Explore
Wb Suggestion
Learn Today, Lead Tomorrow

Follow Us

Madhyamik History Suggestion 2027

WB SUGGESTION Verified
🗓 Posted: 13.08.2026

MADHYAMIK 2027 • HISTORY

ইতিহাস Final Exam Best Suggestion

প্রশ্নের ধরন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং সম্ভাব্য প্রশ্নের ভিত্তিতে সাজানো সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গাইড।

90 Written Marks
6 Parts
425+ Practice
!
কীভাবে এই Suggestion ব্যবহার করবে?

এগুলি ২০২৭-এর নিশ্চিত প্রশ্ন নয়। Board pattern, syllabus, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং প্রশ্নের ধরন বিবেচনা করে high-priority practice হিসেবে সাজানো হয়েছে।

PREPARATION ROADMAP

তোমার History Preparation শুরু করো

06 PARTS
01
PART 01 Board: 20 MCQ

MCQ — গুরুত্বপূর্ণ ১০০টি

বিভিন্ন অধ্যায় থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ, concept-based question এবং সঠিক উত্তর।

✓ ১০০ প্রশ্ন ✓ উত্তরসহ ★ High Priority
দেখুন
02
PART 02 Board: Very Short

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন — ১০০টি

সাল, ব্যক্তি, ঘটনা, স্থান, সংগঠন ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর।

✓ ১০০ প্রশ্ন ✓ ১ নম্বর ★ High Priority
দেখুন
03
PART 03 Board: 2 Marks

Short & Explanatory — ৬০টি

গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ, বৈশিষ্ট্য, গুরুত্ব ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নের practice।

✓ ৬০ প্রশ্ন ✓ ২ নম্বর ★ Important
দেখুন
04
PART 04 Board: Analytical

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন — ৪০টি

কারণ, প্রভাব, ভূমিকা, গুরুত্ব, তুলনা ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের বিস্তারিত প্রস্তুতি।

✓ ৪০ প্রশ্ন ✓ ৪ নম্বর ★ Very Important
দেখুন
05
PART 05 Board: Essay

রচনাধর্মী প্রশ্ন — ২৫টি

দীর্ঘ উত্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বিষয়, ঘটনা ও ব্যক্তিত্বভিত্তিক প্রশ্ন।

✓ ২৫ প্রশ্ন ✓ ৮ নম্বর ★ Very Important
দেখুন
06
PART 06 Final Revision

Final Revision — ১০০+ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাল, ব্যক্তি, ঘটনা, সংগঠন, আন্দোলন ও একনজরে Revision।

✓ ১০০+ তথ্য ✓ Quick Revision ★ Last Minute
দেখুন
PART 01 • MCQ PRACTICE

মাধ্যমিক ২০২৭ ইতিহাস — ১০০টি MCQ

৮টি অধ্যায় থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ MCQ, সঠিক উত্তর ও পরীক্ষামুখী Practice।

১০০ প্রশ্ন ৮টি অধ্যায় উত্তরসহ High Priority
পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: এই ১০০টি প্রশ্ন ২০২৭-এর নিশ্চিত প্রশ্ন নয়। Syllabus, সাম্প্রতিক Board pattern, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে Practice-এর জন্য তৈরি করা হয়েছে।
অধ্যায় ১

ইতিহাসের ধারণা

প্রশ্ন ১–১২

প্রশ্ন ১ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

‘History’ শব্দটির উৎস কোন ভাষার শব্দ থেকে?

(ক) আরবি (খ) গ্রিক (গ) সংস্কৃত (ঘ) ফরাসি
সঠিক উত্তর: (খ) গ্রিক
প্রশ্ন ২ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) বিপিনচন্দ্র পাল (ঘ) সরলাদেবী চৌধুরানী
সঠিক উত্তর: (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রশ্ন ৩ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

‘Letters from a Father to His Daughter’ গ্রন্থটি কার লেখা?

(ক) মহাত্মা গান্ধি (খ) জওহরলাল নেহরু (গ) সুভাষচন্দ্র বসু (ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: (খ) জওহরলাল নেহরু
প্রশ্ন ৪ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

আত্মজীবনীতে মূলত কার জীবনের কথা তুলে ধরা হয়?

(ক) লেখকের নিজের (খ) কোনো রাজার (গ) কোনো ঐতিহাসিক যুদ্ধের (ঘ) কোনো প্রতিষ্ঠানের
সঠিক উত্তর: (ক) লেখকের নিজের
প্রশ্ন ৫ 🟢 Practice

‘স্মৃতিকথা’ বলতে কী বোঝায়?

(ক) ভবিষ্যতের কল্পিত ঘটনা (খ) অতীতের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার বিবরণ (গ) কেবল সরকারি নথি (ঘ) কেবল সংবাদ প্রতিবেদন
সঠিক উত্তর: (খ) অতীতের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার বিবরণ
প্রশ্ন ৬ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

আধুনিক ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?

(ক) সরকারি নথি (খ) কেবল লোককথা (গ) কেবল পৌরাণিক কাহিনি (ঘ) কেবল ধর্মীয় আচার
সঠিক উত্তর: (ক) সরকারি নথি
প্রশ্ন ৭ 🟢 Practice

নারীর ইতিহাসচর্চার মূল বিষয় কী?

(ক) কেবল যুদ্ধ (খ) সমাজে নারীর ভূমিকা ও অভিজ্ঞতা (গ) কেবল রাজাদের জীবন (ঘ) কেবল অর্থনীতি
সঠিক উত্তর: (খ) সমাজে নারীর ভূমিকা ও অভিজ্ঞতা
প্রশ্ন ৮ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

ফটোগ্রাফি ইতিহাসচর্চায় কী ধরনের উপাদান?

(ক) দৃশ্যগত উপাদান (খ) কেবল মৌখিক উপাদান (গ) কেবল সাহিত্যিক উপাদান (ঘ) কেবল ধর্মীয় উপাদান
সঠিক উত্তর: (ক) দৃশ্যগত উপাদান
প্রশ্ন ৯ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

‘নিম্নবর্গের ইতিহাস’ প্রধানত কাদের ইতিহাসকে গুরুত্ব দেয়?

(ক) কেবল শাসকদের (খ) সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের (গ) কেবল সেনাপতিদের (ঘ) কেবল জমিদারদের
সঠিক উত্তর: (খ) সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের
প্রশ্ন ১০ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

‘নতুন সামাজিক ইতিহাস’ কোন বিষয়ের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়?

(ক) শুধু রাজনীতি (খ) সাধারণ মানুষের সামাজিক জীবন (গ) শুধু যুদ্ধ (ঘ) শুধু রাজবংশ
সঠিক উত্তর: (খ) সাধারণ মানুষের সামাজিক জীবন
প্রশ্ন ১১ 🟢 Practice

সংবাদপত্র ইতিহাসের কোন ধরনের উৎস?

(ক) লিখিত উৎস (খ) কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস (গ) কেবল মৌখিক উৎস (ঘ) কেবল ভৌগোলিক উৎস
সঠিক উত্তর: (ক) লিখিত উৎস
প্রশ্ন ১২ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

চিঠিপত্র ইতিহাসচর্চায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

(ক) ব্যক্তিগত ও সমকালীন তথ্য পাওয়া যায় (খ) শুধু কবিতা পাওয়া যায় (গ) শুধু মানচিত্র পাওয়া যায় (ঘ) শুধু সরকারি আইন পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর: (ক) ব্যক্তিগত ও সমকালীন তথ্য পাওয়া যায়
অধ্যায় ২

সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

প্রশ্ন ১৩–২৫

প্রশ্ন ১৩ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন কে?

(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (খ) রাজা রামমোহন রায় (গ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) কেশবচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর: (খ) রাজা রামমোহন রায়
প্রশ্ন ১৪ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

সতীদাহ প্রথা বিলোপের সঙ্গে কার নাম বিশেষভাবে যুক্ত?

(ক) রাজা রামমোহন রায় (খ) ডিরোজিও (গ) বিদ্যাসাগর (ঘ) ডেভিড হেয়ার
সঠিক উত্তর: (ক) রাজা রামমোহন রায়
প্রশ্ন ১৫ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা কে?

(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (খ) রাজা রামমোহন রায় (গ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
প্রশ্ন ১৬ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয় কোন সালে?

(ক) ১৮২৯ (খ) ১৮৫৬ (গ) ১৮৭২ (ঘ) ১৮৮৫
সঠিক উত্তর: (খ) ১৮৫৬
প্রশ্ন ১৭ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

‘ইয়ং বেঙ্গল’ আন্দোলনের নেতা কে ছিলেন?

(ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (খ) ডেভিড হেয়ার (গ) বিদ্যাসাগর (ঘ) রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর: (ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
প্রশ্ন ১৮ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

ডিরোজিও কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

(ক) হিন্দু কলেজ (খ) বেথুন স্কুল (গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (ঘ) সংস্কৃত কলেজ
সঠিক উত্তর: (ক) হিন্দু কলেজ
প্রশ্ন ১৯ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

(ক) জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন (খ) ডিরোজিও (গ) বিদ্যাসাগর (ঘ) কেশবচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর: (ক) জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন
প্রশ্ন ২০ 🟢 Practice

‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’-এর রচয়িতা কে?

(ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ (খ) বঙ্কিমচন্দ্র (গ) দীনবন্ধু মিত্র (ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর: (ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
প্রশ্ন ২১ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ব্রাহ্মসমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?

(ক) একেশ্বরবাদ (খ) বহুদেববাদ (গ) সামন্ততন্ত্র (ঘ) সামরিক শাসন
সঠিক উত্তর: (ক) একেশ্বরবাদ
প্রশ্ন ২২ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

‘সমাচার দর্পণ’ কী ছিল?

(ক) সংবাদপত্র (খ) উপন্যাস (গ) আত্মজীবনী (ঘ) সরকারি আইন
সঠিক উত্তর: (ক) সংবাদপত্র
প্রশ্ন ২৩ 🟢 Practice

নারীশিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা ছিল প্রধানত কী?

(ক) বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার প্রসার (খ) সামরিক প্রশিক্ষণ (গ) কৃষি সংস্কার (ঘ) শিল্পায়ন
সঠিক উত্তর: (ক) বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার প্রসার
প্রশ্ন ২৪ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

রাজা রামমোহন রায় কোন সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করেছিলেন?

(ক) সতীদাহ (খ) নীলচাষ (গ) বেগার (ঘ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
সঠিক উত্তর: (ক) সতীদাহ
প্রশ্ন ২৫ 🟢 Practice

ডেভিড হেয়ার কোন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন?

(ক) পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার (খ) কৃষক বিদ্রোহ (গ) শ্রমিক আন্দোলন (ঘ) সামরিক সংস্কার
সঠিক উত্তর: (ক) পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার
অধ্যায় ৩

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

প্রশ্ন ২৬–৩৮

প্রশ্ন ২৬ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয় কোন সালে?

(ক) ১৮৫৫ (খ) ১৮৫৭ (গ) ১৮৬০ (ঘ) ১৮৭৫
সঠিক উত্তর: (ক) ১৮৫৫
প্রশ্ন ২৭ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান নেতাদের মধ্যে কারা ছিলেন?

(ক) সিধু ও কানহু (খ) তিতুমির ও দুদু মিঞা (গ) কুনওয়ার সিং ও তাতিয়া টোপে (ঘ) বিরসা ও সিধু
সঠিক উত্তর: (ক) সিধু ও কানহু
প্রশ্ন ২৮ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

দামিন-ই-কোহ কোন বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত?

(ক) সাঁওতাল বিদ্রোহ (খ) নীল বিদ্রোহ (গ) সিপাহি বিদ্রোহ (ঘ) তেভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (ক) সাঁওতাল বিদ্রোহ
প্রশ্ন ২৯ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

নীল বিদ্রোহের প্রধান কারণ কী ছিল?

(ক) নীলকরদের অত্যাচার ও জোর করে নীলচাষ (খ) জমিদারি প্রথা বিলোপ (গ) রেলপথ নির্মাণ (ঘ) পাশ্চাত্য শিক্ষা
সঠিক উত্তর: (ক) নীলকরদের অত্যাচার ও জোর করে নীলচাষ
প্রশ্ন ৩০ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

নীল বিদ্রোহের সঙ্গে ‘নীলদর্পণ’ নাটকের সম্পর্ক কী?

(ক) নীলচাষিদের দুর্দশা তুলে ধরা (খ) সিপাহিদের জীবন তুলে ধরা (গ) ব্রাহ্মসমাজের ইতিহাস লেখা (ঘ) নারীশিক্ষার প্রচার করা
সঠিক উত্তর: (ক) নীলচাষিদের দুর্দশা তুলে ধরা
প্রশ্ন ৩১ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

‘নীলদর্পণ’-এর রচয়িতা কে?

(ক) দীনবন্ধু মিত্র (খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত (গ) বঙ্কিমচন্দ্র (ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর: (ক) দীনবন্ধু মিত্র
প্রশ্ন ৩২ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

তিতুমিরের প্রকৃত নাম কী?

(ক) মীর নিসার আলি (খ) দুদু মিঞা (গ) সৈয়দ আহমদ (ঘ) করম শাহ
সঠিক উত্তর: (ক) মীর নিসার আলি
প্রশ্ন ৩৩ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

তিতুমিরের আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?

