Madhyamik Life Science 2027
জীবন বিজ্ঞান Suggestion
পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য MCQ থেকে শুরু করে SAQ, বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন, Diagram, Biological Process এবং Full-Length Model Test—সবকিছু এক জায়গায়।
কী কী পড়তে হবে?
নিচের যেকোনো Part-এ ক্লিক করে সরাসরি সেই অংশে যেতে পারবে।
কোন কোন বিষয় কভার হবে?
জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
স্নায়ুতন্ত্র, নিউরন, প্রতিবর্ত ক্রিয়া, মস্তিষ্ক, হরমোন ও সমন্বয়।
জীবনের প্রবাহমানতা
কোষ বিভাজন, জনন, যৌন জনন, ফুলের জনন, বৃদ্ধি ও বিকাশ।
বংশগতি ও জিনগত রোগ
Gene, Chromosome, Mendel, Heredity, Variation ও Genetic Disease।
অভিব্যক্তি ও অভিযোজন
Variation, Evolution, Natural Selection ও Adaptation।
পরিবেশ ও তার সংরক্ষণ
Ecosystem, Food Chain, Food Web, Biodiversity, Pollution ও Conservation।
আগে Concept → তারপর Question Practice → শেষে Full-Length Model Test।
Part 1 — ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ
জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়, জীবনের প্রবাহমানতা, বংশগতি, অভিব্যক্তি ও অভিযোজন এবং পরিবেশ— পাঁচটি Theme থেকে নির্বাচিত Concept-based MCQ।
প্রস্তুতির নির্দেশ: প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে নিজে চেষ্টা করো। তারপর “সঠিক উত্তর” অংশটি দেখে মিলিয়ে নাও। এগুলি ২০২৭-এর সম্ভাব্য প্রস্তুতির জন্য তৈরি করা Practice MCQ; এগুলিকে ১০০% কমন প্রশ্ন হিসেবে ধরা যাবে না।
জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
MCQ 01–12দেহের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে—
দেহের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত মস্তিষ্কের অংশ—
নিচের কোনটি সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর উদাহরণ?
নিউরনের যে অংশটি সাধারণত উদ্দীপনা গ্রহণ করে তাকে বলে—
ইনসুলিন হরমোনের প্রধান কাজ—
থাইরক্সিন হরমোন সংশ্লেষণের জন্য কোন মৌলটি প্রয়োজন?
উদ্ভিদের আলোর দিকে বেঁকে যাওয়ার ঘটনাকে বলা হয়—
উদ্ভিদের কাণ্ডের আলোর দিকে বৃদ্ধিতে কোন হরমোন গুরুত্বপূর্ণ?
অ্যাড্রেনালিন হরমোন প্রধানত কোন গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়?
হরমোন হল—
স্নায়ু ও হরমোনের সমন্বিত কাজের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
জীবনের প্রবাহমানতা
MCQ 13–22কোষ বিভাজনের যে পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলি বিষুব অঞ্চলে সারিবদ্ধ হয়—
মিয়োসিসের ফলে একটি মাতৃকোষ থেকে সাধারণত কতটি অপত্যকোষ সৃষ্টি হয়?
মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা—
মানুষের পুরুষের গ্যামেট হল—
মানুষের স্ত্রী গ্যামেট হল—
ফুলের পরাগধানীতে উৎপন্ন হয়—
নিষেকের ফলে প্রথম যে কোষটি সৃষ্টি হয় তাকে বলে—
ফুলের স্ত্রী জনন অঙ্গের নাম—
মানুষের দেহে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে কোন হরমোন গুরুত্বপূর্ণ?
মাইটোসিসের প্রধান জৈবিক গুরুত্ব কোনটি?
বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ
MCQ 23–32বংশগতির কার্যকরী একক হল—
মেন্ডেল মটরগাছের কোন বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করেছিলেন?
সংকরায়ণের প্রথম অপত্য বংশকে বলা হয়—
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পুরুষের কোন ক্রোমোজোম জোড়া গুরুত্বপূর্ণ?
মানুষের স্ত্রী-লিঙ্গের যৌন ক্রোমোজোম হল—
বর্ণান্ধতা সাধারণত কোন ধরনের বংশগত রোগ?
হিমোফিলিয়া রোগে প্রধানত কোন প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়?
একই প্রজাতির জীবের মধ্যে বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যকে বলা হয়—
কোনো জীবের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যকে বলা হয়—
একই জিনের বিকল্প রূপকে বলা হয়—
অভিব্যক্তি ও অভিযোজন
MCQ 33–41প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের সঙ্গে কোন বিজ্ঞানীর নাম বিশেষভাবে যুক্ত?
জীবের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বৈশিষ্ট্যকে বলা হয়—
জীবের বিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রকরণের গুরুত্ব কী?
জীবাশ্ম প্রধানত কী সম্পর্কে প্রমাণ দেয়?
সমসংস্থ অঙ্গের প্রধান বৈশিষ্ট্য—
মরুভূমির উদ্ভিদের পাতা কাঁটায় পরিণত হওয়া কোনটির উদাহরণ?
প্রাকৃতিক নির্বাচনে কোন বৈশিষ্ট্যের জীবদের টিকে থাকার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি?
সমবৃত্তীয় অঙ্গের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
বিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল—
পরিবেশ, তার সম্পদ ও সংরক্ষণ
MCQ 42–50বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক হিসেবে প্রধানত কারা কাজ করে?
খাদ্যশৃঙ্খলে শক্তির প্রবাহ সাধারণত—
খাদ্যশৃঙ্খলে প্রথম ট্রফিক স্তর সাধারণত কারা?
বাস্তুতন্ত্রে মৃত জীবের জৈব পদার্থ ভাঙতে সাহায্য করে—
জীববৈচিত্র্য বলতে বোঝায়—
বন সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ—
ওজোন স্তর প্রধানত কোন ক্ষতিকর রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে?
নিচের কোনটি পুনর্নবীকরণযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ?
কোনো প্রজাতি তার প্রাকৃতিক পরিবেশে বিলুপ্তির মুখে পড়লে তাকে সংরক্ষণের সবচেয়ে সরাসরি উদ্দেশ্য কী?
