যায় যে প্রকাশিত গল্পের ভাষা ও রচনাশৈলীতে তপন নিজের কোনো ছাপ খুঁজে পায় না। তাই নিজের নামেই প্রকাশিত গল্পটি তার কাছে অপরিচিত ও অন্যের লেখা বলে মনে হয়। এই কারণেই তপন মনে করে—“এর মধ্যে তপন কোথা?”

16 দুঃখের মুহূর্ত

“আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।” তপনের এমন মনে হওয়ার কারণ কী?

উত্তর

তপন ভেবেছিল নিজের লেখা গল্প নিজের নামে প্রকাশিত হওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। কিন্তু গল্পটি পড়ে সে বুঝতে পারে, মেসোমশাই সেটিকে ‘কারেকশন’-এর নামে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। ফলে নিজের সৃষ্টির মধ্যে নিজেকে খুঁজে না পেয়ে তপন অপমান ও গভীর দুঃখে ভেঙে পড়ে

17 আত্মমর্যাদা

তপনের কাছে নিজের নামে অন্যের লেখা পড়া কেন অপমানজনক?

উত্তর

একজন লেখকের সৃষ্টির মধ্যে তার নিজের ভাবনা, ভাষা ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ থাকে। কিন্তু তপনের গল্প মেসোমশাই সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ায় প্রকাশিত লেখায় তপনের নিজস্ব সৃষ্টির ছাপ ছিল না। তাই নিজের নামে অন্যের লেখা পড়া তপনের কাছে আত্মমর্যাদাহানিকর বলে মনে হয়।

18 প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু

তপনের সত্যিকারের জ্ঞানচক্ষু কখন খুলেছিল?

উত্তর

নতুন মেসোমশাইকে দেখে তপনের প্রথম জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল— সে বুঝেছিল লেখকরাও সাধারণ মানুষ। কিন্তু নিজের গল্প অন্যের হাতে বদলে গিয়ে নিজের নামে প্রকাশিত হওয়ার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তার সত্যিকারের জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল। তখন সে নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য ও আত্মমর্যাদার মূল্য বুঝতে পারে।

19 সংকল্প

দুঃখের মুহূর্তে তপন কী সংকল্প করেছিল?

উত্তর

এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তপন সংকল্প করেছিল, ভবিষ্যতে সে যদি কোনো লেখা প্রকাশের জন্য দেয়, তাহলে নিজেই সরাসরি সম্পাদকের কাছে লেখা পাঠাবে। লেখা প্রকাশিত হোক বা না হোক, অন্য কারও বদান্যতায় নিজের লেখা প্রকাশ করতে সে আর চাইবে না।

20 নামকরণ

‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণের সার্থকতা কী?

উত্তর

তপনের মনে প্রথমে লেখকদের সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা ছিল। নতুন মেসোমশাইকে দেখে সে বুঝতে পারে লেখকরাও সাধারণ মানুষ। পরে নিজের লেখা পরিবর্তিত হয়ে প্রকাশিত হওয়ার অভিজ্ঞতায় সে বুঝতে পারে নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব। এই নতুন উপলব্ধিই তার ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে দেয়। তাই গল্পটির নামকরণ যথার্থ।

EXAM REVISION

Part 03 — যে ৬টি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবে

01 তপনের ভুল ধারণা

লেখকরা অন্য জগতের মানুষ।

02 প্রথম জ্ঞানচক্ষু

নতুন মেসোমশাইকে দেখে।

03 প্রথম গল্প

‘প্রথম দিন’

04 পত্রিকা

‘সন্ধ্যাতারা’

05 প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু

নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য উপলব্ধি।

06 শেষ সংকল্প

নিজেই সম্পাদকের কাছে লেখা পাঠাবে।

জ্ঞানচক্ষু PART 03 • সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর সম্পূর্ণ
বাংলা • গদ্য অধ্যায় — জ্ঞানচক্ষু
DESCRIPTIVE ANSWER

বড় প্রশ্নোত্তর

৫ নম্বরের উপযোগী বিশদ আলোচনা

PART 04
পরীক্ষায় উত্তর লেখার কৌশল

উত্তরে শুধু ঘটনা লিখলেই হবে না। প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা, চরিত্রের মানসিকতা এবং মূল বক্তব্য ধারাবাহিকভাবে লিখলে উত্তর অনেক বেশি সম্পূর্ণ হয়।