(ক) বারাসাত (খ) মেদিনীপুর (গ) সাঁওতাল পরগনা (ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর: (ক) বারাসাত
প্রশ্ন ৩৪ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

মুন্ডা বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?

(ক) বিরসা মুন্ডা (খ) সিধু (গ) কানহু (ঘ) তিতুমির
সঠিক উত্তর: (ক) বিরসা মুন্ডা
প্রশ্ন ৩৫ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

মুন্ডা বিদ্রোহ প্রধানত কোন অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল?

(ক) ছোটনাগপুর (খ) পাঞ্জাব (গ) বাংলা বদ্বীপ (ঘ) মহারাষ্ট্র
সঠিক উত্তর: (ক) ছোটনাগপুর
প্রশ্ন ৩৬ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের তাৎক্ষণিক কারণ কী ছিল?

(ক) এনফিল্ড রাইফেলের চর্বিযুক্ত কার্তুজ (খ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (গ) নীলচাষ (ঘ) বিধবা বিবাহ আইন
সঠিক উত্তর: (ক) এনফিল্ড রাইফেলের চর্বিযুক্ত কার্তুজ
প্রশ্ন ৩৭ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে দিল্লিতে কাকে সম্রাট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়?

(ক) বাহাদুর শাহ দ্বিতীয় (খ) নানাসাহেব (গ) তাতিয়া টোপে (ঘ) কুনওয়ার সিং
সঠিক উত্তর: (ক) বাহাদুর শাহ দ্বিতীয়
প্রশ্ন ৩৮ 🟢 Practice

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার কার হাতে যায়?

(ক) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (খ) ব্রিটিশ ক্রাউন (গ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (ঘ) দেশীয় রাজারা
সঠিক উত্তর: (খ) ব্রিটিশ ক্রাউন
অধ্যায় ৪

সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

প্রশ্ন ৩৯–৫০

প্রশ্ন ৩৯ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতসভা প্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?

(ক) ১৮৭৬ (খ) ১৮৮৫ (গ) ১৮৭০ (ঘ) ১৮৯০
সঠিক উত্তর: (ক) ১৮৭৬
প্রশ্ন ৪০ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতসভা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

(ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসু (খ) রামমোহন ও বিদ্যাসাগর (গ) গান্ধি ও নেহরু (ঘ) তিলক ও গোখলে
সঠিক উত্তর: (ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসু
প্রশ্ন ৪১ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?

(ক) ১৮৭৬ (খ) ১৮৮৫ (গ) ১৯০৫ (ঘ) ১৯১১
সঠিক উত্তর: (খ) ১৮৮৫
প্রশ্ন ৪২ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?

(ক) এ. ও. হিউম (খ) উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (গ) দাদাভাই নওরোজি (ঘ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (খ) উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রশ্ন ৪৩ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

(ক) কলকাতা (খ) বোম্বাই (গ) মাদ্রাজ (ঘ) দিল্লি
সঠিক উত্তর: (খ) বোম্বাই
প্রশ্ন ৪৪ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

(ক) এ. ও. হিউম (খ) বিরসা মুন্ডা (গ) তিতুমির (ঘ) বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর: (ক) এ. ও. হিউম
প্রশ্ন ৪৫ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা হয় কোন সালে?

(ক) ১৯০৩ (খ) ১৯০৫ (গ) ১৯০৬ (ঘ) ১৯১১
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯০৫
প্রশ্ন ৪৬ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে কোন আন্দোলন জোরদার হয়?

(ক) স্বদেশি আন্দোলন (খ) তেভাগা আন্দোলন (গ) নকশাল আন্দোলন (ঘ) চম্পারণ আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (ক) স্বদেশি আন্দোলন
প্রশ্ন ৪৭ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

স্বদেশি আন্দোলনের একটি প্রধান কর্মসূচি কী ছিল?

(ক) বিদেশি পণ্য বর্জন (খ) ব্রিটিশ পণ্য প্রচার (গ) জমিদারি সম্প্রসারণ (ঘ) সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর: (ক) বিদেশি পণ্য বর্জন
প্রশ্ন ৪৮ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কোন সালে?

(ক) ১৯০৯ (খ) ১৯১১ (গ) ১৯১৯ (ঘ) ১৯২১
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯১১
প্রশ্ন ৪৯ 🟢 Practice

স্বদেশি আন্দোলনের সময় জাতীয় শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্য কী ছিল?

(ক) জাতীয় চেতনা বৃদ্ধি (খ) বিদেশি শাসন শক্তিশালী করা (গ) কৃষি বন্ধ করা (ঘ) শিল্প ধ্বংস করা
সঠিক উত্তর: (ক) জাতীয় চেতনা বৃদ্ধি
প্রশ্ন ৫০ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

‘বন্দেমাতরম্’ গানটি কোন উপন্যাস থেকে নেওয়া?

(ক) আনন্দমঠ (খ) দুর্গেশনন্দিনী (গ) কপালকুণ্ডলা (ঘ) কৃষ্ণচরিত্র
সঠিক উত্তর: (ক) আনন্দমঠ
অধ্যায় ৫

বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

প্রশ্ন ৫১–৬২

প্রশ্ন ৫১ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ব্রাহ্মসমাজের বিভাজনের সঙ্গে কোন ব্যক্তির নাম যুক্ত?

(ক) কেশবচন্দ্র সেন (খ) তিতুমির (গ) বিদ্যাসাগর (ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর: (ক) কেশবচন্দ্র সেন
প্রশ্ন ৫২ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

‘সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?

(ক) ১৮৬৬ (খ) ১৮৭৮ (গ) ১৮৮৫ (ঘ) ১৮৯০
সঠিক উত্তর: (খ) ১৮৭৮
প্রশ্ন ৫৩ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

আর্যসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন কে?

(ক) স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী (খ) স্বামী বিবেকানন্দ (গ) রাজা রামমোহন রায় (ঘ) কেশবচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর: (ক) স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী
প্রশ্ন ৫৪ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন কে?

(ক) স্বামী বিবেকানন্দ (খ) দয়ানন্দ সরস্বতী (গ) কেশবচন্দ্র সেন (ঘ) বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর: (ক) স্বামী বিবেকানন্দ
প্রশ্ন ৫৫ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য কী?

(ক) মানবসেবা ও আধ্যাত্মিক উন্নতি (খ) সামরিক প্রশিক্ষণ (গ) উপনিবেশ বিস্তার (ঘ) জমিদারি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর: (ক) মানবসেবা ও আধ্যাত্মিক উন্নতি
প্রশ্ন ৫৬ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

‘বিবেকানন্দের বাণী’র অন্যতম মূল ভাব কী?

(ক) মানবসেবা (খ) সাম্রাজ্যবাদ (গ) জাতিগত বিভাজন (ঘ) উপনিবেশ বিস্তার
সঠিক উত্তর: (ক) মানবসেবা
প্রশ্ন ৫৭ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

থিওসফিক্যাল সোসাইটির সঙ্গে কোন ব্যক্তির নাম ভারতীয় প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে যুক্ত?

(ক) অ্যানি বেসান্ত (খ) সরোজিনী নাইডু (গ) কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় (ঘ) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
সঠিক উত্তর: (ক) অ্যানি বেসান্ত
প্রশ্ন ৫৮ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

ভারতে জাতীয়তাবাদী চেতনা গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা কী ছিল?

(ক) রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি (খ) কেবল বিনোদন (গ) কৃষিকাজ বন্ধ করা (ঘ) ব্রিটিশ শাসন প্রচার করা
সঠিক উত্তর: (ক) রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি
প্রশ্ন ৫৯ 🟢 Practice

‘ডন সোসাইটি’ মূলত কোন ক্ষেত্রে জাতীয় চেতনা গড়ে তুলতে কাজ করেছিল?

(ক) শিক্ষা ও সংস্কৃতি (খ) সামরিক যুদ্ধ (গ) কৃষি উৎপাদন (ঘ) বাণিজ্যিক কর আদায়
সঠিক উত্তর: (ক) শিক্ষা ও সংস্কৃতি
প্রশ্ন ৬০ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

‘ভারতমাতা’ চিত্রটির সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

(ক) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) নন্দলাল বসু (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: (ক) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রশ্ন ৬১ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

স্বদেশি যুগে দেশীয় শিল্পের প্রসারের উদ্দেশ্য কী ছিল?

(ক) অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা (খ) বিদেশি শিল্প বাড়ানো (গ) কৃষি ধ্বংস করা (ঘ) আমদানি বাড়ানো
সঠিক উত্তর: (ক) অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা
প্রশ্ন ৬২ 🟢 Practice

জাতীয় শিক্ষার মূল লক্ষ্য কী ছিল?

(ক) জাতীয় চেতনা ও স্বদেশপ্রেম গড়ে তোলা (খ) বিদেশি সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া (গ) কেবল চাকরির প্রশিক্ষণ (ঘ) সামরিক শাসন চালু করা
সঠিক উত্তর: (ক) জাতীয় চেতনা ও স্বদেশপ্রেম গড়ে তোলা
অধ্যায় ৬

কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন

প্রশ্ন ৬৩–৭৫

প্রশ্ন ৬৩ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

চম্পারণ সত্যাগ্রহের সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

(ক) মহাত্মা গান্ধি (খ) সুভাষচন্দ্র বসু (গ) ভগৎ সিং (ঘ) সর্দার প্যাটেল
সঠিক উত্তর: (ক) মহাত্মা গান্ধি
প্রশ্ন ৬৪ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

চম্পারণ আন্দোলনের মূল সমস্যা কী ছিল?

(ক) নীলচাষিদের সমস্যা (খ) শ্রমিকদের মজুরি (গ) বন আইন (ঘ) ছাত্রদের দাবি
সঠিক উত্তর: (ক) নীলচাষিদের সমস্যা
প্রশ্ন ৬৫ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

আওধের কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে কোন নেতার নাম বিশেষভাবে যুক্ত?

(ক) বাবা রামচন্দ্র (খ) বিরসা মুন্ডা (গ) সিধু (ঘ) তিতুমির
সঠিক উত্তর: (ক) বাবা রামচন্দ্র
প্রশ্ন ৬৬ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

তেভাগা আন্দোলন মূলত কোন শ্রেণির সঙ্গে যুক্ত?

(ক) বর্গাদার কৃষক (খ) শিল্পপতি (গ) জমিদার (ঘ) সরকারি কর্মচারী
সঠিক উত্তর: (ক) বর্গাদার কৃষক
প্রশ্ন ৬৭ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

তেভাগা আন্দোলনের প্রধান দাবি কী ছিল?

(ক) ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ বর্গাদারের (খ) পুরো ফসল জমিদারের (গ) কর দ্বিগুণ করা (ঘ) জমি বাজেয়াপ্ত করা
সঠিক উত্তর: (ক) ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ বর্গাদারের
প্রশ্ন ৬৮ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

তেভাগা আন্দোলন প্রধানত কোন অঞ্চলে বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়েছিল?

(ক) বাংলায় (খ) পাঞ্জাবে (গ) গুজরাটে (ঘ) কেরলে
সঠিক উত্তর: (ক) বাংলায়
প্রশ্ন ৬৯ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

তেলেঙ্গানা আন্দোলন প্রধানত কোন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল?

(ক) কৃষকের জমি ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণ (খ) নীলচাষ (গ) ছাত্র আন্দোলন (ঘ) নারীশিক্ষা
সঠিক উত্তর: (ক) কৃষকের জমি ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণ
প্রশ্ন ৭০ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের বিকাশের সঙ্গে কোন সংগঠনের নাম যুক্ত?

(ক) AITUC (খ) ব্রাহ্মসমাজ (গ) ভারতসভা (ঘ) আর্যসমাজ
সঠিক উত্তর: (ক) AITUC
প্রশ্ন ৭১ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

AITUC প্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?

(ক) ১৯১৯ (খ) ১৯২০ (গ) ১৯২৫ (ঘ) ১৯৩০
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯২০
প্রশ্ন ৭২ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে কোন সালটি যুক্ত?

(ক) ১৯১৯ (খ) ১৯২০ (গ) ১৯২৫ (ঘ) ১৯৩৫
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯২৫
প্রশ্ন ৭৩ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি কী ছিল?

(ক) মজুরি ও কাজের পরিবেশের উন্নতি (খ) জমিদারি বৃদ্ধি (গ) বিদেশি পণ্যের প্রচার (ঘ) কৃষি কর বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর: (ক) মজুরি ও কাজের পরিবেশের উন্নতি
প্রশ্ন ৭৪ 🟢 Practice

কিষান সভাগুলির প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?

(ক) কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা (খ) শিল্পপতিদের স্বার্থ রক্ষা (গ) ব্রিটিশ বাণিজ্য বৃদ্ধি (ঘ) সামরিক প্রশিক্ষণ
সঠিক উত্তর: (ক) কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা
প্রশ্ন ৭৫ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী?

(ক) শোষণের বিরুদ্ধে সংগঠিত দাবি (খ) রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা (গ) বিদেশি পণ্য প্রচার (ঘ) সাম্রাজ্য বিস্তার
সঠিক উত্তর: (ক) শোষণের বিরুদ্ধে সংগঠিত দাবি
অধ্যায় ৭

নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন

প্রশ্ন ৭৬–৮৮

প্রশ্ন ৭৬ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসকদের অন্যতম কে ছিলেন?