Part 2 — ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ SAQ
শূন্যস্থান পূরণ, সত্য/মিথ্যা, মিল খোঁজা এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলির অনুশীলন।
প্রথমে প্রশ্নটি নিজে উত্তর করার চেষ্টা করো। তারপর নিচের উত্তরটি মিলিয়ে দেখো। গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও সংজ্ঞাগুলি আলাদা করে মনে রাখো।
শূন্যস্থান পূরণ করো
মানুষের দেহে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হলো ________।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ________ হরমোন।
থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য ________ মৌল প্রয়োজন।
মাইটোসিসের ফলে সাধারণত ________টি অপত্যকোষ সৃষ্টি হয়।
মিয়োসিসের ফলে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের তুলনায় ________ হয়।
বংশগতির কার্যকরী একক হলো ________।
মেন্ডেলের সংকরায়ণের প্রথম অপত্য বংশকে ________ বলা হয়।
জীবের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপযোগী বৈশিষ্ট্যকে ________ বলে।
বাস্তুতন্ত্রের প্রথম ট্রফিক স্তরে থাকে ________।
মৃত জীবের জৈব পদার্থ ভেঙে সরল পদার্থে পরিণত করতে সাহায্য করে ________।
সত্য অথবা মিথ্যা লেখো
লঘুমস্তিষ্ক দেহের ভারসাম্য রক্ষা ও পেশির সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।
মাইটোসিসের ফলে অপত্যকোষে সাধারণত মাতৃকোষের সমান ক্রোমোজোম সংখ্যা বজায় থাকে।
মিয়োসিসের ফলে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়।
জিন হলো বংশগতির কার্যকরী একক।
মানুষের স্ত্রী-লিঙ্গের যৌন ক্রোমোজোম হলো XY।
প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের সঙ্গে চার্লস ডারউইনের নাম যুক্ত।
জীবাশ্ম বিবর্তনের ইতিহাস সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয় না।
খাদ্যশৃঙ্খলে শক্তির প্রবাহ সাধারণত একমুখী।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সঙ্গে প্রজাতি ও বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা সম্পর্কিত নয়।
সঠিকভাবে মিল করো
হাইপোথ্যালামাস — ?
লঘুমস্তিষ্ক — ?
ইনসুলিন — ?
অক্সিন — ?
অ্যাড্রেনালিন — ?
সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
প্রতিবর্ত ক্রিয়া কী?
সাইন্যাপস কী?
হরমোনকে রাসায়নিক বার্তাবাহক বলা হয় কেন?
ফোটোট্রপিজম কী?
মাইটোসিসের একটি গুরুত্ব লেখো।
মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলা হয় কেন?
গ্যামেট কী?
নিষেক কী?
জিন কী?
অ্যালিল কী?
জিনোটাইপ বলতে কী বোঝো?
ফিনোটাইপ কী?
প্রকরণ বলতে কী বোঝো?
অভিযোজন কী?
খাদ্যশৃঙ্খল কী?
গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পুরুষের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্ণান্ধতা কী ধরনের বংশগত রোগ?
হিমোফিলিয়ায় প্রধান সমস্যা কী?
প্রাকৃতিক নির্বাচন কী?
জীবাশ্মের একটি গুরুত্ব লেখো।
উৎপাদককে বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি বলা হয় কেন?
খাদ্যশৃঙ্খলে শক্তির প্রবাহকে একমুখী বলা হয় কেন?
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ওজোন স্তর কেন গুরুত্বপূর্ণ?
Part 3 — ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ৩ নম্বরের প্রশ্ন
মাধ্যমিক ২০২৭-এর প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, কারণ, পার্থক্য, কাজ, উদাহরণ ও প্রয়োগভিত্তিক প্রশ্নোত্তর।
৩ নম্বরের প্রশ্নে অপ্রয়োজনীয় বড় উত্তর না লিখে সংজ্ঞা/মূল বক্তব্যের সঙ্গে ২–৩টি নির্দিষ্ট পয়েন্ট লিখবে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে উদাহরণ বা কারণ যোগ করবে।
জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
প্রতিবর্ত ক্রিয়া কী? একটি উদাহরণসহ প্রতিবর্ত পথটি সংক্ষেপে লেখো।
কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে মস্তিষ্কের সচেতন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই দ্রুত ও অনৈচ্ছিকভাবে যে প্রতিক্রিয়া ঘটে তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
- উদ্দীপনা গ্রহণ করে গ্রাহক বা রিসেপ্টর।
- সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর মাধ্যমে সংকেত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছায়।
- চালক স্নায়ুর মাধ্যমে পেশি বা গ্রন্থিতে সংকেত পৌঁছে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
উদাহরণ: গরম বস্তু স্পর্শ করলে দ্রুত হাত সরিয়ে নেওয়া।
লঘুমস্তিষ্কের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ লেখো।
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।
- পেশির সংকোচন-প্রসারণের সমন্বয় ঘটায়।
- দেহের বিভিন্ন ঐচ্ছিক চলনের সূক্ষ্ম সমন্বয় সাধন করে।
ইনসুলিনের অভাবে কী সমস্যা হয়? ইনসুলিনের দুটি কাজ লেখো।
ইনসুলিনের অভাব হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ডায়াবেটিস মেলিটাস হতে পারে।
- রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ ও ব্যবহারে সাহায্য করে।
- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
উদ্ভিদের ফোটোট্রপিক চলন কীভাবে ঘটে?