০১ ৫ নম্বর

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের লেখক-সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তন কীভাবে ঘটেছিল তা আলোচনা করো।

উত্তর

গল্পের শুরুতে তপনের মনে লেখকদের সম্পর্কে একটি বিশেষ ধারণা ছিল। সে মনে করত, লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন; তাঁরা যেন অন্য এক জগতের মানুষ। তাই পরিচিত কোনো মানুষ যে লেখক হতে পারেন, এই ধারণা তার কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

তপনের নতুন মেসোমশাই ছিলেন একজন লেখক। তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখে তপন বুঝতে পারে যে লেখকরাও সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেন। তাঁরা সংসার করেন, দৈনন্দিন কাজ করেন এবং সাধারণ মানুষের মতোই সুখ-দুঃখ অনুভব করেন। এই উপলব্ধির ফলে লেখকদের সম্পর্কে তপনের আগের ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়।

পরে নিজের গল্প প্রকাশের ঘটনায় তপনের উপলব্ধি আরও গভীর হয়। সে বুঝতে পারে, একজন লেখকের নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য ও আত্মমর্যাদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এইভাবেই তপনের চিন্তাজগতে পরিবর্তন ঘটে এবং তার ‘জ্ঞানচক্ষু’ প্রকৃত অর্থে খুলে যায়।

০২ ৫ নম্বর

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের লেখক হওয়ার ইচ্ছা কীভাবে জন্মেছিল এবং তার পরিণতি কী হয়েছিল?

উত্তর

তপনের মনে ছোটোবেলা থেকেই গল্প-লেখার প্রতি আগ্রহ ছিল। কিন্তু লেখকদের সম্পর্কে তার মনে একটি ভুল ধারণা ছিল। সে ভাবত, লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন। নতুন মেসোমশাইকে দেখে তার সেই ধারণা ভেঙে যায়।

মেসোমশাই নিজে একজন লেখক হওয়া সত্ত্বেও তপনের চোখে তিনি ছিলেন একেবারে সাধারণ মানুষ। এই ঘটনা তপনের মনে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। সে বুঝতে পারে, সাধারণ মানুষও চেষ্টা করলে গল্প লিখতে পারে। ফলে তার নিজের লেখক হওয়ার ইচ্ছা আরও প্রবল হয়।

তপন নিজের অভিজ্ঞতা অবলম্বনে একটি গল্প লেখে। গল্পটি মেসোমশাইয়ের মাধ্যমে পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও সেখানে অতিরিক্ত সংশোধনের ফলে তপন নিজের লেখার স্বরূপ খুঁজে পায় না। এতে তার মনে গভীর আঘাত লাগে। এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়ে দেয় যে শুধু প্রকাশিত হওয়াই বড় কথা নয়; নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ

০৩ ৫ নম্বর

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে ছোটোমাসির ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে ছোটোমাসি তপনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মানুষ। তিনি শুধু তপনের আত্মীয় নন, তাঁর সঙ্গে তপনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও ছিল। তপনের মনের কথা ছোটোমাসির কাছে সহজেই প্রকাশ পেত।

তপন যখন নিজের গল্প লেখে, তখন ছোটোমাসিই প্রথম তার লেখাটি পড়েন এবং উৎসাহ দেন। তাঁর প্রশংসা তপনের মনে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। তপনের লেখক হওয়ার স্বপ্নকে এগিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনিই তপনের গল্প প্রকাশের সম্ভাবনার কথা ভাবেন এবং মেসোমশাইয়ের সাহায্য নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে গল্প প্রকাশের পরে তপনের যে মানসিক আঘাত হয়, তার জন্য ছোটোমাসির উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না। তিনি তপনের ভালোই চেয়েছিলেন। তাই গল্পে ছোটোমাসি তপনের উৎসাহদাত্রী ও শুভাকাঙ্ক্ষী চরিত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

০৪ ৫ নম্বর

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে নতুন মেসোমশাইয়ের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