(ক) কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় (খ) সরোজিনী নাইডু (গ) সরলাদেবী (ঘ) প্রীতিলতা
সঠিক উত্তর: (ক) কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়
প্রশ্ন ৭৭ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

সরোজিনী নাইডু কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

(ক) জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (খ) সাঁওতাল বিদ্রোহ (গ) নীল বিদ্রোহ (ঘ) তেভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (ক) জাতীয়তাবাদী আন্দোলন
প্রশ্ন ৭৮ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক কী?

(ক) রাজনৈতিক সচেতনতা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণ (খ) কেবল পড়াশোনা (গ) কেবল খেলাধুলা (ঘ) প্রশাসনিক চাকরি
সঠিক উত্তর: (ক) রাজনৈতিক সচেতনতা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণ
প্রশ্ন ৭৯ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কোন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত?

(ক) পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ (খ) চম্পারণ সত্যাগ্রহ (গ) তেভাগা আন্দোলন (ঘ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: (ক) পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ
প্রশ্ন ৮০ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

‘দীপালি সংঘ’-এর সঙ্গে কোন ক্ষেত্রটি যুক্ত?

(ক) নারী সংগঠন ও আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ (খ) কৃষক কর আদায় (গ) শ্রমিক মজুরি (ঘ) ব্রিটিশ প্রশাসন
সঠিক উত্তর: (ক) নারী সংগঠন ও আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ
প্রশ্ন ৮১ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

‘নারী ইতিহাস’ চর্চায় কী গুরুত্ব পায়?

(ক) নারীর অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা (খ) শুধু যুদ্ধ (গ) শুধু রাজনীতি (ঘ) শুধু অর্থনীতি
সঠিক উত্তর: (ক) নারীর অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা
প্রশ্ন ৮২ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

মাতঙ্গিনী হাজরা কোন আন্দোলনের সময় শহিদ হন?

(ক) ভারত ছাড়ো আন্দোলন (খ) অসহযোগ আন্দোলন (গ) স্বদেশি আন্দোলন (ঘ) নীল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: (ক) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
প্রশ্ন ৮৩ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

মাতঙ্গিনী হাজরার সঙ্গে কোন স্থানটি বিশেষভাবে যুক্ত?

(ক) তমলুক (খ) বারাসাত (গ) মুর্শিদাবাদ (ঘ) দার্জিলিং
সঠিক উত্তর: (ক) তমলুক
প্রশ্ন ৮৪ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ কোন আন্দোলনের সময় গঠিত হয়?

(ক) ভারত ছাড়ো আন্দোলন (খ) স্বদেশি আন্দোলন (গ) অসহযোগ আন্দোলন (ঘ) আইন অমান্য আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (ক) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
প্রশ্ন ৮৫ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

‘নমশূদ্র’ আন্দোলনের সঙ্গে কোন বিষয়টি বিশেষভাবে যুক্ত?

(ক) সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার (খ) নীলচাষ (গ) শ্রমিক মজুরি (ঘ) পাশ্চাত্য শিক্ষা
সঠিক উত্তর: (ক) সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার
প্রশ্ন ৮৬ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলনের মূল লক্ষ্যগুলির একটি কী?

(ক) সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার (খ) উপনিবেশ বিস্তার (গ) সামরিক আধিপত্য (ঘ) জমিদারি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর: (ক) সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার
প্রশ্ন ৮৭ 🟢 Practice

ছাত্র আন্দোলন ইতিহাসচর্চায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

(ক) তরুণদের রাজনৈতিক ভূমিকা বোঝা যায় (খ) শুধু অর্থনীতি বোঝা যায় (গ) শুধু কৃষি বোঝা যায় (ঘ) শুধু রাজাদের ইতিহাস জানা যায়
সঠিক উত্তর: (ক) তরুণদের রাজনৈতিক ভূমিকা বোঝা যায়
প্রশ্ন ৮৮ 🟢 Practice

নারীদের জাতীয় আন্দোলনে অংশগ্রহণের একটি ফল কী ছিল?

(ক) রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি (খ) আন্দোলন সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া (গ) শিক্ষার অবসান (ঘ) কৃষি উৎপাদন বন্ধ হওয়া
সঠিক উত্তর: (ক) রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
অধ্যায় ৮

উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত

প্রশ্ন ৮৯–১০০

প্রশ্ন ৮৯ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারত স্বাধীনতা লাভ করে কোন সালে?

(ক) ১৯৪৫ (খ) ১৯৪৬ (গ) ১৯৪৭ (ঘ) ১৯৫০
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯৪৭
প্রশ্ন ৯০ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় কবে?

(ক) ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ (খ) ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ (গ) ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ (ঘ) ১৫ আগস্ট ১৯৫০
সঠিক উত্তর: (গ) ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০
প্রশ্ন ৯১ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে?

(ক) সর্দার প্যাটেল (খ) জওহরলাল নেহরু (গ) রাজেন্দ্র প্রসাদ (ঘ) লালবাহাদুর শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর: (খ) জওহরলাল নেহরু
প্রশ্ন ৯২ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?

(ক) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (খ) জওহরলাল নেহরু (গ) ড. বি. আর. আম্বেদকর (ঘ) সর্দার প্যাটেল
সঠিক উত্তর: (ক) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
প্রশ্ন ৯৩ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কোন ভিত্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল?

(ক) ভাষা (খ) ধর্ম (গ) বর্ণ (ঘ) সামরিক শক্তি
সঠিক উত্তর: (ক) ভাষা
প্রশ্ন ৯৪ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

রাজ্য পুনর্গঠন আইন কার্যকর হয় কোন সালে?

(ক) ১৯৫০ (খ) ১৯৫৩ (গ) ১৯৫৬ (ঘ) ১৯৬০
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯৫৬
প্রশ্ন ৯৫ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কবে?

(ক) ১৯৪৭–৪৮ (খ) ১৯৫১–৫২ (গ) ১৯৫৫–৫৬ (ঘ) ১৯৬০–৬১
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৫১–৫২
প্রশ্ন ৯৬ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কোন দল কেন্দ্রীয় স্তরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়?

(ক) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (খ) কমিউনিস্ট পার্টি (গ) জনসংঘ (ঘ) সমাজবাদী দল
সঠিক উত্তর: (ক) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
প্রশ্ন ৯৭ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যগুলির একটি কী?

(ক) পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন (খ) উপনিবেশ স্থাপন (গ) সামরিক শাসন (ঘ) বিদেশি শাসন ফিরিয়ে আনা
সঠিক উত্তর: (ক) পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন
প্রশ্ন ৯৮ 🟠 গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়কাল কোনটি?

(ক) ১৯৪৭–১৯৫২ (খ) ১৯৫১–১৯৫৬ (গ) ১৯৫৬–১৯৬১ (ঘ) ১৯৬১–১৯৬৬
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৫১–১৯৫৬
প্রশ্ন ৯৯ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘জোট নিরপেক্ষতা’-র সঙ্গে কার নাম বিশেষভাবে যুক্ত?

(ক) জওহরলাল নেহরু (খ) সর্দার প্যাটেল (গ) রাজেন্দ্র প্রসাদ (ঘ) লালবাহাদুর শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর: (ক) জওহরলাল নেহরু
প্রশ্ন ১০০ 🔴 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভারতীয় সংবিধানের খসড়া কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?

(ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর (খ) জওহরলাল নেহরু (গ) রাজেন্দ্র প্রসাদ (ঘ) সর্দার প্যাটেল
সঠিক উত্তর: (ক) ড. বি. আর. আম্বেদকর
Part 1 Complete

১০০টি MCQ শেষ। এবার ভুল হওয়া প্রশ্নগুলো আবার দেখে তারপর Part 2-এর Very Short Answer practice শুরু করো।

PART 02 • 1 MARK PRACTICE

মাধ্যমিক ২০২৭ ইতিহাস — ১০০টি SAQ

১ নম্বরের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উপর সম্পূর্ণ Practice Set। ২০২৬-এর প্রশ্নের ধরন অনুসরণ করে নতুনভাবে সাজানো।

১০০ প্রশ্ন ৫ ধরনের প্রশ্ন উত্তরসহ ১ নম্বর
গুরুত্বপূর্ণ: ২০২৬-এর প্রশ্নপত্রে Section B-তে এক বাক্যে উত্তর, ঠিক/ভুল, matching, শূন্যস্থান/বিকল্প এবং statement–explanation ধরনের প্রশ্ন ছিল। তাই Part 2-তেও একই ধরনের practice রাখা হয়েছে।
SECTION A

এক বাক্যে উত্তর দাও

প্রশ্ন ১–৩০

01

‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?

উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
02

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মসমাজে যোগদান করেন?

উত্তর: ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে।
03

মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা কবে শুরু হয়?

উত্তর: ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে।
04

মতুয়া ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর।
05

‘জীবনের ঝরাপাতা’ কার আত্মজীবনী?

উত্তর: সরলাদেবী চৌধুরানীর আত্মজীবনী।
06

ভারতীয় ইতিহাসে ‘দলিত’ বলতে কাদের বোঝানো হয়?

উত্তর: ঐতিহাসিকভাবে সামাজিক বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার নিম্নবর্ণের জনগোষ্ঠীকে দলিত বলা হয়।
07

ভারতভুক্তি দলিল কী?

উত্তর: দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্বাক্ষরিত দলিলকে ভারতভুক্তি দলিল বলা হয়।
08

রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কবে গঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে।
09

সাঁওতাল বিদ্রোহের অন্যতম নেতা কে ছিলেন?

উত্তর: সিধু মুর্মু।
10

তিতুমিরের প্রকৃত নাম কী?

উত্তর: মীর নিসার আলি।
11

নীলদর্পণ নাটকের রচয়িতা কে?

উত্তর: দীনবন্ধু মিত্র।
12

ব্রাহ্মসভা কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: রাজা রামমোহন রায়।
13

ভারতসভা কোন সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে।
14

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
15

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন কোথায় হয়?

উত্তর: বোম্বাইয়ে।
16

বঙ্গভঙ্গ হয় কোন সালে?

উত্তর: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে।
17

বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কোন সালে?

উত্তর: ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে।
18

‘ভারতমাতা’ চিত্রটির শিল্পী কে?

উত্তর: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
19

AITUC-এর প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: লালা লাজপত রায়।
20

তেভাগা আন্দোলনের প্রধান দাবি কী ছিল?

উত্তর: বর্গাদারদের ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ পাওয়ার দাবি ছিল।
21

তেভাগা আন্দোলন প্রধানত কোন অঞ্চলে সংঘটিত হয়?

উত্তর: অবিভক্ত বাংলায়।
22

চম্পারণ সত্যাগ্রহের সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধির নাম যুক্ত।
23

বাবা রামচন্দ্র কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

উত্তর: আওধের কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে।
24

মাতঙ্গিনী হাজরা কোন আন্দোলনে শহিদ হন?

উত্তর: ভারত ছাড়ো আন্দোলনে।
25

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কোন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত?

উত্তর: পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের সঙ্গে।
26

মতুয়া আন্দোলনের সঙ্গে কোন ব্যক্তির নাম যুক্ত?

উত্তর: শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের নাম যুক্ত।
27

ভারত স্বাধীন হয় কোন সালে?

উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে।
28

ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় কবে?

উত্তর: ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০।
29

ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন কোন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৫১–৫২ সালে।
30

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর: জওহরলাল নেহরু।
SECTION B

ঠিক না ভুল নির্ণয় করো

প্রশ্ন ৩১–৫০

31

রাজা রামমোহন রায় ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন।

✓ ঠিক
32

হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে পাশ হয়।

✓ ঠিক
33

ডিরোজিও সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক ছিলেন।

✕ ভুল সঠিক: তিনি হিন্দু কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
34

সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন সিধু ও কানহু।

✓ ঠিক
35

নীলদর্পণ নাটকটি দীনবন্ধু মিত্র রচনা করেন।

✓ ঠিক
36

ভারতসভা ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।

✕ ভুল সঠিক: ভারতসভা ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।
37

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বোম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

✓ ঠিক
38

বঙ্গভঙ্গ ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ঘোষণা করা হয়।

✕ ভুল সঠিক: বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে কার্যকর হয়।
39

বঙ্গভঙ্গ রদ হয় ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে।

✓ ঠিক
40

ভারতমাতা চিত্রটি নন্দলাল বসুর আঁকা।

✕ ভুল সঠিক: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
41

AITUC-এর প্রথম সভাপতি ছিলেন লালা লাজপত রায়।

✓ ঠিক
42

তেভাগা আন্দোলনের দাবি ছিল ফসলের অর্ধেক বর্গাদারের পাওয়া।

✕ ভুল সঠিক: বর্গাদারের দুই-তৃতীয়াংশ ফসলের দাবি ছিল।
43

চম্পারণ সত্যাগ্রহ ছিল নীলচাষিদের সমস্যাকে কেন্দ্র করে।

✓ ঠিক
44

মাতঙ্গিনী হাজরা স্বদেশি আন্দোলনে শহিদ হন।

✕ ভুল সঠিক: ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শহিদ হন।
45

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

✓ ঠিক
46

ভারত স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে।

✕ ভুল সঠিক: ভারত স্বাধীন হয় ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে।
47

ভারতের সংবিধান ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ থেকে কার্যকর হয়।