- কাণ্ডের অগ্রভাগে আলো একদিকে পড়লে অক্সিনের বণ্টন অসম হয়।
- অক্সিন ছায়াযুক্ত পাশে তুলনামূলক বেশি জমা হয়ে কোষের প্রসারণ বাড়ায়।
- ফলে ছায়াযুক্ত দিকের বৃদ্ধি বেশি হওয়ায় কাণ্ড আলোর দিকে বেঁকে যায়।
স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
- স্নায়ুতন্ত্র স্নায়ুসংকেতের মাধ্যমে কাজ করে, হরমোন রাসায়নিক বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে।
- স্নায়ুর প্রতিক্রিয়া সাধারণত দ্রুত, হরমোনের ক্রিয়া তুলনামূলক ধীর।
- স্নায়ুর প্রভাব সাধারণত স্বল্পস্থায়ী, হরমোনের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
থাইরক্সিন হরমোনের গুরুত্ব লেখো এবং আয়োডিনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
- থাইরক্সিন দেহের বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।
- থাইরক্সিন তৈরির জন্য আয়োডিন প্রয়োজন; খাদ্যে আয়োডিনের ঘাটতি হলে গলগণ্ডের মতো সমস্যা হতে পারে।
হাইপোথ্যালামাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লেখো।
- দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মতো কিছু শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
- অন্তঃক্ষরা তন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে পিটুইটারি গ্রন্থির সঙ্গে সমন্বয় করে।
জীবনের প্রবাহমানতা
মাইটোসিসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- জীবের দেহের বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে।
- ক্ষতিগ্রস্ত ও মৃত কোষের পরিবর্তে নতুন কোষ তৈরি করে।
- এককোষী কিছু জীবের অযৌন জননে সাহায্য করে।
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
- মাইটোসিসে একবার বিভাজন ঘটে, মিয়োসিসে পরপর দুটি বিভাজন ঘটে।
- মাইটোসিসে সাধারণত দুটি অপত্যকোষ, মিয়োসিসে চারটি অপত্যকোষ তৈরি হয়।
- মাইটোসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা বজায় থাকে, মিয়োসিসে তা অর্ধেক হয়।
মিয়োসিসের জৈবিক গুরুত্ব লেখো।
- গ্যামেট বা জননকোষ তৈরিতে সাহায্য করে।
- গ্যামেটে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক করে প্রজাতির নির্দিষ্ট ক্রোমোজোম সংখ্যা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- জিনগত প্রকরণ সৃষ্টিতে সাহায্য করে, যা বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্ভিদের যৌন জননে পরাগায়ন ও নিষেকের গুরুত্ব লেখো।
- পরাগায়নের মাধ্যমে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পৌঁছায়।
- পরাগনালির মাধ্যমে পুরুষ গ্যামেট ভ্রূণথলিতে পৌঁছায়।
- পুরুষ ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনে জাইগোট তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে ভ্রূণের সৃষ্টি হয়।
মাইটোসিসের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রম লেখো এবং প্রতিটি পর্যায়ের একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
- প্রোফেজ: ক্রোমোজোম ঘনীভূত ও স্পষ্ট হয়।
- মেটাফেজ: ক্রোমোজোমগুলি বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে।
- অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ: ক্রোমাটিড পৃথক হয়ে দুই মেরুতে যায় এবং শেষে দুটি নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।
নিষেকের ফলে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা কীভাবে বজায় থাকে?
- মিয়োসিসের ফলে গ্যামেটে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়।
- নিষেকের সময় পুরুষ ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন ঘটে।
- দুই হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট তৈরি করে এবং প্রজাতির স্বাভাবিক ক্রোমোজোম সংখ্যা পুনঃস্থাপিত হয়।
অযৌন ও যৌন জননের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
- অযৌন জননে সাধারণত একটি জীব অংশগ্রহণ করে, যৌন জননে সাধারণত দুটি গ্যামেটের অংশগ্রহণ থাকে।
- অযৌন জননে গ্যামেটের মিলন ঘটে না, যৌন জননে নিষেক ঘটে।
- যৌন জননে প্রকরণের সম্ভাবনা বেশি, অযৌন জননে অপত্য সাধারণত জনিতৃর সঙ্গে জিনগতভাবে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।
বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ
মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষার ফলাফল সংক্ষেপে লেখো।
- মেন্ডেল বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিশুদ্ধ মটরগাছের মধ্যে সংকরায়ণ করেন।
- F₁ জনুতে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় এবং অপরটি প্রচ্ছন্ন থাকে।
- F₁-এর আত্মসংকরায়ণে F₂ জনুতে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের সাধারণ ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩ : ১ পাওয়া যায়।
প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
- প্রকট বৈশিষ্ট্য সংকর অবস্থাতেও প্রকাশ পেতে পারে।
- প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য সাধারণত তখনই প্রকাশ পায় যখন তার কার্যকরী প্রকট অ্যালিল উপস্থিত থাকে না।
- প্রকট বৈশিষ্ট্যকে সাধারণত বড় হাতের অক্ষর এবং প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যকে ছোট হাতের অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে X ও Y ক্রোমোজোমের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- মানুষের স্ত্রী-লিঙ্গের যৌন ক্রোমোজোম XX এবং পুরুষের XY।
- স্ত্রীর সব ডিম্বাণু X ক্রোমোজোম বহন করে।
- পুরুষের শুক্রাণু X অথবা Y বহন করতে পারে; X-শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে XX এবং Y-শুক্রাণু নিষিক্ত করলে XY সন্তান হয়।
বর্ণান্ধতা সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
- বর্ণান্ধতা একটি বংশগত দৃষ্টিজনিত সমস্যা।
- এটি সাধারণত X-ক্রোমোজোম-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য হিসেবে বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তি বিশেষ কিছু রঙের মধ্যে পার্থক্য করতে অসুবিধা অনুভব করেন।
হিমোফিলিয়ার বংশগতি কীভাবে ঘটে?