নতুন মেসোমশাই ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তিনি অধ্যাপক এবং লেখক। তাঁর লেখক-পরিচয় তপনের মনে প্রথমে বিস্ময় সৃষ্টি করে। কারণ তপনের ধারণা ছিল, লেখকরা সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

কিন্তু মেসোমশাইয়ের দৈনন্দিন জীবন দেখে তপন বুঝতে পারে যে তিনিও অন্য সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেন। এই উপলব্ধি তপনের লেখক-সম্পর্কিত ভুল ধারণা ভেঙে দেয়।

তপনের গল্প পড়ে মেসোমশাই তাকে উৎসাহ দেন এবং পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু গল্পে অতিরিক্ত পরিবর্তন করে দেওয়ায় তপনের নিজস্ব লেখকসত্তা অনেকটাই আড়াল হয়ে যায়। ফলে মেসোমশাইয়ের চরিত্রে একদিকে সহায়ক ও উৎসাহদাতা ভূমিকা থাকলেও, অন্যদিকে তাঁর ‘কারেকশন’ তপনের মনে গভীর আঘাত সৃষ্টি করে।

০৫ ৫ নম্বর

“এর মধ্যে তপন কোথা?”—উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় নিজের লেখা গল্প প্রকাশিত হয়েছে জেনে তপন প্রথমে অত্যন্ত আনন্দিত হয়। নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখে তার মনে গর্ব ও আনন্দের সৃষ্টি হয়।

কিন্তু গল্পটি পড়তে গিয়ে সে বুঝতে পারে, প্রকাশিত গল্পটির ভাষা ও রচনাশৈলী তার নিজের লেখার মতো নেই। মেসোমশাই ‘কারেকশন’-এর নামে গল্পটিতে এত পরিবর্তন করেছেন যে তপনের নিজস্ব ভাবনা ও লেখার স্বর সেখানে প্রায় অনুপস্থিত।

তাই নিজের নামের নিচে প্রকাশিত গল্পটি পড়েও তপন নিজের লেখকসত্তার কোনো পরিচয় খুঁজে পায় না। তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে— “এর মধ্যে তপন কোথা?” এই উক্তির মাধ্যমে তপনের হতাশা, আত্মমর্যাদাবোধ এবং নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্যের প্রতি গভীর টান প্রকাশ পেয়েছে।

০৬ ৫ নম্বর

তপনের ‘জ্ঞানচক্ষু’ দুইবার কীভাবে উন্মোচিত হয়েছিল— আলোচনা করো।

উত্তর

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের মানসিক বিকাশ দুটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ঘটে। প্রথম পর্যায়ে নতুন মেসোমশাইকে দেখে তার জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়। তপন বুঝতে পারে, লেখকরা কোনো অলৌকিক বা অন্য জগতের মানুষ নন; তাঁরাও সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেন।

দ্বিতীয় এবং আরও গভীর পর্যায়ে নিজের গল্প প্রকাশের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়। নিজের নামে প্রকাশিত গল্প পড়ে সে বুঝতে পারে, নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে গেলে শুধু নাম প্রকাশিত হওয়ার আনন্দ অর্থহীন।

এই দ্বিতীয় উপলব্ধির মাধ্যমে তপন আত্মমর্যাদা, নিজস্বতা এবং সৃষ্টিশীল স্বাধীনতার মূল্য বুঝতে শেখে। তাই এই দ্বিতীয় জ্ঞানচক্ষু উন্মেষই গল্পের মূল তাৎপর্য বহন করে।

০৭ ৫ নম্বর

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় দাও।

উত্তর

তপনের চরিত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল তার আত্মমর্যাদাবোধ। প্রথমে সে নিজের লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে জেনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়। কিন্তু প্রকাশিত গল্পটি পড়ার পরে যখন বুঝতে পারে যে গল্পটি তার নিজের লেখার মতো নেই, তখন তার আনন্দ মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যায়।

অন্য কোনো ছাত্র হলে হয়তো নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখেই খুশি থাকত। কিন্তু তপন বুঝতে পারে, নিজের নামে প্রকাশিত হলেও যদি লেখাটির মধ্যে তার নিজের সৃষ্টিশীল পরিচয় না থাকে, তবে সেই প্রকাশনার মূল্য তার কাছে খুব কম।

এই কারণেই তপন শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ভবিষ্যতে নিজের লেখা প্রকাশ করতে হলে সে নিজের যোগ্যতায় এবং নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই প্রকাশ করতে চায়। এখানেই তার আত্মমর্যাদাবোধের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়।

০৮ ৫ নম্বর

“লেখকরা অন্য জগতের মানুষ”—তপনের এই ধারণা কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল?