✓ ঠিক
48

ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন জওহরলাল নেহরু।

✕ ভুল সঠিক: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।
49

রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়।

✓ ঠিক
50

ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন ১৯৫১–৫২ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

✓ ঠিক
SECTION C

শূন্যস্থান পূরণ করো

প্রশ্ন ৫১–৭০

51
‘জীবনের ঝরাপাতা’ গ্রন্থের লেখক __________।
উত্তর: সরলাদেবী চৌধুরানী
52
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৮৫৭
53
ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠিত হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৮২৮
54
হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৮৫৬
55
সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৮৫৫
56
তিতুমিরের প্রকৃত নাম __________।
উত্তর: মীর নিসার আলি
57
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি __________ রচনা করেন।
উত্তর: দীনবন্ধু মিত্র
58
ভারতসভা প্রতিষ্ঠিত হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৮৭৬
59
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৮৮৫
60
বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৯০৫
61
বঙ্গভঙ্গ রদ হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৯১১
62
‘ভারতমাতা’ চিত্রটি __________ ঠাকুরের আঁকা।
উত্তর: অবনীন্দ্রনাথ
63
AITUC প্রতিষ্ঠিত হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৯২০
64
তেভাগা আন্দোলনের দাবি ছিল ফসলের __________ অংশ।
উত্তর: দুই-তৃতীয়াংশ
65
চম্পারণ সত্যাগ্রহ __________ সালের আন্দোলন।
উত্তর: ১৯১৭
66
মাতঙ্গিনী হাজরা __________ আন্দোলনে শহিদ হন।
উত্তর: ভারত ছাড়ো
67
ভারত স্বাধীন হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৯৪৭
68
ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় __________ সালে।
উত্তর: ১৯৫০
69
রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: ১৯৫৩
70
ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় __________ সালে।
উত্তর: ১৯৫১–৫২
SECTION D

‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও

প্রশ্ন ৭১–৮৫

71
‘ক’ স্তম্ভ ক. রাজা রামমোহন রায় খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গ. ডিরোজিও ঘ. দয়ানন্দ সরস্বতী
‘খ’ স্তম্ভ ১. আর্যসমাজ ২. সতীদাহ বিরোধী আন্দোলন ৩. বিধবা পুনর্বিবাহ ৪. ইয়ং বেঙ্গল
উত্তর: ক–২, খ–৩, গ–৪, ঘ–১
72
‘ক’ স্তম্ভ ক. সিধু খ. তিতুমির গ. বিরসা মুন্ডা ঘ. দীনবন্ধু মিত্র
‘খ’ স্তম্ভ ১. নীলদর্পণ ২. মুন্ডা বিদ্রোহ ৩. সাঁওতাল বিদ্রোহ ৪. বারাসাতের বাঁশের কেল্লা
উত্তর: ক–৩, খ–৪, গ–২, ঘ–১
73
‘ক’ স্তম্ভ ক. ভারতসভা খ. কংগ্রেস গ. স্বদেশি আন্দোলন ঘ. বঙ্গভঙ্গ রদ
‘খ’ স্তম্ভ ১. ১৯১১ ২. ১৮৭৬ ৩. ১৮৮৫ ৪. ১৯০৫
উত্তর: ক–২, খ–৩, গ–৪, ঘ–১
74
‘ক’ স্তম্ভ ক. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর খ. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী গ. জগদীশচন্দ্র বসু ঘ. প্রফুল্লচন্দ্র রায়
‘খ’ স্তম্ভ ১. বসুবিজ্ঞান মন্দির ২. বেঙ্গল কেমিক্যাল ৩. ভারতমাতা ৪. হাফটোন মুদ্রণ
উত্তর: ক–৩, খ–৪, গ–১, ঘ–২
75
‘ক’ স্তম্ভ ক. লালা লাজপত রায় খ. বাবা রামচন্দ্র গ. বল্লভভাই প্যাটেল ঘ. মাতঙ্গিনী হাজরা
‘খ’ স্তম্ভ ১. ভারত ছাড়ো আন্দোলন ২. বারদৌলি সত্যাগ্রহ ৩. আওধ কৃষক আন্দোলন ৪. AITUC
উত্তর: ক–৪, খ–৩, গ–২, ঘ–১
76
‘ক’ স্তম্ভ ক. তেভাগা খ. চম্পারণ গ. তেলেঙ্গানা ঘ. বারদৌলি
‘খ’ স্তম্ভ ১. নীলচাষি ২. বর্গাদার ৩. কৃষক ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণ ৪. গুজরাট
উত্তর: ক–২, খ–১, গ–৩, ঘ–৪
77
‘ক’ স্তম্ভ ক. প্রীতিলতা খ. কনকলতা বড়ুয়া গ. দু-কড়ি বালা ঘ. সরোজিনী নাইডু
‘খ’ স্তম্ভ ১. ভারত ছাড়ো আন্দোলন ২. বিপ্লবী আন্দোলন ৩. পাহাড়তলী আক্রমণ ৪. জাতীয়তাবাদী আন্দোলন
উত্তর: ক–৩, খ–১, গ–২, ঘ–৪
78
‘ক’ স্তম্ভ ক. হরিচাঁদ ঠাকুর খ. বি. আর. আম্বেদকর গ. গান্ধি ঘ. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন
‘খ’ স্তম্ভ ১. দলিত আন্দোলন ২. মতুয়া ৩. ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠন ৪. হরিজন
উত্তর: ক–২, খ–১, গ–৪, ঘ–৩
79
‘ক’ স্তম্ভ ক. নেহরু খ. রাজেন্দ্র প্রসাদ গ. বি. আর. আম্বেদকর ঘ. সর্দার প্যাটেল
‘খ’ স্তম্ভ ১. প্রথম রাষ্ট্রপতি ২. দেশীয় রাজ্য সংযুক্তি ৩. খসড়া কমিটির সভাপতি ৪. প্রথম প্রধানমন্ত্রী
উত্তর: ক–৪, খ–১, গ–৩, ঘ–২
80
‘ক’ স্তম্ভ ক. ১৮২৮ খ. ১৮৫৬ গ. ১৮৭৬ ঘ. ১৮৮৫
‘খ’ স্তম্ভ ১. ভারতসভা ২. কংগ্রেস ৩. ব্রাহ্মসভা ৪. বিধবা পুনর্বিবাহ আইন
উত্তর: ক–৩, খ–৪, গ–১, ঘ–২
81
‘ক’ স্তম্ভ ক. ১৯০৫ খ. ১৯১১ গ. ১৯২০ ঘ. ১৯৪৭
‘খ’ স্তম্ভ ১. স্বাধীনতা ২. বঙ্গভঙ্গ ৩. বঙ্গভঙ্গ রদ ৪. AITUC
উত্তর: ক–২, খ–৩, গ–৪, ঘ–১
82
‘ক’ স্তম্ভ ক. নীল বিদ্রোহ খ. সাঁওতাল বিদ্রোহ গ. মুন্ডা বিদ্রোহ ঘ. ১৮৫৭
‘খ’ স্তম্ভ ১. বিরসা মুন্ডা ২. নীলচাষি ৩. সিধু-কানহু ৪. বাহাদুর শাহ দ্বিতীয়
উত্তর: ক–২, খ–৩, গ–১, ঘ–৪
83
‘ক’ স্তম্ভ ক. বেথুন খ. ডেভিড হেয়ার গ. বিদ্যাসাগর ঘ. ডিরোজিও
‘খ’ স্তম্ভ ১. বিধবা পুনর্বিবাহ ২. পাশ্চাত্য শিক্ষা ৩. নারীশিক্ষা ৪. ইয়ং বেঙ্গল
উত্তর: ক–৩, খ–২, গ–১, ঘ–৪
84
‘ক’ স্তম্ভ ক. গান্ধি খ. নেহরু গ. প্যাটেল ঘ. আম্বেদকর
‘খ’ স্তম্ভ ১. দলিত আন্দোলন ২. দেশীয় রাজ্য সংযুক্তি ৩. চম্পারণ ৪. জোট নিরপেক্ষতা
উত্তর: ক–৩, খ–৪, গ–২, ঘ–১
85
‘ক’ স্তম্ভ ক. তমলুক খ. পাহাড়তলী গ. বারাসাত ঘ. বোম্বাই
‘খ’ স্তম্ভ ১. প্রথম কংগ্রেস অধিবেশন ২. তিতুমির ৩. প্রীতিলতা ৪. মাতঙ্গিনী হাজরা
উত্তর: ক–৪, খ–৩, গ–২, ঘ–১
SECTION E

বিবৃতি ও সঠিক ব্যাখ্যা নির্বাচন করো

প্রশ্ন ৮৬–১০০

86
বিবৃতি: পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে উডের ডেসপ্যাচ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১. তিনি বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি ছিলেন। ২. তিনি ব্রাহ্মসমাজের সভাপতি ছিলেন। ৩. তিনি হিন্দু কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
87
বিবৃতি: অরণ্য আইন প্রবর্তন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
১. ব্রিটিশরা বনসম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চেয়েছিল। ২. তারা বনবাসীদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে চেয়েছিল। ৩. তারা জমিদারি বিলোপ করতে চেয়েছিল।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
88
বিবৃতি: ব্রাহ্মসভা উনিশ শতকের সামাজিক সংস্কার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১. একেশ্বরবাদ ও সামাজিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিল। ২. সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছিল। ৩. কৃষক বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিল।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
89
বিবৃতি: নীল বিদ্রোহ ছিল কৃষকদের প্রতিরোধ আন্দোলন।
১. নীলকরদের জোরপূর্বক নীলচাষের বিরুদ্ধে কৃষকরা প্রতিবাদ করেছিল। ২. এটি ছিল কেবল ছাত্র আন্দোলন। ৩. এটি ছিল শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলন।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
90
বিবৃতি: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে স্বদেশি ও বয়কট গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল।
১. দেশীয় পণ্যের ব্যবহার ও বিদেশি পণ্য বর্জনের মাধ্যমে প্রতিবাদ করা হয়েছিল। ২. বিদেশি পণ্যের প্রচার করা হয়েছিল। ৩. কৃষি উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছিল।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
91
বিবৃতি: তেভাগা আন্দোলন বর্গাদার কৃষকদের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
১. বর্গাদাররা ফসলের অধিক অংশের দাবি করেছিল। ২. জমিদাররা ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ দাবি করেছিল। ৩. এটি ছিল শ্রমিকদের আন্দোলন।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
92
বিবৃতি: চম্পারণ সত্যাগ্রহ গান্ধির রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১. নীলচাষিদের সমস্যাকে কেন্দ্র করে তিনি আন্দোলন করেন। ২. এটি ছিল কেবল শ্রমিক ধর্মঘট। ৩. এটি ছিল ছাত্রদের আন্দোলন।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
93
বিবৃতি: AITUC শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
১. এটি শ্রমিকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ২. এটি কৃষকদের জমি বণ্টন করত। ৩. এটি একটি ধর্মীয় সংগঠন ছিল।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
94
বিবৃতি: নারী আন্দোলন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছিল।
১. বহু নারী সরাসরি বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ২. নারীরা সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন। ৩. নারী আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
95
বিবৃতি: মতুয়া আন্দোলন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক আত্মপরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।
১. হরিচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে নমশূদ্রদের মধ্যে এই আন্দোলনের প্রসার ঘটে। ২. এটি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সংগঠন ছিল। ৩. এটি কেবল শ্রমিক আন্দোলন ছিল।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
96
বিবৃতি: ভারতভুক্তি দলিল দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১. দেশীয় রাজ্যের শাসকরা এর মাধ্যমে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। ২. এটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নির্বাচন সংক্রান্ত দলিল ছিল। ৩. এটি কৃষক আন্দোলনের ঘোষণাপত্র ছিল।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
97
বিবৃতি: রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
১. ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি বিবেচনা করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। ২. এটি ভারতীয় সেনাবাহিনী গঠন করেছিল। ৩. এটি কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করেছিল।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
98
বিবৃতি: ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দেশীয় রাজ্যগুলির সংযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল।
১. একটি ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় রাষ্ট্র গঠনের জন্য দেশীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করা দরকার ছিল। ২. স্বাধীনতার পরে সব দেশীয় রাজ্যকে স্বাধীন দেশ করা হয়েছিল। ৩. এই কাজের সঙ্গে প্রশাসনের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
99
বিবৃতি: স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১. সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার বাস্তবভাবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। ২. নির্বাচনে শুধু জমিদাররা ভোট দিতে পারতেন। ৩. নির্বাচন শুধুমাত্র ব্রিটিশ সরকারের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
100
বিবৃতি: ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ভারত প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।
১. ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ থেকে সংবিধান কার্যকর হয়। ২. ভারত ১৫ আগস্ট ১৯৫০-এ স্বাধীন হয়। ৩. সংবিধান কার্যকর হওয়ার সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতার তারিখ পরিবর্তিত হয়।
উত্তর: ১ নম্বর ব্যাখ্যা সঠিক।
✓ PART 02 COMPLETE

১০০টি ১ নম্বরের প্রশ্ন শেষ

এক বাক্যে উত্তর, ঠিক–ভুল, শূন্যস্থান, matching এবং statement–explanation—সব ধরনের practice সম্পন্ন।

PART 03 • 3 MARK PRACTICE

মাধ্যমিক ২০২৭ ইতিহাস — ২ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণধর্মী ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের Practice Set।

৩০টি প্রশ্ন ৩ নম্বর উত্তরসহ Chapter-wise Coverage
পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: এই অংশটি ২ নম্বরের উত্তর লেখার practice-এর জন্য তৈরি। ২০২৬ সালের WBBSE ইতিহাস প্রশ্নপত্রে আলাদা ৩ নম্বরের বিভাগ ছিল না। তাই এগুলিকে বোর্ডের নির্দিষ্ট ৩ নম্বরের প্রশ্ন হিসেবে নয়, বরং ৩ নম্বরের উত্তর লেখার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করো।
01
অধ্যায় ১ • ইতিহাসের ধারণা

আধুনিক ভারতীয় ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সরকারি নথিপত্রের সীমাবদ্ধতাগুলি কী?