- হিমোফিলিয়া সাধারণত X-ক্রোমোজোম-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন বংশগত রোগ।
- পুরুষের একটি মাত্র X ক্রোমোজোম থাকায় তাতে রোগের অ্যালিল থাকলে রোগটি প্রকাশ পেতে পারে।
- নারীর ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি X ক্রোমোজোম থাকায় রোগ প্রকাশের জন্য উভয় X-এ ত্রুটিপূর্ণ অ্যালিল থাকা প্রয়োজন।
জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
- জিনোটাইপ হলো কোনো জীবের নির্দিষ্ট জিনগত গঠন।
- ফিনোটাইপ হলো সেই জিনগত গঠন ও পরিবেশের প্রভাবে প্রকাশিত দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য।
- একই ফিনোটাইপের পেছনে কখনও ভিন্ন জিনোটাইপ থাকতে পারে।
অভিব্যক্তি ও অভিযোজন
ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের মূল বক্তব্যগুলি লেখো।
- জীবেরা অতিরিক্ত সংখ্যায় বংশবিস্তার করার প্রবণতা রাখে।
- একই প্রজাতির জীবদের মধ্যে প্রকরণ দেখা যায় এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে বেঁচে থাকার সংগ্রাম হয়।
- পরিবেশের সঙ্গে বেশি উপযোগী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবদের টিকে থাকা ও প্রজননের সম্ভাবনা বেশি হয়; দীর্ঘ সময়ে এর ফলে বিবর্তন ঘটতে পারে।
সমসংস্থ অঙ্গ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।
- সমসংস্থ অঙ্গের মৌলিক গঠন ও উৎপত্তি একই ধরনের হলেও কাজ ভিন্ন হতে পারে; যেমন মানুষের হাত ও বাদুড়ের ডানা।
- সমবৃত্তীয় অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন ভিন্ন হলেও কাজ একই বা কাছাকাছি হতে পারে; যেমন পাখির ডানা ও পতঙ্গের ডানা।
- সমসংস্থ অঙ্গ সাধারণ পূর্বপুরুষের ইঙ্গিত দেয়, আর সমবৃত্তীয় অঙ্গ অভিসারী বিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিবর্তনে প্রকরণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- প্রকরণ একই প্রজাতির জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
- কিছু প্রকরণ পরিবেশের পরিবর্তিত অবস্থায় জীবকে তুলনামূলক সুবিধা দিতে পারে।
- উপযোগী প্রকরণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম সঞ্চিত হলে দীর্ঘ সময়ে নতুন অভিযোজন ও বিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
অভিযোজন কীভাবে জীবকে পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে?
- অভিযোজন জীবকে নির্দিষ্ট পরিবেশের প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
- এটি খাদ্য সংগ্রহ, শত্রুর হাত থেকে রক্ষা বা জল সংরক্ষণের মতো কাজে সুবিধা দিতে পারে।
- ফলে জীবের বেঁচে থাকা ও প্রজননের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
জীবাশ্মকে বিবর্তনের প্রমাণ বলা হয় কেন?
- জীবাশ্ম অতীতে বসবাসকারী জীবের দেহাবশেষ বা তাদের কার্যকলাপের সংরক্ষিত চিহ্ন।
- বিভিন্ন ভূস্তরের জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে প্রাচীন জীবের গঠন ও পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
- তাই জীবের ক্রমপরিবর্তন ও বিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে জীবাশ্ম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
পরিবেশ, তার সম্পদ ও সংরক্ষণ
খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
- খাদ্যশৃঙ্খল হলো খাদ্য ও শক্তি প্রবাহের সরল ধারাবাহিক পথ।
- খাদ্যজাল হলো একাধিক আন্তঃসংযুক্ত খাদ্যশৃঙ্খলের সমষ্টি।
- খাদ্যজাল একটি বাস্তুতন্ত্রে জীবদের খাদ্যসম্পর্ককে খাদ্যশৃঙ্খলের তুলনায় বেশি বাস্তবভাবে প্রকাশ করে।
বাস্তুতন্ত্রে বিয়োজকের গুরুত্ব লেখো।
- বিয়োজক মৃত জীব ও জৈব বর্জ্যকে ভেঙে সরল পদার্থে পরিণত করে।
- এতে মৃত জৈব পদার্থ জমে পরিবেশ দূষিত হওয়া কমে।
- খনিজ পুষ্টি উপাদান পরিবেশে ফিরিয়ে দিয়ে পুষ্টির পুনঃচক্রণে সাহায্য করে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কেন প্রয়োজন? তিনটি কারণ লেখো।
- বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্তি রোধ করতে।
- বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে।
- খাদ্য, ঔষধ, জিনগত সম্পদসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জৈবসম্পদ সংরক্ষণ করতে।
ওজোন স্তর ক্ষয়ের ক্ষতিকর প্রভাবগুলি লেখো।
- পৃথিবীর পৃষ্ঠে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির পরিমাণ বাড়তে পারে।
- মানুষের ত্বক ও চোখের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
- উদ্ভিদ, জলজ জীব এবং অন্যান্য জীবের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের তিনটি উপায় লেখো।
- জল, জ্বালানি ও অন্যান্য সম্পদের অপচয় কমিয়ে সঠিকভাবে ব্যবহার করা।
- বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ করা।
- পুনর্ব্যবহার, পুনঃচক্রণ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
Part 4 — ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ৫ নম্বরের প্রশ্ন
বিশ্লেষণধর্মী, ব্যাখ্যামূলক, পার্থক্য ও প্রয়োগভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর।
প্রশ্নের প্রতিটি অংশ আলাদা করে উত্তর করবে। প্রয়োজন হলে সংজ্ঞা, কারণ, ধাপ, উদাহরণ ও উপসংহার ব্যবহার করবে। শুধু মুখস্থ সংজ্ঞা লিখে ৫ নম্বর পাওয়ার চেষ্টা করবে না।
জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
মানুষের প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ধারণা ব্যাখ্যা করো। একটি প্রতিবর্ত পথের বিভিন্ন অংশের নাম লেখো এবং একটি উদাহরণ দাও।
কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে মস্তিষ্কের সচেতন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই দ্রুত ও অনৈচ্ছিকভাবে যে প্রতিক্রিয়া ঘটে তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। এটি দেহকে আকস্মিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবর্ত পথের প্রধান অংশ:
- গ্রাহক বা রিসেপ্টর
- সংজ্ঞাবহ বা অ্যাফারেন্ট স্নায়ু
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দিষ্ট অংশ
- চালক বা ইফারেন্ট স্নায়ু
- কার্যকরী অঙ্গ বা পেশি/গ্রন্থি
উদাহরণ: গরম বস্তু স্পর্শ করলে দ্রুত হাত সরিয়ে নেওয়া।
স্নায়ুতন্ত্র ও অন্তঃক্ষরা তন্ত্র কীভাবে দেহের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে তা ব্যাখ্যা করো।
দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজকে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করার জন্য স্নায়ুতন্ত্র এবং অন্তঃক্ষরা তন্ত্র পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে।
- স্নায়ুতন্ত্র বৈদ্যুতিক/স্নায়ুসংকেতের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য পরিবহন করে।
- হরমোন রক্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অঙ্গে পৌঁছে রাসায়নিক সংকেত দেয়।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া সাধারণত দ্রুত এবং নির্দিষ্ট হয়।
- হরমোনের ক্রিয়া তুলনামূলক ধীর হলেও অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- উভয় তন্ত্র একসঙ্গে কাজ করে দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ভারসাম্য এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
উদ্ভিদের চলন ও প্রাণীর চলনের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো। উদ্ভিদের ফোটোট্রপিজমের একটি উদাহরণ দাও।
- প্রাণীর চলন সাধারণত দ্রুত এবং স্নায়ু ও পেশির সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয়।
- উদ্ভিদের চলন সাধারণত ধীর এবং বৃদ্ধি বা তুরগর পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রাণীর চলনে স্নায়ুতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কিন্তু উদ্ভিদে হরমোন ও বৃদ্ধি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- উদ্ভিদের আলো, অভিকর্ষ, জল ইত্যাদি উদ্দীপকের প্রতি দিকনির্দেশিত চলন দেখা যায়।
- উদাহরণ হিসেবে কাণ্ডের আলোর দিকে বেঁকে যাওয়াকে ফোটোট্রপিজম বলা হয়।
ইনসুলিন, থাইরক্সিন ও অ্যাড্রেনালিনের উৎস ও প্রধান কাজ আলোচনা করো।
অগ্ন্যাশয়ের বিটা-কোষ থেকে ক্ষরিত হয়। রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়। দেহের বিপাকীয় ক্রিয়া, বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির মজ্জা থেকে ক্ষরিত হয়। জরুরি বা চাপের পরিস্থিতিতে দেহকে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত করে।
জীবনের প্রবাহমানতা
মাইটোসিসের বিভিন্ন পর্যায় ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করো এবং এর জৈবিক গুরুত্ব লেখো।
- প্রোফেজ: ক্রোমাটিন ঘনীভূত হয়ে দৃশ্যমান ক্রোমোজোম তৈরি করে।
- মেটাফেজ: ক্রোমোজোমগুলি কোষের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে।
- অ্যানাফেজ: সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজিত হয়ে বোন ক্রোমাটিড বিপরীত মেরুর দিকে যায়।
- টেলোফেজ: দুই মেরুতে নতুন নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।
গুরুত্ব:
- দেহের বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে।
- ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পরিবর্তনে সাহায্য করে।
- ক্রোমোজোম সংখ্যা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মিয়োসিসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা রক্ষায় এর ভূমিকা কী?
মিয়োসিস হলো এমন এক ধরনের কোষ বিভাজন যাতে জননকোষ সৃষ্টির সময় ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।
- গ্যামেট উৎপাদনে সাহায্য করে।
- গ্যামেটে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক করে।
- নিষেকের সময় দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট তৈরি করে।
- ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রজাতির নির্দিষ্ট ক্রোমোজোম সংখ্যা বজায় থাকে।
- জিনগত প্রকরণ সৃষ্টিতেও মিয়োসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যৌন জননের ধাপগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো এবং যৌন জননের গুরুত্ব লেখো।
- মিয়োসিসের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট সৃষ্টি হয়।
- পুরুষ ও স্ত্রী গ্যামেট পরস্পরের কাছে পৌঁছায়।
- দুটি গ্যামেটের মিলনে নিষেক ঘটে এবং জাইগোট সৃষ্টি হয়।
- জাইগোট ধারাবাহিক মাইটোসিসের মাধ্যমে ভ্রূণ ও নতুন জীব তৈরি করে।
গুরুত্ব:
- প্রজন্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
- জিনগত প্রকরণ সৃষ্টি করে।
- বিবর্তন ও অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় বৈচিত্র্য তৈরিতে সাহায্য করে।
ফুলের যৌন জনন প্রক্রিয়ায় পরাগায়ন, পরাগনালি গঠন, নিষেক ও বীজ গঠনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
- পরাগায়নের মাধ্যমে পরাগরেণু পুংকেশরের পরাগধানী থেকে গর্ভমুণ্ডে পৌঁছায়।
- উপযুক্ত পরিবেশে পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালি তৈরি করে।
- পরাগনালি গর্ভদণ্ডের মধ্য দিয়ে ডিম্বকে পৌঁছায় এবং পুরুষ গ্যামেটকে বহন করে।
- পুরুষ ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়।
- নিষেকের পরে ডিম্বক বীজে এবং গর্ভাশয় সাধারণত ফলে পরিণত হয়।
বংশগতি ও জিনগত রোগ
মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষাটি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