উত্তর

তপনের কল্পনায় লেখকরা ছিলেন এক ধরনের বিশেষ মানুষ। সে মনে করত, সাধারণ মানুষের পক্ষে লেখক হওয়া সম্ভব নয়। লেখকরা যেন সাধারণ জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিশেষ জগতের বাসিন্দা।

তার নতুন মেসোমশাই ছিলেন একজন লেখক। কিন্তু তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখে তপন বুঝতে পারে, মেসোমশাইও সাধারণ মানুষের মতোই দৈনন্দিন জীবনযাপন করেন। তাঁর মধ্যে কোনো অলৌকিক বৈশিষ্ট্য নেই।

এই বাস্তব অভিজ্ঞতা তপনের কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের পার্থক্য স্পষ্ট করে দেয়। ফলে সে বুঝতে পারে, লেখক হওয়া কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নয়; প্রতিভা, অনুশীলন ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষও লেখক হতে পারেন।

০৯ ৫ নম্বর

তপনের গল্প প্রকাশের ঘটনাটি তার মনে কী ধরনের পরিবর্তন এনেছিল?

উত্তর

তপনের গল্প প্রকাশের আগে সে মনে করেছিল, নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হলে সেটিই হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় নিজের নাম দেখে প্রথমে তার সেই আনন্দ পূর্ণ হয়।

কিন্তু গল্পটি পড়ার পরে সে বুঝতে পারে, তার লেখা মেসোমশাইয়ের সংশোধনের ফলে সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ফলে নিজের নামের নিচে প্রকাশিত গল্পের মধ্যে সে নিজের লেখকসত্তাকে খুঁজে পায় না।

এই ঘটনা তাকে গভীরভাবে ভাবতে শেখায়। সে বুঝতে পারে, শুধু প্রকাশিত হওয়াই সাফল্য নয়। নিজের সৃষ্টির ওপর নিজের অধিকার ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উপলব্ধিই তপনের মানসিক পরিণতির পরিচয় দেয়।

১০ ৫ নম্বর

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণ কতটা সার্থক—যুক্তিসহ আলোচনা করো।

উত্তর

‘জ্ঞানচক্ষু’ নামটির মধ্যে গল্পের মূল বক্তব্য নিহিত রয়েছে। তপনের চোখে প্রথমে লেখকরা ছিলেন রহস্যময় ও সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। নতুন মেসোমশাইকে দেখে তার সেই ভুল ধারণা ভেঙে যায়। এই প্রথম উপলব্ধির মাধ্যমে তার জ্ঞানচক্ষু খুলতে শুরু করে।

কিন্তু গল্পের শেষাংশে তার আরও গভীর উপলব্ধি ঘটে। নিজের লেখা গল্প অন্যের হাতে পরিবর্তিত হয়ে নিজের নামে প্রকাশিত হওয়ার পর তপন বুঝতে পারে, একজন সৃষ্টিশীল মানুষের কাছে নিজের কাজের স্বাতন্ত্র্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এই অভিজ্ঞতা তাকে শিশুসুলভ মোহ থেকে বাস্তব উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায়। সে নিজের সৃষ্টিশীল স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা এবং নিজস্বতার মূল্য বুঝতে পারে। তাই তপনের এই মানসিক জাগরণকে কেন্দ্র করেই ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামটি সম্পূর্ণ সার্থক হয়েছে।

EXAM FOCUS

এই ৫টি বিষয় বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখো

তপনের মানসিক পরিবর্তন
নতুন মেসোমশাইয়ের ভূমিকা
“এর মধ্যে তপন কোথা?”
তপনের আত্মমর্যাদা
নামকরণের সার্থকতা
জ্ঞানচক্ষু PART 04 বড় প্রশ্নোত্তর • ৫ নম্বর
বাংলা গদ্য • জ্ঞানচক্ষু