উত্তর:

সরকারি নথিপত্র মূলত শাসক ও প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি হয়। তাই সাধারণ মানুষের জীবন, অনুভূতি ও প্রতিবাদের সব দিক এতে পাওয়া যায় না। অনেক সময় প্রশাসনের স্বার্থ ও পক্ষপাত নথিতে প্রতিফলিত হয়। ফলে সরকারি নথি ব্যবহার করার সময় অন্যান্য ঐতিহাসিক উপাদানের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

02
অধ্যায় ১ • ইতিহাসের ধারণা

আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনায় গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর:

আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথায় লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের বিবরণ পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে তৎকালীন সমাজ, রাজনীতি ও ব্যক্তিজীবনের অনেক অজানা তথ্য জানা সম্ভব। তবে ব্যক্তিগত পক্ষপাত থাকতে পারে বলে অন্যান্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে এগুলি ব্যবহার করা উচিত।

03
অধ্যায় ১ • ইতিহাসের ধারণা

সংবাদপত্রকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলা হয় কেন?

উত্তর:

সংবাদপত্র সমকালীন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঘটনাবলির ধারাবাহিক বিবরণ সংরক্ষণ করে। বিভিন্ন আন্দোলন, জনমত ও সমকালীন বিতর্ক সম্পর্কে সংবাদপত্র থেকে তথ্য পাওয়া যায়। তাই আধুনিক ভারতের ইতিহাস পুনর্গঠনে সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

04
অধ্যায় ২ • সংস্কার ও সমাজ

উনিশ শতকের সমাজসংস্কার আন্দোলনে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি একেশ্বরবাদ ও যুক্তিবাদী চিন্তার প্রচার করেন এবং নারীশিক্ষা ও নারীর অধিকারের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তাঁর উদ্যোগে ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

05
অধ্যায় ২ • সংস্কার ও সমাজ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমাজসংস্কারমূলক কাজগুলি কী ছিল?

উত্তর:

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য আন্দোলন করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়। তিনি বাল্যবিবাহ ও কুসংস্কারের বিরোধিতা করেন এবং নারীশিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

06
অধ্যায় ২ • সংস্কার ও সমাজ

ডিরোজিও ও ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যগুলি কী?

উত্তর:

ডিরোজিওর ছাত্ররা যুক্তিবাদ, স্বাধীন চিন্তা ও সামাজিক সংস্কারের পক্ষে মত প্রকাশ করত। তারা প্রচলিত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের সমালোচনা করত। পাশ্চাত্য শিক্ষা ও যুক্তিবাদী চিন্তার প্রভাবে ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী বাংলার নবজাগরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

07
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি কী ছিল?

উত্তর:

মহাজন, জমিদার ও ঔপনিবেশিক প্রশাসনের শোষণ সাঁওতালদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। ঋণের ফাঁদে পড়ে বহু সাঁওতাল তাদের জমি হারায়। পাশাপাশি রাজস্বনীতি ও প্রশাসনিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহের বিস্ফোরণ ঘটে।

08
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

নীল বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।

উত্তর:

নীলকররা কৃষকদের জোর করে নীলচাষ করতে বাধ্য করত। নীলচাষে কৃষকদের লাভ কম হলেও নীলকররা তাদের উপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করত। দাদন ও চুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের নিয়ন্ত্রণ এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকরা সংঘবদ্ধ হয়ে নীল বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে।

09
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

তিতুমিরের আন্দোলনের গুরুত্ব কী?

উত্তর:

তিতুমির জমিদার ও ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেন। তাঁর নেতৃত্বে দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে প্রতিরোধের মনোভাব গড়ে ওঠে। বারাসাত অঞ্চলে তাঁর আন্দোলন ব্রিটিশবিরোধী কৃষক প্রতিরোধের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।

10
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি কী?

উত্তর:

ব্রিটিশদের রাজনৈতিক সম্প্রসারণ ও দেশীয় রাজ্য দখলের নীতি শাসকদের অসন্তুষ্ট করে। অর্থনৈতিক শোষণ ও প্রশাসনিক নীতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ে। সেনাবাহিনীতে কার্তুজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ বিস্ফোরিত হয়ে বৃহৎ বিদ্রোহে পরিণত হয়।

11
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণগুলি কী?

উত্তর:

বিদ্রোহীরা সর্বভারতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারেনি। বিদ্রোহের নেতৃত্ব ও উদ্দেশ্যের মধ্যেও সম্পূর্ণ ঐক্য ছিল না। আধুনিক অস্ত্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সংগঠনের ক্ষেত্রে ব্রিটিশরা বিদ্রোহীদের তুলনায় এগিয়ে ছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হয়।

12
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

ভারতসভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর:

ভারতসভা ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিল। প্রশাসনে ভারতীয়দের অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলাও এর উদ্দেশ্য ছিল। এর মাধ্যমে শিক্ষিত ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় রাজনৈতিক সংগঠনের ধারণা শক্তিশালী হয়।

13
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব কী?

উত্তর:

কংগ্রেস ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য একটি সর্বভারতীয় মঞ্চ তৈরি করে। বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীকালে এই সংগঠন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

14
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলনের কর্মসূচিগুলি কী ছিল?

উত্তর:

স্বদেশি আন্দোলনে বিদেশি পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্য ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়। সভা, মিছিল, প্রচার ও জাতীয় শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে আন্দোলনকে শক্তিশালী করা হয়। অর্থনৈতিক বয়কটের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিবাদ গড়ে তোলা হয়।

15
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে জাতীয় শিক্ষার গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তর:

জাতীয় শিক্ষার মাধ্যমে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা বাড়ানো হয়। দেশীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে স্বদেশি আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।

16
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

উনিশ শতকে বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার বিকাশে জগদীশচন্দ্র বসুর ভূমিকা কী?

উত্তর:

জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ ও প্রাণীর শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণা ভারতীয়দের মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।

17
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের শিল্প ও বিজ্ঞানচর্চায় অবদান কী?

উত্তর:

প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন বিশিষ্ট রসায়নবিদ ও বিজ্ঞানী। তিনি দেশীয় শিল্পের বিকাশে উদ্যোগী হন এবং বেঙ্গল কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কাজ বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি ভারতীয়দের মধ্যে স্বনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার চিন্তাকে উৎসাহিত করে।

18
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

স্বদেশি শিল্প প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা কেন অনুভূত হয়েছিল?

উত্তর:

ব্রিটিশ আমলে বিদেশি পণ্যের উপর ভারতীয় বাজারের নির্ভরতা বেড়ে গিয়েছিল। স্বদেশি আন্দোলনের সময় দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এর ফলে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়।

19
অধ্যায় ৬ • কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন

চম্পারণ সত্যাগ্রহের গুরুত্ব কী?

উত্তর:

চম্পারণে নীলচাষিদের সমস্যাকে কেন্দ্র করে গান্ধি সত্যাগ্রহ পরিচালনা করেন। এর মাধ্যমে কৃষকদের সমস্যাকে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সত্যাগ্রহ ও অহিংস প্রতিরোধের পদ্ধতি ভারতীয় গণআন্দোলনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

20
অধ্যায় ৬ • কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন

তেভাগা আন্দোলনের প্রধান দাবিটি কী ছিল এবং কেন?

উত্তর:

তেভাগা আন্দোলনে বর্গাদাররা উৎপন্ন ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের অধিকার দাবি করে। তাদের যুক্তি ছিল, চাষের প্রধান শ্রম ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বর্গাদারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রচলিত ভাগের পরিবর্তে অধিক ন্যায্য অংশ পাওয়ার দাবি থেকেই তেভাগা আন্দোলন গড়ে ওঠে।

21
অধ্যায় ৬ • কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন

শ্রমিক আন্দোলনের বিকাশে AITUC-এর ভূমিকা কী?

উত্তর:

AITUC শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনকে একটি বৃহত্তর সর্বভারতীয় কাঠামোর মধ্যে আনতে সাহায্য করে। শ্রমিকদের মজুরি, কাজের পরিবেশ ও অধিকার নিয়ে সংগঠিত আন্দোলনের সুযোগ বাড়ে। ফলে ভারতের শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আরও শক্তিশালী হয়।

22
অধ্যায় ৭ • নারী ও ছাত্র আন্দোলন

ভারতের জাতীয় আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব কী?

উত্তর:

জাতীয় আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তিকে বিস্তৃত করে। বহু নারী মিছিল, সত্যাগ্রহ, প্রচার ও বিভিন্ন আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এর ফলে স্বাধীনতা আন্দোলন কেবল পুরুষদের আন্দোলন না থেকে বৃহত্তর গণআন্দোলনে পরিণত হয়।

23
অধ্যায় ৭ • নারী ও ছাত্র আন্দোলন

মাতঙ্গিনী হাজরার ভূমিকা কেন স্মরণীয়?

উত্তর:

মাতঙ্গিনী হাজরা ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪২ সালে তমলুক অঞ্চলে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। তাঁর আত্মত্যাগ বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের সাহসী ভূমিকার প্রতীক হয়ে ওঠে।

24
অধ্যায় ৭ • নারী ও ছাত্র আন্দোলন

বিপ্লবী আন্দোলনে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্বদানকারী বিপ্লবীদের অন্যতম ছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে তাঁর আত্মত্যাগ পরবর্তীকালে বাংলার বিপ্লবী ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

25
অধ্যায় ৭ • নারী ও ছাত্র আন্দোলন

জাতীয় আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর:

ছাত্ররা বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে মিছিল, প্রচার, বয়কট ও আন্দোলন সংগঠিত করার কাজে অংশ নেয়। স্বদেশি আন্দোলন ও পরবর্তী বিভিন্ন গণআন্দোলনে ছাত্রদের সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়। এর ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

26
অধ্যায় ৮ • স্বাধীনতার পরবর্তী ভারত

দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত করা কেন প্রয়োজন ছিল?

উত্তর:

স্বাধীনতার সময় ভারতের বিভিন্ন অংশে বহু দেশীয় রাজ্য ছিল। তাদের পৃথক অবস্থান বজায় থাকলে দেশের রাজনৈতিক ঐক্য ও প্রশাসনিক সংহতি দুর্বল হতে পারত। তাই একটি ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় রাষ্ট্র গঠনের জন্য দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

27
অধ্যায় ৮ • স্বাধীনতার পরবর্তী ভারত

ভারতভুক্তি দলিলের গুরুত্ব কী?

উত্তর:

ভারতভুক্তি দলিলের মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলির শাসকরা ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। এর ফলে দেশীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে ভারতের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পথ তৈরি হয়। স্বাধীনতার পর জাতীয় সংহতি গঠনে এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

28
অধ্যায় ৮ • স্বাধীনতার পরবর্তী ভারত

রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠনের প্রয়োজন কেন দেখা দিয়েছিল?

উত্তর:

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন অঞ্চলে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি জোরালো হয়। প্রশাসনিক সুবিধা ও জনগণের ভাষাগত পরিচয়কে বিবেচনায় নিয়ে রাজ্যগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন দেখা দেয়। এই সমস্যাগুলি বিচার করার জন্য রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয়।

29
অধ্যায় ৮ • স্বাধীনতার পরবর্তী ভারত

ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব কী?

উত্তর:

ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত করে। বিপুল সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ভোটদানের সুযোগ পান। এর মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী হয়।

30
অধ্যায় ৮ • স্বাধীনতার পরবর্তী ভারত

স্বাধীনতার পর ভারতের সামনে প্রধান সমস্যাগুলি কী ছিল?

উত্তর:

স্বাধীনতার পর দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যার মোকাবিলা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দেশীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করার কাজও সামনে আসে।

PART 04 • 4 MARK ANALYTICAL

মাধ্যমিক ২০২৭ ইতিহাস — ৪ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

২০২৬ সালের WBBSE ইতিহাস প্রশ্নপত্রের Analytical Section-এর ধরন অনুসরণ করে ২০২৭ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নির্বাচিত প্রশ্ন।

২০টি প্রশ্ন ৪ নম্বর বিশ্লেষণধর্মী উত্তরসহ
পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: ২০২৬ সালের ইতিহাস পরীক্ষায় ৪ নম্বরের Analytical Section-এ প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত একটি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল। নিচের প্রশ্নগুলি সেই ধরনের উত্তর লেখার প্রস্তুতির জন্য তৈরি। এগুলিকে ২০২৭ সালের নিশ্চিত বা কমন প্রশ্ন হিসেবে ধরা যাবে না।
01
অধ্যায় ২ • সংস্কার ও সমাজ

উনিশ শতকের নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর সমাজসংস্কারের প্রচেষ্টা কেন ব্যাপক সাফল্য লাভ করতে পারেনি?