মেন্ডেল বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিশুদ্ধ মটরগাছের মধ্যে সংকরায়ণ করে বংশগতির নিয়ম ব্যাখ্যা করেন।
উদাহরণ:
বিশুদ্ধ লম্বা গাছ (TT) × বিশুদ্ধ খাটো গাছ (tt)
F₁: সব গাছ Tt এবং লম্বা।
F₁-এর আত্মসংকরায়ণ: Tt × Tt
F₂ জিনোটাইপিক অনুপাত: 1 TT : 2 Tt : 1 tt
F₂ ফিনোটাইপিক অনুপাত: 3 লম্বা : 1 খাটো
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
- মানুষের স্ত্রী-লিঙ্গের যৌন ক্রোমোজোম XX।
- পুরুষের যৌন ক্রোমোজোম XY।
- স্ত্রীর ডিম্বাণুতে কেবল X ক্রোমোজোম থাকে।
- পুরুষের শুক্রাণু দুই ধরনের—X এবং Y।
- X-শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে XX এবং Y-শুক্রাণু নিষিক্ত করলে XY সন্তান হয়।
তাই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পুরুষের X বা Y-বাহী শুক্রাণুর ভূমিকা রয়েছে।
বর্ণান্ধতা ও হিমোফিলিয়ার বংশগত বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
বর্ণান্ধতা ও হিমোফিলিয়া সাধারণত X-ক্রোমোজোম-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন বংশগত রোগ।
- পুরুষের একটি মাত্র X ক্রোমোজোম থাকে, তাই ত্রুটিপূর্ণ অ্যালিল থাকলে রোগ প্রকাশ পেতে পারে।
- নারীর দুটি X ক্রোমোজোম থাকায় একটি ত্রুটিপূর্ণ অ্যালিল থাকলে সে সাধারণত বাহক হতে পারে।
- হিমোফিলিয়ায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
- বর্ণান্ধতায় নির্দিষ্ট রঙের মধ্যে পার্থক্য করতে অসুবিধা হয়।
- এই বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় নির্দিষ্ট জিনগত নিয়মে সঞ্চারিত হতে পারে।
জিন, DNA, ক্রোমোজোম ও বংশগতির মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
- DNA হলো জীবের প্রধান বংশগত পদার্থ।
- DNA-এর নির্দিষ্ট কার্যকরী অংশকে জিন বলা হয়।
- DNA প্রোটিন ও অন্যান্য কার্যকরী অণু তৈরির জন্য বংশগত তথ্য বহন করে।
- ক্রোমোজোম হলো নিউক্লিয়াসে থাকা DNA ও প্রোটিনের সুসংগঠিত গঠন।
- জিনের মাধ্যমে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যের তথ্য পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।
অভিব্যক্তি ও অভিযোজন
ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।
- জীবেরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংখ্যায় বংশবিস্তার করতে পারে।
- খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য সম্পদ সীমিত হওয়ায় জীবদের মধ্যে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম হয়।
- একই প্রজাতির জীবদের মধ্যে প্রকরণ থাকে।
- পরিবেশের সঙ্গে বেশি উপযোগী প্রকরণযুক্ত জীবের বেঁচে থাকা ও প্রজননের সম্ভাবনা বেশি হয়।
- উপযোগী বৈশিষ্ট্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম সঞ্চিত হলে দীর্ঘ সময়ে জীবের বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটতে পারে।
সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ কী? উদাহরণসহ বিবর্তনের ক্ষেত্রে এদের গুরুত্ব আলোচনা করো।
সমসংস্থ অঙ্গ: উৎপত্তি ও মৌলিক গঠন একই ধরনের হলেও কাজ ভিন্ন হতে পারে। যেমন—মানুষের হাত ও বাদুড়ের ডানা।
সমবৃত্তীয় অঙ্গ: উৎপত্তি ও গঠন ভিন্ন হলেও কাজ একই বা কাছাকাছি হতে পারে। যেমন—পাখির ডানা ও পতঙ্গের ডানা।
সমসংস্থ অঙ্গ সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিচ্যুত বিবর্তনের ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। সমবৃত্তীয় অঙ্গ ভিন্ন উৎসের জীবের একই ধরনের পরিবেশগত চাহিদার কারণে অনুরূপ কাজের অঙ্গ গঠনের প্রমাণ দেয়।
জীবাশ্ম কী? বিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে জীবাশ্মের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
প্রাচীন জীবের দেহাবশেষ, ছাপ বা তাদের কার্যকলাপের সংরক্ষিত চিহ্নকে জীবাশ্ম বলে।
- বিভিন্ন ভূস্তরে বিভিন্ন যুগের জীবাশ্ম পাওয়া যায়।
- এগুলি প্রাচীন জীবের গঠন সম্পর্কে তথ্য দেয়।
- কিছু জীবাশ্মে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যের সংযোগ দেখা যায়।
- জীবাশ্মের কালানুক্রমিক অধ্যয়ন জীবের পরিবর্তনের ইতিহাস বুঝতে সাহায্য করে।
- তাই বিবর্তনের পক্ষে জীবাশ্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
মরুভূমির উদ্ভিদ ও জলজ উদ্ভিদের অভিযোজনের মধ্যে তুলনা করো।
মরুভূমির উদ্ভিদ:
- জলক্ষয় কমানোর জন্য পাতা কাঁটায় পরিণত হতে পারে।
- কাণ্ড বা অন্যান্য অংশে জল সঞ্চিত থাকতে পারে।
- বাষ্পমোচন কমানোর জন্য পুরু কিউটিকল দেখা যেতে পারে।
জলজ উদ্ভিদ:
- জলে ভাসমান পাতায় বায়ুস্থান থাকতে পারে।
- জল ও খনিজ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মূলতন্ত্রের গঠন পরিবর্তিত হতে পারে।
- জলে ভাসমান পাতায় রন্ধ্র সাধারণত উপরের পৃষ্ঠে বেশি থাকে।
পরিবেশ, সম্পদ ও সংরক্ষণ
বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ ব্যাখ্যা করো।
- সূর্য বাস্তুতন্ত্রের অধিকাংশ শক্তির প্রধান উৎস।
- সবুজ উদ্ভিদ আলোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- উৎপাদক থেকে প্রাথমিক খাদক এবং পরবর্তী খাদকদের মধ্যে খাদ্যের মাধ্যমে শক্তি স্থানান্তরিত হয়।
- প্রতিটি ট্রফিক স্তরে শক্তির একটি বড় অংশ বিপাকীয় ক্রিয়ায় তাপ হিসেবে পরিবেশে ছড়িয়ে যায়।
- তাই খাদ্যশৃঙ্খলে এক স্তর থেকে পরবর্তী স্তরে ব্যবহারযোগ্য শক্তির পরিমাণ কমতে থাকে এবং শক্তির প্রবাহ সাধারণত একমুখী।
খাদ্যশৃঙ্খল, খাদ্যজাল ও ট্রফিক স্তরের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
বাস্তুতন্ত্রে জীবদের খাদ্যগ্রহণ ও শক্তি স্থানান্তরের সম্পর্ককে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করা যায়।