উদ্ধৃতি ও বিশ্লেষণ

গুরুত্বপূর্ণ উক্তি • প্রেক্ষাপট • ব্যাখ্যা • তাৎপর্য

PART 05
DEEP READING

শুধু মুখস্থ নয়—উক্তির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে লেখো

এই অংশে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে উত্তর দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় উদ্ধৃতি এলে প্রেক্ষাপট → ব্যাখ্যা → তাৎপর্য এই ধারায় উত্তর লিখবে।

০১ উদ্ধৃতিভিত্তিক

“লেখকরা বুঝি এমনই হয়!”—তপনের এই ধারণার মধ্যে তার কোন মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর

এই ধারণার মধ্যে তপনের শিশুসুলভ কল্পনা ও লেখকদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা প্রকাশ পেয়েছে। তপন মনে করত, লেখকরা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা ধরনের মানুষ। তাদের জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা ও ব্যক্তিত্ব সাধারণ মানুষের মতো নয়—এমন একটি কল্পনা তার মনে ছিল।

এই ধারণা বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। বরং লেখকদের সম্পর্কে তার মনে তৈরি হওয়া এক ধরনের রোমান্টিক কল্পনা থেকেই এই ধারণার জন্ম।

০২ বিশ্লেষণ

“তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল”—এই ‘জ্ঞানচক্ষু’ কি শুধু লেখক সম্পর্কে ধারণা পরিবর্তনকে বোঝায়?

উত্তর

না, ‘জ্ঞানচক্ষু’ শুধু লেখকদের সম্পর্কে তপনের ধারণা পরিবর্তনকে বোঝায় না। এর অর্থ আরও গভীর। প্রথমে তপন বুঝতে পারে যে লেখকরাও সাধারণ মানুষের মতোই মানুষ। এটি তার প্রথম উপলব্ধি

কিন্তু গল্পের শেষদিকে নিজের লেখা অন্যের হাতে পরিবর্তিত হয়ে প্রকাশিত হওয়ার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তপন বুঝতে পারে, একজন লেখকের কাছে তার নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই উপলব্ধি তার মানসিক পরিণতির পরিচয় দেয়।

তাই ‘জ্ঞানচক্ষু’ বলতে তপনের বাস্তববোধ, আত্মমর্যাদা ও সৃষ্টিশীল স্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠাকে বোঝায়।

০৩ চরিত্র বিশ্লেষণ

তপনকে কি শুধু আবেগপ্রবণ কিশোর বলা যায়? যুক্তি দিয়ে মতামত দাও।

উত্তর

তপন অবশ্যই আবেগপ্রবণ। নিজের গল্প প্রথমবার প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনায় সে অত্যন্ত আনন্দিত হয় এবং নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখে গর্ব অনুভব করে। কিন্তু তাকে শুধু আবেগপ্রবণ কিশোর বললে তার চরিত্রের সম্পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায় না।

নিজের লেখা অন্যের হাতে পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ার পরে তপন সেই পরিবর্তন মেনে নিয়ে শুধু প্রকাশনার আনন্দে সন্তুষ্ট থাকেনি। বরং সে বুঝতে পেরেছিল যে নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে গেলে প্রকাশিত হওয়ার আনন্দ অর্থহীন

শেষ পর্যন্ত সে নিজের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তাই তপন আবেগপ্রবণ হলেও তার মধ্যে আত্মসম্মান, সৃষ্টিশীল চেতনা এবং বিচারবোধও যথেষ্ট শক্তিশালী।

০৪ উক্তির তাৎপর্য

“তপনের বুকের মধ্যে একটা কেমন করে উঠল”—এই অনুভূতির পেছনে কী কারণ ছিল?