উত্তর:

নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী যুক্তিবাদ, স্বাধীন চিন্তা এবং সামাজিক সংস্কারের পক্ষে মত প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তাদের আন্দোলন মূলত শহরের শিক্ষিত সীমিত শ্রেণির মধ্যে আবদ্ধ ছিল। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ খুব বেশি ছিল না। তাছাড়া তাদের অনেক বক্তব্য তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়ে। ফলে তাদের চিন্তার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও সমাজের বৃহত্তর অংশে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হয়নি।

02
অধ্যায় ২ • সংস্কার ও সমাজ

উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণকে ‘সীমাবদ্ধ নবজাগরণ’ বলা হয় কেন?

উত্তর:

উনিশ শতকের বাংলায় শিক্ষা, সমাজসংস্কার, সাহিত্য ও বিজ্ঞানচর্চায় নতুন চিন্তার বিকাশ ঘটেছিল। কিন্তু এই পরিবর্তনের প্রধান সুফল শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবর্ণের মানুষের মধ্যেই বেশি সীমাবদ্ধ ছিল। গ্রামীণ দরিদ্র মানুষ ও সমাজের বহু প্রান্তিক গোষ্ঠী এই পরিবর্তনের বাইরে থেকে যায়। তাই এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও সর্বস্তরে সমানভাবে পৌঁছায়নি বলে একে ‘সীমাবদ্ধ নবজাগরণ’ বলা হয়।

03
অধ্যায় ২ • সংস্কার ও সমাজ

ব্রাহ্মসমাজ উনিশ শতকের সমাজসংস্কারে কী ভূমিকা পালন করেছিল?

উত্তর:

ব্রাহ্মসমাজ একেশ্বরবাদ ও যুক্তিবাদী চিন্তার প্রচার করে। এটি সতীদাহ, কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্যের মতো সমস্যার বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সাহায্য করে। নারীশিক্ষা ও নারীর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষেও ব্রাহ্মসমাজের সংস্কারকরা কাজ করেন। ফলে উনিশ শতকের বাংলায় আধুনিক সমাজসংস্কারের পরিবেশ তৈরিতে ব্রাহ্মসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

04
অধ্যায় ২ • সংস্কার ও সমাজ

নারীশিক্ষার প্রসারে ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

বেথুন বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেন। ১৮৪৯ সালে কলকাতায় বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেয়েদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ে। তাঁর উদ্যোগে নারীশিক্ষা নিয়ে সমাজে নতুন আলোচনা শুরু হয়। রক্ষণশীলতার বাধা সত্ত্বেও নারীশিক্ষাকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

05
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

উনিশ শতককে ‘সভা-সমিতির যুগ’ বলা হয় কেন?

উত্তর:

উনিশ শতকে শিক্ষিত ভারতীয়দের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। এই সভা-সমিতিগুলি শিক্ষা, সমাজসংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কার ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবি নিয়ে আলোচনা করত। তারা সভা, আবেদনপত্র ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলত। পরবর্তীকালে এই সংগঠনগুলিই সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করে।

06
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

ভারতসভা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে কী ভূমিকা পালন করেছিল?

উত্তর:

ভারতসভা শিক্ষিত ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। এটি প্রশাসনিক সংস্কার ও ভারতীয়দের রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষে জনমত গড়ে তোলে। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। ফলে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য যে সংগঠনগত পরিবেশ দরকার ছিল, তা তৈরিতে ভারতসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

07
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে স্বদেশি ও বয়কট কর্মসূচির গুরুত্ব কী?

উত্তর:

স্বদেশি আন্দোলনে দেশীয় পণ্য ব্যবহার এবং বিদেশি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হয়। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রতিবাদ রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়। দেশীয় শিল্প ও উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ে। ফলে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন একটি বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ লাভ করে।

08
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে বাংলার ছাত্রসমাজের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর:

বাংলার ছাত্ররা স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। তারা মিছিল, সভা ও প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং বিদেশি পণ্য বর্জনের প্রচার চালায়। অনেক ছাত্র জাতীয় শিক্ষার পক্ষে আন্দোলনেও অংশ নেয়। ফলে তরুণ সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা ও জাতীয়তাবাদী মনোভাব আরও শক্তিশালী হয়।

09
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে ছাপা বইয়ের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

ছাপাখানার প্রসারের ফলে বই তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও বেশি সংখ্যায় প্রকাশ করা সম্ভব হয়। পাঠ্যপুস্তক সহজলভ্য হওয়ায় বিদ্যালয় ও শিক্ষার প্রসার ঘটে। সংবাদপত্র, পত্রিকা ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক গ্রন্থ সাধারণ মানুষের কাছে নতুন জ্ঞান পৌঁছে দেয়। ফলে মুদ্রণশিল্প ও শিক্ষাবিস্তারের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি হয়।

10
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

বাংলা মুদ্রণশিল্পে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বাংলা মুদ্রণশিল্পের প্রযুক্তিগত উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি উন্নত মুদ্রণ প্রযুক্তি ও হাফটোন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন। তাঁর উদ্যোগে বাংলা বই ও ছবির মুদ্রণের মান উন্নত হয়। ফলে বাংলা প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্প আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়।

11
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

স্বদেশি যুগে দেশীয় শিল্প ও উদ্যোগের বিকাশের প্রয়োজন কেন অনুভূত হয়েছিল?

উত্তর:

ব্রিটিশ শাসনে ভারতীয় বাজার বিদেশি পণ্যের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। এর ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বদেশি আন্দোলনের সময় বিদেশি পণ্য বর্জনের পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এর ফলে দেশীয় শিল্প, কারখানা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগকে উৎসাহিত করার পরিবেশ তৈরি হয়।

12
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

নীল বিদ্রোহকে কৃষক প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলা হয় কেন?

উত্তর:

নীলকরদের জোরপূর্বক নীলচাষের বিরুদ্ধে কৃষকরা সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা নীলচাষ করতে অস্বীকার করে এবং বিভিন্নভাবে নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। সংবাদপত্র ও শিক্ষিত সমাজের একাংশও কৃষকদের সমস্যার প্রতি সমর্থন জানায়। ফলে নীল বিদ্রোহ ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।

13
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

সাঁওতাল বিদ্রোহের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল মূলত ঔপনিবেশিক শোষণ ও স্থানীয় শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাঁওতালদের প্রতিরোধ। মহাজন, জমিদার ও প্রশাসনের অত্যাচারে তারা ক্ষুব্ধ হয়েছিল। সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে এই আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। তাই এটি একই সঙ্গে অর্থনৈতিক শোষণ, ভূমি ও সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী প্রতিরোধ।

14
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণগুলি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

মহাবিদ্রোহ সর্বভারতীয়ভাবে একই সময়ে ও একই পরিকল্পনায় পরিচালিত হয়নি। বিদ্রোহীদের মধ্যে ঐক্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব ছিল। আধুনিক অস্ত্র, যোগাযোগ ও সংগঠনের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ বাহিনী অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। ভারতের বহু অঞ্চল ও শাসক বিদ্রোহে যোগ দেয়নি। ফলে ব্রিটিশরা ধীরে ধীরে বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হয়।

15
অধ্যায় ৬ • কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন

চম্পারণ সত্যাগ্রহ ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর:

চম্পারণের নীলচাষিদের সমস্যাকে কেন্দ্র করে গান্ধি সত্যাগ্রহের পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। কৃষকদের স্থানীয় সমস্যাকে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। অহিংস সত্যাগ্রহের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একটি কার্যকর পদ্ধতি সামনে আসে। ফলে ভারতীয় গণআন্দোলনে গান্ধির নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হয়।

16
অধ্যায় ৬ • কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন

তেভাগা আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

তেভাগা আন্দোলন বর্গাদার কৃষকদের অধিকার ও ন্যায্য ফসলের অংশের দাবিকে সামনে নিয়ে আসে। বর্গাদাররা উৎপন্ন ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ নিজেদের পাওয়ার দাবি করে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষকশ্রেণির সংগঠন ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। বাংলার কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে তাই তেভাগার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

17
অধ্যায় ৭ • নারী ও ছাত্র আন্দোলন

জাতীয় আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

জাতীয় আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তি অনেক বিস্তৃত করে। নারীরা মিছিল, সত্যাগ্রহ, প্রচার, বয়কট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। মাতঙ্গিনী হাজরা ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো নারীরা আত্মত্যাগের উদাহরণ তৈরি করেন। ফলে স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের রাজনৈতিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

18
অধ্যায় ৭ • নারী ও ছাত্র আন্দোলন

দলিত আন্দোলনে ড. বি. আর. আম্বেদকরের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

ড. বি. আর. আম্বেদকর জাতিভিত্তিক বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তিনি দলিতদের শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও আইনি সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভারতের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা দলিত অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

19
অধ্যায় ৮ • স্বাধীনতার পরবর্তী ভারত

স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

উত্তর:

স্বাধীনতার সময় ভারতীয় উপমহাদেশে বহু দেশীয় রাজ্য ছিল। তারা পৃথক অবস্থায় থাকলে রাজনৈতিক ঐক্য ও প্রশাসনিক সংহতি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত করা জাতীয় সংহতির জন্য জরুরি ছিল। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি অধিকতর ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

20
অধ্যায় ৮ • স্বাধীনতার পরবর্তী ভারত

রাজ্য পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ভাষার গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তর:

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে নিজেদের ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি জোরালো হয়। ভাষা মানুষের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণে ভাষাকে বিবেচনা করার দাবি ওঠে। এই দাবিগুলি বিচার করার জন্য রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয়। পরবর্তীকালে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুনভাবে সংগঠিত করে।

PART 05 • 5 MARK PRACTICE

মাধ্যমিক ২০২৭ ইতিহাস — ৫ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

দীর্ঘ ও বিশ্লেষণধর্মী উত্তর লেখার অনুশীলনের জন্য নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। প্রতিটি উত্তরে কারণ, বৈশিষ্ট্য, ভূমিকা, গুরুত্ব ও ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০টি প্রশ্ন ৫ নম্বর বিশ্লেষণধর্মী উত্তরসহ
গুরুত্বপূর্ণ: ৫ নম্বরের আলাদা বিভাগকে ২০২৭ সালের বোর্ডের নির্দিষ্ট প্রশ্নের কাঠামো হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। এটি দীর্ঘ উত্তর লেখার practice set। ২০২৬ সালের WBBSE ইতিহাস প্রশ্নপত্রে ৪ নম্বরের Analytical এবং ৮ নম্বরের Essay-type প্রশ্ন ছিল। তাই এই অংশটি অতিরিক্ত প্রস্তুতির জন্য তৈরি করা হয়েছে।
01
অধ্যায় ২ • সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

উনিশ শতকের বাংলার সমাজসংস্কার আন্দোলনে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

উনিশ শতকের বাংলায় সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রচলিত কুসংস্কার ও সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী চিন্তার প্রয়োগ করেন। বিশেষভাবে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন আন্দোলন চালান এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা আইন করে নিষিদ্ধ হয়। তিনি একেশ্বরবাদ ও ধর্মীয় উদারতার প্রচার করেন এবং ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। নারীশিক্ষা ও নারীর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষেও তিনি মত প্রকাশ করেন। পাশ্চাত্য বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষার প্রসারের প্রতিও তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। তাই তাঁকে বাংলার আধুনিক সমাজসংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ বলা হয়।

02
অধ্যায় ২ • সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমাজসংস্কারমূলক কাজগুলি আলোচনা করো।

উত্তর:

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমাজসংস্কারক। তিনি সমাজে নারীর অবস্থার উন্নতির জন্য বিশেষভাবে কাজ করেন। বিধবা বিবাহ প্রচলনের পক্ষে তিনি জনমত গড়ে তোলেন এবং তাঁর প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়। তিনি বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করেন এবং নারীশিক্ষার প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। বাংলায় বহু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। বাংলা ভাষায় সহজবোধ্য পাঠ্যপুস্তক রচনার মাধ্যমেও তিনি শিক্ষার প্রসারে সাহায্য করেন। সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার ও রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে তাঁর যুক্তিনির্ভর অবস্থান সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।

03
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের কারণগুলি বিশদে আলোচনা করো।

উত্তর:

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পিছনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক বিভিন্ন কারণ কাজ করেছিল। ব্রিটিশদের রাজ্য দখলের নীতি ও দেশীয় শাসকদের প্রতি হস্তক্ষেপে বহু রাজা ও অভিজাত অসন্তুষ্ট হন। ব্রিটিশ অর্থনৈতিক নীতির ফলে কৃষক, কারিগর ও অন্যান্য শ্রেণির মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ভারতীয় সিপাহিরাও বেতন, পদোন্নতি ও বিভিন্ন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ ছিল। এর সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে ব্রিটিশ হস্তক্ষেপের আশঙ্কা মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজব সিপাহিদের অসন্তোষকে তীব্র করে তোলে। শেষ পর্যন্ত মীরাটের বিদ্রোহের মাধ্যমে এই অসন্তোষ বৃহৎ বিদ্রোহে রূপ নেয়।