- উৎপাদক সাধারণত প্রথম ট্রফিক স্তরে থাকে।
- উৎপাদককে খাওয়া প্রাথমিক খাদক দ্বিতীয় ট্রফিক স্তরে থাকে।
- তার পরবর্তী খাদকরা তৃতীয় বা উচ্চতর ট্রফিক স্তরে অবস্থান করতে পারে।
- সরল ধারাবাহিক খাদ্যসম্পর্ককে খাদ্যশৃঙ্খল বলা হয়।
- একাধিক আন্তঃসংযুক্ত খাদ্যশৃঙ্খল মিলে খাদ্যজাল তৈরি করে।
জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণ এবং এর সংরক্ষণের উপায় আলোচনা করো।
জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ:
- আবাসস্থল ধ্বংস ও বনভূমি হ্রাস।
- অতিরিক্ত শিকার ও অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য।
- দূষণ ও পরিবেশের পরিবর্তন।
- আক্রমণকারী বহিরাগত প্রজাতির বিস্তার।
সংরক্ষণের উপায়:
- জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত বন গড়ে তোলা।
- বন্যপ্রাণী ও তাদের আবাসস্থল রক্ষা করা।
- প্রয়োজন অনুযায়ী বীজব্যাংক, চিড়িয়াখানা ইত্যাদির মাধ্যমে ex-situ conservation করা।
প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ কেন জরুরি? জল, বন ও শক্তি সম্পদ সংরক্ষণের কার্যকর উপায়গুলি লেখো।
প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত এবং জীবজগতের জীবনধারণ ও মানুষের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলির সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ প্রয়োজন।
জল:
- জলের অপচয় বন্ধ করা।
- বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা।
- জলদূষণ কমানো।
বন:
- বন উজাড় নিয়ন্ত্রণ করা।
- বৃক্ষরোপণ ও বন পুনরুদ্ধার করা।
শক্তি:
- শক্তির অপচয় কমানো।
- সৌর ও অন্যান্য পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
Part 5 — ১০টি রচনাধর্মী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, কারণ, উদাহরণ ও প্রয়োগভিত্তিক দীর্ঘ উত্তর।
রচনাধর্মী উত্তরে প্রথমে মূল বক্তব্য লিখবে, তারপর ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট বা উপশিরোনাম দিয়ে ব্যাখ্যা করবে। যেখানে প্রয়োজন চিত্র, উদাহরণ বা বৈজ্ঞানিক পরিভাষা ব্যবহার করলে উত্তর আরও পরিষ্কার হয়।
মানুষের স্নায়ুতন্ত্র কীভাবে উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তার উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা একটি প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
পরিবেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্দীপনা গ্রহণ করে তার উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার জন্য মানুষের স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে উদ্দীপনার তথ্য গ্রহণ, পরিবহন, বিশ্লেষণ এবং প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ঘটনাক্রম
- কোনো বাহ্যিক উদ্দীপনা, যেমন অতিরিক্ত তাপ, ত্বকের গ্রাহককে উদ্দীপিত করে।
- গ্রাহক থেকে সৃষ্ট স্নায়ুসংকেত সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছায়।
- সেখানে সংকেতের সমন্বয় ঘটে এবং উপযুক্ত প্রতিক্রিয়ার জন্য নির্দেশ তৈরি হয়।
- চালক স্নায়ুর মাধ্যমে নির্দেশ কার্যকরী অঙ্গের কাছে পৌঁছায়।
- সংশ্লিষ্ট পেশি সংকুচিত হয়ে হাতকে দ্রুত গরম বস্তু থেকে সরিয়ে নেয়।
এই দ্রুত ও অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়াই প্রতিবর্ত ক্রিয়া। এর ফলে আকস্মিক ক্ষতি থেকে দেহ অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সুরক্ষা পায়।
উদ্ভিদ হরমোনের সাহায্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিভিন্ন চলন কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় তা ব্যাখ্যা করো। অক্সিনের ভূমিকা বিশেষভাবে লেখো।
উদ্ভিদের দেহে স্নায়ুতন্ত্র না থাকলেও বিভিন্ন রাসায়নিক বার্তাবাহক বা উদ্ভিদ হরমোনের সাহায্যে বৃদ্ধি, বিকাশ এবং উদ্দীপনাজনিত বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়।
অক্সিনের ভূমিকা
- অক্সিন উদ্ভিদের কোষের বৃদ্ধি ও প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কাণ্ডের অগ্রভাগে আলো একদিকে পড়লে অক্সিন ছায়াযুক্ত দিকে তুলনামূলক বেশি সঞ্চিত হতে পারে।
- ছায়াযুক্ত দিকে কোষের প্রসারণ বেশি হওয়ায় কাণ্ড আলোর দিকে বেঁকে যায়।
- এই আলোক-নির্দেশিত বৃদ্ধিজনিত চলনকে ফোটোট্রপিজম বলে।
- অক্সিন ছাড়াও জিবেরেলিন, সাইটোকাইনিন, অ্যাবসিসিক অ্যাসিড এবং ইথিলিন উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই উদ্ভিদের হরমোনগুলি বাহ্যিক উদ্দীপনার প্রতি উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের প্রক্রিয়া, পার্থক্য এবং জীবজগতে তাদের গুরুত্ব আলোচনা করো।
জীবদেহে নতুন কোষ সৃষ্টি, বৃদ্ধি, ক্ষতিপূরণ এবং যৌন জননের জন্য বিভিন্ন ধরনের কোষ বিভাজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাইটোসিস ও মিয়োসিস এই দুই ধরনের বিভাজনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব আলাদা।
মাইটোসিস
- একবার নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়।
- সাধারণত দুটি অপত্যকোষ তৈরি হয়।
- ক্রোমোজোম সংখ্যা মূল কোষের সমান থাকে।
- দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষতিপূরণে গুরুত্বপূর্ণ।
মিয়োসিস
- পরপর দুটি নিউক্লিয়ার বিভাজন ঘটে।
- সাধারণত চারটি হ্যাপ্লয়েড অপত্যকোষ তৈরি হয়।
- ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।
- জননকোষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রধান পার্থক্য