উত্তর

তপনের লেখা গল্প পত্রিকায় নিজের নামে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনায় প্রথমে তার মনে প্রবল আনন্দের সৃষ্টি হয়। কিন্তু গল্পটি পড়তে গিয়ে সে বুঝতে পারে, তার নিজের লেখাটি মেসোমশাইয়ের সংশোধনের ফলে অনেকটাই বদলে গেছে।

ফলে নিজের নামের নিচে প্রকাশিত গল্পের মধ্যে সে নিজের লেখকসত্তাকে খুঁজে পায় না। আনন্দের পরিবর্তে তার মনে হতাশা ও দুঃখ জন্ম নেয়। নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে যাওয়ার যন্ত্রণাই তার এই অস্বস্তিকর অনুভূতির কারণ।

০৫ মূল বক্তব্য

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে ‘প্রকাশিত হওয়া’ এবং ‘সার্থক লেখক হওয়া’—এই দুটি বিষয়ের মধ্যে কী পার্থক্য আছে?

উত্তর

শুধু কোনো লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হলেই একজন লেখকের প্রকৃত সার্থকতা প্রমাণিত হয় না। লেখার মধ্যে লেখকের নিজস্ব চিন্তা, অনুভূতি, ভাষা ও সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ থাকা প্রয়োজন।

তপনের গল্প প্রকাশিত হয়েছিল এবং তার নামও ছাপা হয়েছিল। কিন্তু গল্পটির মধ্যে মেসোমশাইয়ের অতিরিক্ত সংশোধনের কারণে তপনের নিজস্ব লেখার বৈশিষ্ট্য অনেকটাই হারিয়ে যায়। তাই প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও তপন প্রকৃত অর্থে সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

গল্পটি বোঝায়, খ্যাতি বা প্রকাশনার চেয়ে নিজের সৃষ্টির মৌলিকতা ও আত্মমর্যাদা বেশি গুরুত্বপূর্ণ

০৬ তুলনামূলক

গল্পের শুরুতে এবং শেষে তপনের মানসিক অবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করো।

উত্তর

গল্পের শুরুতে তপন ছিল কল্পনাপ্রবণ ও কিছুটা সরলমনা। লেখকদের সম্পর্কে তার মনে একটি অলৌকিক ধরনের ধারণা ছিল। সে ভাবত, লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন।

নতুন মেসোমশাইকে দেখে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করে। এরপর নিজের লেখা প্রকাশিত হওয়ার ঘটনায় তপন প্রথমে প্রবল আনন্দিত হয়। কিন্তু প্রকাশিত গল্পে নিজের লেখকসত্তাকে খুঁজে না পেয়ে তার সেই আনন্দ গভীর হতাশায় পরিণত হয়।

গল্পের শেষে তপন আর আগের মতো সরল ও কল্পনাপ্রবণ থাকে না। সে বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজের সৃষ্টির মূল্য ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব উপলব্ধি করে। এই পরিবর্তনই তার চরিত্রের পরিণতি নির্দেশ করে।

০৭ সমালোচনামূলক

মেসোমশাই তপনের উপকার করতে গিয়েও কীভাবে তার মনে আঘাত দিয়েছিলেন?

উত্তর

মেসোমশাই তপনের লেখা গল্প পড়ে সেটিকে পত্রিকায় প্রকাশের সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তপনকে সাহায্য করা। এই দিক থেকে তিনি তপনের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী।

কিন্তু গল্পটি প্রকাশযোগ্য করে তোলার সময় তিনি অতিরিক্ত পরিবর্তন করেন। ফলে প্রকাশিত গল্পের মধ্যে তপনের নিজস্ব ভাষা, ভাবনা ও লেখার বৈশিষ্ট্য অনেকটাই হারিয়ে যায়।

তপনের কাছে লেখাটি ছিল তার নিজের সৃষ্টির পরিচয়। তাই সেই সৃষ্টির পরিবর্তিত রূপ নিজের নামে প্রকাশিত হতে দেখে সে মানসিকভাবে আঘাত পায়। অর্থাৎ সাহায্যের উদ্দেশ্য ভালো হলেও পদ্ধতিটি তপনের আত্মমর্যাদায় আঘাত করেছিল

০৮ মূল ভাব

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে ‘নিজস্বতা’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর

একজন সৃষ্টিশীল মানুষের পরিচয় তার নিজের সৃষ্টির মধ্যেই প্রকাশ পায়। তার চিন্তা, অনুভূতি, ভাষা, অভিজ্ঞতা ও কল্পনা মিলেই তার সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য তৈরি হয়।