04
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের চরিত্র ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের চরিত্র ছিল বহুমুখী। এতে সিপাহিদের পাশাপাশি বহু জমিদার, রাজা, কৃষক ও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন অঞ্চলে অংশগ্রহণ করে। অনেকের কাছে এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ, আবার অনেকের কাছে এটি ছিল নিজেদের অধিকার ও পুরনো অবস্থান রক্ষার সংগ্রাম। বিদ্রোহ সর্বভারতীয় ছিল না এবং সব শ্রেণির মানুষ এতে সমানভাবে অংশ নেয়নি। তবুও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এত বড় আকারের প্রতিরোধ তার আগে দেখা যায়নি। বিদ্রোহের পরে ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে এবং কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। তাই ভারতীয় ঔপনিবেশিক ইতিহাসে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

05
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শিক্ষিত ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন সভা ও সমিতি রাজনৈতিক দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। ভারতসভা, বোম্বাই প্রেসিডেন্সি অ্যাসোসিয়েশন ও মাদ্রাজ মহাজন সভার মতো সংগঠনগুলি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমদিকে কংগ্রেস সাংবিধানিক পদ্ধতিতে প্রশাসনিক সংস্কার ও ভারতীয়দের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির দাবি জানায়। বিভিন্ন প্রদেশের রাজনৈতিক কর্মীদের একটি সাধারণ মঞ্চে আনার ক্ষেত্রে কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীকালে এই সংগঠনই ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

06
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের কারণ, কর্মসূচি ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করলে বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। অনেক ভারতীয় বঙ্গভঙ্গকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে রাজনৈতিক বিভাজনের চেষ্টা হিসেবে দেখেছিলেন। এর বিরুদ্ধে স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন শুরু হয়। বিদেশি পণ্য বর্জন, দেশীয় পণ্য ব্যবহার, সভা-মিছিল এবং জাতীয় শিক্ষার প্রসার ছিল আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। ছাত্র, শিক্ষক, নারী ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে। দেশীয় শিল্প ও উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। ফলে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে আরও শক্তিশালী করে।

07
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

বাংলায় ছাপাখানা ও মুদ্রণশিল্পের বিকাশের ফলে সমাজে কী পরিবর্তন ঘটেছিল?

উত্তর:

ছাপাখানার বিকাশ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর পরিবর্তন আনে। বই ও পত্রপত্রিকা আগের তুলনায় দ্রুত ও বেশি সংখ্যায় প্রকাশ করা সম্ভব হয়। পাঠ্যপুস্তকের প্রসারের ফলে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পায়। সংবাদপত্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধর্ম, সমাজসংস্কার, বিজ্ঞান ও সাহিত্য নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। মুদ্রিত বইয়ের মাধ্যমে জ্ঞান আরও বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছায়। ফলে বাংলার আধুনিক শিক্ষিত সমাজ ও জনমত গঠনে মুদ্রণশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

08
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

স্বদেশি যুগে দেশীয় শিল্প ও উদ্যোগের বিকাশের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ভারতীয় বাজারে বিদেশি পণ্যের প্রাধান্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর ফলে বহু দেশীয় শিল্প ও কারিগরি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের সময় বিদেশি পণ্য বর্জনের পাশাপাশি দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়। দেশীয় কাপড়, সাবান, কাগজ, রাসায়নিক দ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ধারণা জনপ্রিয় হয়। একই সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসায় ভারতীয় উদ্যোগের বিকাশের পথ কিছুটা প্রশস্ত হয়।

09
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

নীল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো।

উত্তর:

নীলকররা কৃষকদের জোর করে নীলচাষ করতে বাধ্য করত এবং দাদন ও চুক্তির মাধ্যমে তাদের নিয়ন্ত্রণ করত। নীলচাষে কৃষকদের প্রকৃত লাভ কম ছিল এবং জমির উর্বরতাও ক্ষতিগ্রস্ত হত। এই শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকরা সংগঠিতভাবে নীলচাষ করতে অস্বীকার করে। ১৮৫৯-৬০ সালের নীল বিদ্রোহের ফলে বিষয়টি শিক্ষিত সমাজ ও সংবাদপত্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নীল কমিশন গঠিত হয় এবং নীলচাষিদের অভিযোগ তদন্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বাংলার বহু অঞ্চলে জোর করে নীলচাষ করানোর ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই নীল বিদ্রোহ কৃষক প্রতিরোধের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

10
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ, নেতৃত্ব ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

ঔপনিবেশিক ভূমি ও রাজস্বব্যবস্থা, জমিদার ও মহাজনের শোষণ এবং প্রশাসনিক অত্যাচারে সাঁওতালদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ঋণের ফাঁদে পড়ে অনেক সাঁওতাল জমি হারায়। এই পরিস্থিতিতে সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয়। বিদ্রোহ দ্রুত বিস্তৃত হয়ে ব্রিটিশ প্রশাসন ও শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিরোধে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ শক্তি দিয়ে বিদ্রোহ দমন করে। তবে এই আন্দোলন আদিবাসীদের জমি, অধিকার ও সামাজিক অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পায়।

11
অধ্যায় ৬ • কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন

তেভাগা আন্দোলনের পটভূমি, দাবি ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

বাংলার বর্গাদার কৃষকদের দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত ফসলের বড় অংশ জমির মালিককে দিতে হত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর খাদ্যসংকট ও কৃষকদের অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বর্গাদাররা ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ নিজেদের পাওয়ার দাবি তোলে এবং এই দাবি থেকেই তেভাগা আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনে কৃষকরা সংগঠিতভাবে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। বিশেষ করে বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলে এই আন্দোলন ব্যাপক প্রভাব ফেলে। কৃষক অধিকার ও বর্গাদার সমস্যাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনার ক্ষেত্রে তেভাগা আন্দোলনের বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

12
অধ্যায় ৬ • কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন

ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধির কৃষক আন্দোলনের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

গান্ধি কৃষকদের স্থানীয় সমস্যা ও জাতীয় রাজনীতির মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করেন। চম্পারণে নীলচাষিদের সমস্যা নিয়ে সত্যাগ্রহ পরিচালনা তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। খেদায় কৃষকদের রাজস্ব সংক্রান্ত সমস্যার প্রতিও তিনি সমর্থন জানান। অহিংসা ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে কৃষকদের সংগঠিত করার পদ্ধতি জাতীয় আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এর ফলে কৃষকরা স্বাধীনতা আন্দোলনের বৃহত্তর পরিসরের সঙ্গে যুক্ত হয়। গান্ধির কৃষক আন্দোলন পরবর্তী গণআন্দোলনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।

13
অধ্যায় ৭ • নারী ও ছাত্র আন্দোলন

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তিকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করে। স্বদেশি, অসহযোগ, আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে বহু নারী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাঁরা মিছিল, সভা, প্রচার, বয়কট ও সত্যাগ্রহে অংশগ্রহণ করেন। সরোজিনী নাইডু, অরুণা আসফ আলি ও বাংলার মাতঙ্গিনী হাজরার মতো নারীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বিপ্লবীরাও সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেন। ফলে নারীরা স্বাধীনতা আন্দোলনের সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন।

14
অধ্যায় ৭ • নারী ও ছাত্র আন্দোলন

স্বাধীনতা আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনে ছাত্রসমাজ বিশেষভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্ররা বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশি প্রচারে অংশ নেয়। জাতীয় শিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রেও তারা সক্রিয় ছিল। অসহযোগ ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় বহু ছাত্র মিছিল, প্রচার ও আন্দোলন সংগঠিত করার কাজে যুক্ত হয়। ছাত্রদের মধ্যে দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক সচেতনতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে তরুণ সমাজ জাতীয় আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়।

15
অধ্যায় ৭ • নারী ও ছাত্র আন্দোলন

দলিত আন্দোলনে ড. বি. আর. আম্বেদকরের ভূমিকা বিশদে আলোচনা করো।

উত্তর:

ড. বি. আর. আম্বেদকর জাতিভিত্তিক বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম করেন। তিনি দলিতদের শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক অধিকারের উপর গুরুত্ব দেন। দলিতদের সংগঠিত করার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগঠনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও আইনগত সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পরবর্তীকালে ভারতের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সংবিধানে সমতা ও বৈষম্যবিরোধী নীতির প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

16
অধ্যায় ৮ • স্বাধীনতার পরবর্তী ভারত

স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

স্বাধীনতার সময় ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে বহু দেশীয় রাজ্য ছিল। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর এই রাজ্যগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ভারতের রাজনৈতিক সংহতি বজায় রাখার জন্য দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি হয়ে ওঠে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ও ভি. পি. মেনন এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অধিকাংশ দেশীয় রাজ্য ভারতভুক্তি দলিলে স্বাক্ষর করে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। হায়দরাবাদ ও জুনাগড়ের মতো কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার ফলে স্বাধীন ভারতের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সংহতি অনেক বেশি সুদৃঢ় হয়।

17
অধ্যায় ৮ • স্বাধীনতার পরবর্তী ভারত

ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের প্রয়োজন কেন দেখা দিয়েছিল?

উত্তর:

স্বাধীনতার পর ভারতের বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী নিজেদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি জানায়। ঔপনিবেশিক আমলের প্রশাসনিক সীমানা সবসময় ভাষাগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ফলে জনগণের দাবি ও প্রশাসনিক সুবিধার মধ্যে সামঞ্জস্য আনার প্রয়োজন দেখা দেয়। ভাষাভিত্তিক রাজ্যের দাবিকে বিচার করার জন্য রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজ্যের সীমানা পুনর্গঠিত হয়। এর ফলে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আরও বাস্তবসম্মত রূপ পায়।

18
অধ্যায় ১ • ইতিহাসের ধারণা

আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা ও সংবাদপত্র ইতিহাসের উপাদান হিসেবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আলোচনা করো।

উত্তর:

আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনায় আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা ও সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আত্মজীবনীতে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সমকালীন ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ পাওয়া যায়। স্মৃতিকথার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব। সংবাদপত্রে সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনা, আন্দোলন ও জনমতের প্রতিফলন দেখা যায়। তবে এই সব উৎসের মধ্যেই ব্যক্তিগত মতামত ও পক্ষপাত থাকতে পারে। তাই ইতিহাসবিদরা এগুলিকে অন্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করেন। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এগুলি আধুনিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে।

19
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার বিকাশে জগদীশচন্দ্র বসু ও প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অবদান আলোচনা করো।

উত্তর:

জগদীশচন্দ্র বসু ও প্রফুল্লচন্দ্র রায় বাংলায় আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ ও বেতার তরঙ্গ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণা ভারতীয়দের মধ্যে আধুনিক পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন বিশিষ্ট রসায়নবিদ এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশেও উদ্যোগী ছিলেন। বেঙ্গল কেমিক্যালের সঙ্গে তাঁর উদ্যোগ দেশীয় শিল্প ও বিজ্ঞানকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে। তাঁদের কাজ বাংলায় বিজ্ঞানমনস্কতা ও স্বনির্ভরতার ধারণাকে শক্তিশালী করে।

20
অধ্যায় ৬ • কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন

ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের বিস্তারের সঙ্গে কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হয়। কৃষকরা জমি, রাজস্ব, ফসলের ন্যায্য অংশ ও শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। শ্রমিকরা মজুরি, কাজের পরিবেশ ও অধিকার নিয়ে সংগঠিত হয়। চম্পারণ, খেদা ও তেভাগার মতো কৃষক আন্দোলন এবং বিভিন্ন শ্রমিক ধর্মঘট জাতীয় রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসে। জাতীয়তাবাদী নেতারাও বিভিন্ন সময় কৃষক ও শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। এর ফলে স্বাধীনতা আন্দোলন কেবল শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়। এই গণভিত্তিই পরবর্তীকালে জাতীয় আন্দোলনের শক্তি বৃদ্ধি করে।

PART 06 • ESSAY TYPE

মাধ্যমিক ২০২৭ ইতিহাস — রচনাধর্মী ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

দীর্ঘ উত্তর লেখার জন্য নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রতিটি উত্তর কারণ, পটভূমি, মূল আলোচনা, গুরুত্ব ও উপসংহার অনুসারে সাজানো হয়েছে।

১০টি প্রশ্ন ৮ নম্বর Practice রচনাধর্মী উত্তরসহ
পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: ২০২৬ সালের WBBSE ইতিহাস প্রশ্নপত্রে রচনাধর্মী বিভাগে ৮ নম্বরের ১টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল এবং ১৫–১৬টি বাক্যে উত্তর লেখার নির্দেশ ছিল। ২০২৭-এর official question আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। তাই নিচের ১০টি প্রশ্নকে গুরুত্বপূর্ণ Practice/Suggestion হিসেবে ব্যবহার করো, নিশ্চিত বা ১০০% কমন প্রশ্ন হিসেবে নয়।
01
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের চরিত্র, কারণ ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে উনিশ শতকের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরোধ। এর পিছনে একাধিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক কারণ কাজ করেছিল। ব্রিটিশদের রাজ্য দখলের নীতি ও দেশীয় শাসকদের প্রতি হস্তক্ষেপে বহু রাজা ও অভিজাত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ব্রিটিশ অর্থনৈতিক নীতির ফলে কৃষক, কারিগর ও অন্যান্য শ্রেণির মানুষের মধ্যেও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতীয় সিপাহিদের মধ্যেও বেতন, পদোন্নতি ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছিল। এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজব এই অসন্তোষকে আরও তীব্র করে তোলে।

১৮৫৭ সালের ১০ মে মীরাটে সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় এবং পরে দিল্লি, কানপুর, লখনউ, ঝাঁসি প্রভৃতি অঞ্চলে তা ছড়িয়ে পড়ে। বাহাদুর শাহ দ্বিতীয়, নানাসাহেব, তাতিয়া টোপি, রানি লক্ষ্মীবাই প্রমুখ বিভিন্নভাবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। তবে এই বিদ্রোহ সর্বভারতীয় ছিল না এবং সব শ্রেণি ও অঞ্চলের মানুষ এতে সমানভাবে অংশগ্রহণ করেনি। বিদ্রোহীদের মধ্যে ঐক্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব ছিল এবং ব্রিটিশদের অস্ত্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল তুলনামূলকভাবে উন্নত। ফলে বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

কিন্তু এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল গভীর। ১৮৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসন সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুটের হাতে চলে যায়। ব্রিটিশ প্রশাসন দেশীয় রাজাদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন নীতি গ্রহণ করে। ভারতীয়দের মধ্যেও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পায়। তাই ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে ভারতীয় ঔপনিবেশিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ বলা যায়।

02
অধ্যায় ২ • সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

উনিশ শতকের বাংলার সমাজসংস্কার আন্দোলনে রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

উনিশ শতকের বাংলায় সমাজসংস্কার আন্দোলনের বিকাশে রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর প্রচেষ্টা ও জনমত গঠনের ফলে ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা আইন করে নিষিদ্ধ হয়। তিনি একেশ্বরবাদ, যুক্তিবাদ ও ধর্মীয় উদারতার প্রচার করেন এবং ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। আধুনিক শিক্ষা ও পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচর্চার প্রসারের পক্ষেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নারীসমাজের উন্নতির জন্য বিশেষভাবে কাজ করেন। তিনি বিধবা বিবাহ প্রচলনের পক্ষে সমাজে জনমত গড়ে তোলেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলে ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়। তিনি নারীশিক্ষার প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন এবং বহু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। বাল্যবিবাহ ও বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

রামমোহন রায় যুক্তিবাদী ও আধুনিক চিন্তার ভিত্তি শক্তিশালী করেছিলেন, আর বিদ্যাসাগর সেই আধুনিক চিন্তাকে বাস্তব সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন। তাঁদের কাজের ফলে বাংলার সমাজে নারী, শিক্ষা, ধর্ম ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে নতুন চিন্তার বিকাশ ঘটে। তাই উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণে তাঁদের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

03
অধ্যায় ৪ • সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের কারণ, কর্মসূচি, বিস্তার ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বঙ্গভঙ্গকে অনেক ভারতীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখেছিলেন। এর প্রতিবাদে বাংলায় স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনের সূচনা হয়।

আন্দোলনের প্রধান কর্মসূচি ছিল বিদেশি পণ্য বর্জন, দেশীয় পণ্য ব্যবহার, স্বদেশি শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া, সভা-মিছিল ও জনসচেতনতা সৃষ্টি। জাতীয় শিক্ষার প্রসারের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছাত্রসমাজ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বহু নারীও স্বদেশি পণ্য ব্যবহার, প্রচার ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এই আন্দোলনের ফলে রাজনৈতিক সচেতনতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দেশীয় শিল্প ও উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা হয়। সংবাদপত্র ও সভা-সমিতির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী চিন্তা বৃহত্তর মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। আন্দোলনের ফলে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের মধ্যে বয়কট ও স্বদেশির মতো নতুন রাজনৈতিক পদ্ধতির গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।

শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। যদিও আন্দোলনের সব লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, তবুও বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের গণভিত্তি প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

04
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

উনিশ শতকে বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার বিস্তারে ডেভিড হেয়ার ও ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

উনিশ শতকে বাংলায় আধুনিক শিক্ষার প্রসারে ডেভিড হেয়ার ও ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ডেভিড হেয়ার ভারতীয়দের মধ্যে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে সক্রিয় উদ্যোগ নেন। তিনি হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে হেয়ার স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভারতীয় সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসার ঘটানো।

ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন বিশেষভাবে নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৮৪৯ সালে কলকাতায় বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি মেয়েদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করেন। সে সময় নারীশিক্ষা নিয়ে সমাজে নানা রক্ষণশীলতা ও বিরোধিতা ছিল। সেই পরিবেশে বেথুনের উদ্যোগ ছিল সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

ডেভিড হেয়ারের উদ্যোগে সাধারণ ও আধুনিক শিক্ষার বিস্তারের পরিবেশ তৈরি হয়, আর বেথুন নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তন আনেন। তাঁদের উদ্যোগের ফলে বাংলায় পাশ্চাত্য জ্ঞান, বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ ও আধুনিক শিক্ষার প্রসার ত্বরান্বিত হয়। পরবর্তীকালে এই শিক্ষিত সমাজই বাংলার সমাজসংস্কার ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

05
অধ্যায় ৩ • প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ

নীল বিদ্রোহের কারণ, আন্দোলনের বিস্তার, ফলাফল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

বাংলার নীলচাষিদের উপর নীলকরদের অত্যাচার ও অর্থনৈতিক শোষণ থেকেই নীল বিদ্রোহের সূত্রপাত। নীলকররা অনেক কৃষককে জোর করে নীলচাষ করতে বাধ্য করত। দাদন ও চুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের নিয়ন্ত্রণ করা হত এবং নীলচাষে কৃষকদের প্রকৃত লাভ খুব কম ছিল। নীলচাষ জমির উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলত। ফলে কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমা হচ্ছিল।

১৮৫৯-৬০ সালে নদিয়া, যশোর, ফরিদপুরসহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকরা সংঘবদ্ধভাবে নীলচাষ করতে অস্বীকার করে। কৃষকদের আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষিত বাঙালি ও সংবাদপত্র কৃষকদের সমস্যাকে সমর্থন করে। দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকও নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র সমাজের সামনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আন্দোলনের ফলে সরকার নীলচাষের সমস্যা তদন্তের জন্য নীল কমিশন গঠন করে। কমিশনের তদন্তের পর জোর করে নীলচাষ করানোর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়। বহু অঞ্চলে নীলচাষিদের উপর নীলকরদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে।

নীল বিদ্রোহের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব ছিল এটি ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগঠিত কৃষক প্রতিরোধের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।

06
অধ্যায় ৬ • কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন

উনিশ ও বিশ শতকের কৃষক আন্দোলনের বিকাশে বিভিন্ন কৃষক আন্দোলনের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

ব্রিটিশ শাসনকালে কৃষকরা জমিদার, মহাজন, নীলকর ও ঔপনিবেশিক রাজস্বব্যবস্থার বিভিন্ন ধরনের শোষণের মুখোমুখি হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে কৃষক আন্দোলন গড়ে ওঠে। নীল বিদ্রোহে কৃষকরা জোর করে নীলচাষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। সাঁওতাল বিদ্রোহে আদিবাসী কৃষকসমাজ জমি ও সামাজিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

বিশ শতকে গান্ধির নেতৃত্বে চম্পারণ ও খেদার মতো কৃষক আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে কৃষকদের সমস্যাকে যুক্ত করে। চম্পারণে নীলচাষিদের সমস্যা এবং খেদায় রাজস্ব সংক্রান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে সত্যাগ্রহ পরিচালিত হয়। পরে বাংলায় তেভাগা আন্দোলনে বর্গাদাররা উৎপন্ন ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের অধিকার দাবি করে।

এই আন্দোলনগুলির চরিত্র ও উদ্দেশ্য এক ছিল না। কিছু আন্দোলন ছিল স্থানীয় শোষণের বিরুদ্ধে, আবার কিছু আন্দোলন বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই কৃষকদের সংগঠিত হওয়া এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে কৃষক আন্দোলন ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তি বিস্তৃত করতে সাহায্য করে এবং স্বাধীনতার পরেও ভূমি ও কৃষক অধিকারের প্রশ্নকে রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করে তোলে।

07
অধ্যায় ৭ • নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী

ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনে নারীসমাজের ভূমিকা ও তাদের অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো।

উত্তর:

ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে বহু নারী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা মিছিল, সভা, প্রচার, বিদেশি পণ্য বর্জন ও সত্যাগ্রহে অংশ নেন। সরোজিনী নাইডু, অরুণা আসফ আলি, মাতঙ্গিনী হাজরা প্রমুখের ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়। বাংলায় প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বিপ্লবী নারীও ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে অংশ নেন।

নারীদের অংশগ্রহণের ফলে জাতীয় আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তি আরও বিস্তৃত হয়। সাধারণ পরিবারের নারীরাও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও সাহস অন্যদেরও আন্দোলনে যোগ দিতে উৎসাহিত করে।

তবে নারীদের অংশগ্রহণ সর্বত্র সমান ছিল না। সামাজিক রক্ষণশীলতা, নারীশিক্ষার সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক বাধা ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা তাঁদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে অনেক ক্ষেত্রে সীমিত করে। আন্দোলনের নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও পুরুষদের আধিপত্য দীর্ঘদিন বজায় ছিল।

তবুও জাতীয় আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ভারতীয় সমাজে নারীর রাজনৈতিক পরিচয় ও সামাজিক ভূমিকার পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

08
অধ্যায় ৭ • নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী

দলিত আন্দোলনে ড. বি. আর. আম্বেদকরের ভূমিকা এবং দলিত অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

ভারতীয় সমাজে জাতিভিত্তিক বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে ড. বি. আর. আম্বেদকর দীর্ঘ সংগ্রাম করেন। তিনি মনে করতেন যে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়, সামাজিক সমতাও প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তিনি দলিতদের শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন।

আম্বেদকর দলিতদের সংগঠিত করেন এবং তাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন। তিনি সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন পরিচালনা করেন। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও আইনগত সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

স্বাধীনতার পর ভারতের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আম্বেদকর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সংবিধানে আইনের চোখে সমতা, বৈষম্যবিরোধী নীতি এবং অস্পৃশ্যতা বিলোপের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে সামাজিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার সাংবিধানিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়।

তাই আম্বেদকরের আন্দোলনের গুরুত্ব শুধু দলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতীয় গণতন্ত্রে সামাজিক ন্যায়, সমতা ও মর্যাদার ধারণা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

09
অধ্যায় ৫ • বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

ঔপনিবেশিক বাংলায় বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর:

ঔপনিবেশিক বাংলায় আধুনিক বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ উনিশ শতকের শিক্ষা ও সমাজসংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের ফলে ভারতীয়দের মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞান, গণিত ও প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

কলকাতা ও অন্যান্য অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। হিন্দু কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান আধুনিক জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরি করে। পরবর্তীকালে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চাকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করেন। প্রফুল্লচন্দ্র রায় বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশের ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেন। কারিগরি শিক্ষার প্রসারের ফলে শিল্প ও প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।

এই বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার বাংলার শিক্ষিত সমাজে যুক্তিবাদী চিন্তা, বৈজ্ঞানিক মনোভাব ও স্বনির্ভরতার ধারণা শক্তিশালী করে। পরবর্তীকালে দেশীয় শিল্প, প্রযুক্তি ও জাতীয় উদ্যোগের বিকাশে এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।

10
অধ্যায় ৮ • উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত

স্বাধীনতার পর ভারতের জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠায় দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি ও রাজ্য পুনর্গঠনের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় ভারতের সামনে অন্যতম বড় সমস্যা ছিল দেশীয় রাজ্যগুলির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর বহু দেশীয় রাজ্য নিজেদের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার কথা ভাবতে পারে। কিন্তু বহু পৃথক রাজনৈতিক একক থাকলে ভারতের ঐক্য ও প্রশাসনিক সংহতি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

এই পরিস্থিতিতে দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ও ভি. পি. মেনন এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অধিকাংশ রাজ্য ভারতভুক্তি দলিলে স্বাক্ষর করে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। কিছু রাজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

দেশীয় রাজ্যগুলির সংযুক্তির পরও ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোতে ভাষাগত ও আঞ্চলিক অসন্তোষ দেখা দেয়। বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ নিজেদের ভাষাভিত্তিক রাজ্যের দাবি তোলে। এই দাবিগুলি বিচার করার জন্য ১৯৫৩ সালে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয়।

পরবর্তীকালে ভাষা ও প্রশাসনিক সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের সীমানা পুনর্গঠিত হয়। এর ফলে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আরও সুসংগঠিত হয়। দেশীয় রাজ্যের ভারতভুক্তি রাজনৈতিক ঐক্য এবং রাজ্য পুনর্গঠন প্রশাসনিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।