তপনের ক্ষেত্রেও তার গল্প ছিল তার নিজের অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতার ফল। কিন্তু গল্পটি অন্যের হাতে পরিবর্তিত হওয়ার পরে সে অনুভব করে, লেখাটির মধ্যে তার নিজের পরিচয় আর স্পষ্ট নেই।

তাই তপনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে লেখিকা দেখিয়েছেন, সৃষ্টির মূল্য শুধু তার প্রকাশে নয়, সৃষ্টির মধ্যে স্রষ্টার নিজস্ব পরিচয় বজায় থাকাতেও। এই কারণেই গল্পে ‘নিজস্বতা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

০৯ শিরোনাম বিশ্লেষণ

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কি কেবল একজন কিশোরের লেখক হওয়ার গল্প? যুক্তিসহ উত্তর দাও।

উত্তর

না। গল্পের বাহ্যিক কাহিনিতে তপনের লেখক হওয়ার ইচ্ছা এবং তার লেখা প্রকাশ পাওয়ার ঘটনা থাকলেও গল্পের মূল বিষয় তার চেয়ে অনেক গভীর।

তপনের মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গল্পটি বাস্তবতা, আত্মপরিচয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতা এবং আত্মমর্যাদার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। প্রথমে তপনের লেখকদের সম্পর্কে ভুল ধারণা ছিল। পরে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেই ধারণা বদলে যায়।

নিজের লেখা প্রকাশের ঘটনাও তাকে আরও পরিণত করে। তাই গল্পটি মূলত একজন কিশোরের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিণতির গল্প

১০ সমন্বিত প্রশ্ন

তপনের অভিজ্ঞতার আলোকে ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের শিক্ষামূলক দিকটি আলোচনা করো।

উত্তর

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের শিক্ষামূলক দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, গল্পটি শেখায় যে কোনো ব্যক্তি বা বিষয় সম্পর্কে কেবল কল্পনা বা দূর থেকে তৈরি ধারণার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সত্যকে বোঝা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, গল্পটি সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্রে নিজস্বতা ও মৌলিকতার গুরুত্ব বোঝায়। শুধু নিজের নাম প্রকাশিত হওয়াই সাফল্য নয়; নিজের চিন্তা ও সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখাও জরুরি।

তৃতীয়ত, তপনের অভিজ্ঞতা আত্মমর্যাদার মূল্য শেখায়। সে শেষ পর্যন্ত অন্যের সাহায্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই গল্পটি কিশোর পাঠককে বাস্তববোধ, আত্মবিশ্বাস, মৌলিকতা ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দেয়।

QUICK ANALYSIS

গল্পটি বুঝতে ৫টি মূল ধারণা

01 ভ্রান্ত ধারণা

লেখকরা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা।

02 প্রথম উপলব্ধি

লেখকরাও সাধারণ মানুষ।

03 সৃষ্টিশীলতা

নিজের লেখা নিজের পরিচয় বহন করে।

04 আত্মমর্যাদা

শুধু প্রকাশনা নয়, নিজস্বতাও জরুরি।

05 পরিণতি

তপনের বাস্তব উপলব্ধির মধ্য দিয়ে মানসিক বিকাশ।

জ্ঞানচক্ষু PART 05 উদ্ধৃতিভিত্তিক • বিশ্লেষণমূলক • পরীক্ষাভিত্তিক
মাধ্যমিক বাংলা গদ্য • জ্ঞানচক্ষু
FINAL REVISION

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

পুরো অধ্যায় এক নজরে • পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন

PART 06
06
BEFORE EXAM

১০ মিনিটে ‘জ্ঞানচক্ষু’ রিভিশন

নিচের অংশগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়লে গল্পের কাহিনি, চরিত্র, মূলভাব এবং পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দ্রুত মনে পড়ে যাবে।

01
AUTHOR & STORY

প্রাথমিক তথ্য

গল্প জ্ঞানচক্ষু
রচয়িতা আশাপূর্ণা দেবী
প্রধান চরিত্র তপন
তপনের লেখা ‘প্রথম দিন’
পত্রিকা ‘সন্ধ্যাতারা’
কেন্দ্রীয় ভাব নিজস্বতা ও আত্মমর্যাদা
02
STORY FLOW

গল্পের ঘটনা-ক্রম

তপনের প্রাথমিক ধারণা

তপনের মনে ছিল যে লেখকরা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা ধরনের মানুষ।

নতুন মেসোমশাইয়ের আগমন

তপন জানতে পারে তাঁর নতুন মেসোমশাই একজন লেখক।

প্রথম উপলব্ধি

মেসোমশাইয়ের সাধারণ জীবনযাপন দেখে তপনের লেখক-সম্পর্কিত ভুল ধারণা ভাঙে।

তপনের গল্প লেখা

তপন নিজের অভিজ্ঞতা অবলম্বনে ‘প্রথম দিন’ গল্পটি লেখে।

গল্প প্রকাশের সুযোগ

মেসোমশাই গল্পটি দেখে সেটিকে সংশোধন করে পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করেন।

প্রথমে আনন্দ

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় নিজের নাম দেখে তপন অত্যন্ত আনন্দিত হয়।

আনন্দ থেকে আঘাত

প্রকাশিত গল্প পড়ে তপন বুঝতে পারে, গল্পটির মধ্যে তার নিজের লেখার স্বরূপ নেই।

চূড়ান্ত উপলব্ধি

তপন নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব উপলব্ধি করে।

03
CHARACTER MAP

চরিত্রগুলো এক নজরে

তপন

কল্পনাপ্রবণ, লেখালেখিতে আগ্রহী, আবেগপ্রবণ হলেও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন।

নতুন মেসোমশাই

অধ্যাপক ও লেখক। তপনের লেখক-সম্পর্কিত ধারণা পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ছোটোমাসি

তপনের ঘনিষ্ঠ ও শুভাকাঙ্ক্ষী। তার লেখার প্রতি উৎসাহ দেখান।

04
MUST REMEMBER

যে বিষয়গুলো ভুল করা যাবে না

তপনের লেখা গল্পের নাম — ‘প্রথম দিন’
গল্প প্রকাশিত হয় — ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায়
তপনের মূল উপলব্ধি — নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য
গুরুত্বপূর্ণ উক্তি — “এর মধ্যে তপন কোথা?”
গল্পের কেন্দ্রীয় বিষয় — জ্ঞানচক্ষুর উন্মেষ
তপনের মানসিক পরিবর্তন — কল্পনা থেকে বাস্তব উপলব্ধি
05
EXAM PRIORITY

সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

01

‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

02

তপনের মানসিক পরিবর্তন আলোচনা করো।

03

“এর মধ্যে তপন কোথা?”—উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

04

তপনের চরিত্রে আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় দাও।

05

নতুন মেসোমশাইয়ের চরিত্র ও ভূমিকা আলোচনা করো।

06

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখো।

07

গল্পে নিজস্বতার গুরুত্ব কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?

08

তপনের লেখক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও তার পরিণতি আলোচনা করো।

SELF CHECK

নিজেকে পরীক্ষা করো

বই না দেখে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর মনে করার চেষ্টা করো।

01

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের রচয়িতা কে?

02

তপনের লেখা গল্পের নাম কী?

03

গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

04

তপনের প্রথম ভুল ধারণাটি কী ছিল?

05

প্রকাশিত গল্প পড়ে তপনের কেন দুঃখ হয়েছিল?

06

‘এর মধ্যে তপন কোথা?’ কথাটির অর্থ কী?

07

তপনের জ্ঞানচক্ষু কীভাবে খুলেছিল?

08

গল্পটির মূল শিক্ষা কী?

LAST MINUTE RULE

উত্তর মুখস্থ নয়, উত্তরটির কারণ বুঝে লেখো।

বিশেষ করে তপনের মানসিক পরিবর্তন, ‘জ্ঞানচক্ষু’-র অর্থ এবং নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য—এই তিনটি বিষয় পরিষ্কার থাকলে অধ্যায়টির বড় প্রশ্নের উত্তর অনেক সহজে লেখা যাবে।

জ্ঞানচক্ষু PART 06

Final Revision • Exam Preparation