মাইটোসিস মূলত দেহকোষের বৃদ্ধি ও ক্ষতিপূরণের সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে মিয়োসিস যৌন জননের জন্য গ্যামেট তৈরির সঙ্গে যুক্ত। মিয়োসিসে জিনগত প্রকরণ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।
মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষা থেকে কীভাবে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের ধারণা পাওয়া যায় তা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল মটরগাছের বিভিন্ন বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে বংশগতির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আবিষ্কার করেন।
একসংকর জনন
একটি মাত্র বিপরীত বৈশিষ্ট্যজোড়া নিয়ে যে সংকরায়ণ করা হয় তাকে একসংকর জনন বলে।
উদাহরণ হিসেবে বিশুদ্ধ লম্বা গাছকে TT এবং বিশুদ্ধ খাটো গাছকে tt ধরা যাক।
TT × tt → F₁ = সব Tt
F₁-এর সব গাছ লম্বা হওয়ায় বোঝা যায় যে লম্বা বৈশিষ্ট্যটি এখানে প্রকট এবং খাটো বৈশিষ্ট্যটি প্রচ্ছন্ন।
এরপর F₁-এর আত্মসংকরায়ণে—
Tt × Tt → TT, Tt, Tt, tt
ফলে F₂ জনুতে জিনোটাইপিক অনুপাত হয় 1 : 2 : 1 এবং ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় 3 লম্বা : 1 খাটো।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়।
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্রোমোজোমীয় প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো। কেন সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা থাকে তা যুক্তিসহ লেখো।
মানুষের দেহকোষে যৌন ক্রোমোজোমের গঠন স্ত্রী ও পুরুষের মধ্যে আলাদা। স্ত্রী সাধারণত XX এবং পুরুষ XY যৌন ক্রোমোজোম বহন করে।
প্রক্রিয়া
- স্ত্রী থেকে উৎপন্ন প্রতিটি ডিম্বাণুতে X ক্রোমোজোম থাকে।
- পুরুষ থেকে উৎপন্ন শুক্রাণু দুই ধরনের হতে পারে— X-বাহী অথবা Y-বাহী।
- X-বাহী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে XX জাইগোট সৃষ্টি হয়।
- Y-বাহী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে XY জাইগোট সৃষ্টি হয়।
তাই জাইগোটের যৌন ক্রোমোজোমের সমন্বয় নির্ধারণে পুরুষের X অথবা Y-বাহী শুক্রাণু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্ণান্ধতা ও হিমোফিলিয়ার বংশগতি ব্যাখ্যা করো এবং পুরুষদের মধ্যে এই রোগের প্রকাশ তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ার কারণ লেখো।
বর্ণান্ধতা ও হিমোফিলিয়া সাধারণত X-ক্রোমোজোম-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন বংশগত রোগ হিসেবে বিবেচিত।
বর্ণান্ধতা
বর্ণান্ধতায় আক্রান্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু রঙের মধ্যে পার্থক্য করতে অসুবিধা অনুভব করেন। এটি সাধারণত X-ক্রোমোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন অ্যালিলের মাধ্যমে বংশগত হয়।
হিমোফিলিয়া
হিমোফিলিয়ায় রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এটিও সাধারণত X-ক্রোমোজোম-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য হিসেবে বংশগত হয়।
পুরুষে বেশি প্রকাশের কারণ
- পুরুষের যৌন ক্রোমোজোম XY এবং তার একটি মাত্র X ক্রোমোজোম থাকে।
- সেই X-এ রোগের প্রচ্ছন্ন অ্যালিল থাকলে Y ক্রোমোজোমে সমজাতীয় অ্যালিল না থাকায় রোগ প্রকাশ পেতে পারে।
- নারীর দুটি X ক্রোমোজোম থাকায় একটি ত্রুটিপূর্ণ অ্যালিলের ক্ষেত্রে অন্য X-এর স্বাভাবিক অ্যালিল রোগ প্রকাশকে প্রতিহত করতে পারে।
ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের মূল বক্তব্যগুলি ব্যাখ্যা করো। পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনের সম্পর্কও আলোচনা করো।
চার্লস ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব অনুযায়ী জীবদের মধ্যে বিদ্যমান প্রকরণের মধ্যে পরিবেশের সঙ্গে উপযোগী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবদের টিকে থাকা ও প্রজননের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।
তত্ত্বের প্রধান বক্তব্য
- জীবেরা অতিরিক্ত সংখ্যায় বংশবিস্তার করতে পারে।
- খাদ্য, স্থান ও অন্যান্য সম্পদ সীমিত হওয়ায় অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম হয়।
- একই প্রজাতির জীবদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রকরণ দেখা যায়।
- অনুকূল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব পরিবেশে তুলনামূলক সুবিধা পেতে পারে।
- উপযোগী বৈশিষ্ট্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম সঞ্চিত হলে দীর্ঘ সময়ে বিবর্তনীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে।
অভিযোজনের সঙ্গে সম্পর্ক
পরিবেশের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যে বৈশিষ্ট্য জীবকে টিকে থাকতে সাহায্য করে তা অভিযোজনের অংশ হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক নির্বাচন উপযোগী বৈশিষ্ট্যগুলির বিস্তার ঘটাতে পারে।
বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খল, ট্রফিক স্তর এবং শক্তির প্রবাহের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
বাস্তুতন্ত্রে জীবদের মধ্যে খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে পদার্থ ও শক্তির স্থানান্তর ঘটে। এই সম্পর্ককে খাদ্যশৃঙ্খল ও ট্রফিক স্তরের সাহায্যে বোঝানো যায়।
ট্রফিক স্তর
- উৎপাদক সাধারণত প্রথম ট্রফিক স্তর।
- প্রাথমিক খাদক দ্বিতীয় ট্রফিক স্তর।
- মাধ্যমিক ও উচ্চতর খাদক পরবর্তী ট্রফিক স্তরে অবস্থান করে।
শক্তির প্রবাহ
সূর্যের শক্তি সবুজ উদ্ভিদ আলোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। উৎপাদককে খাওয়ার মাধ্যমে শক্তি প্রাথমিক খাদক এবং তারপর উচ্চতর খাদকদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়।
প্রতিটি ট্রফিক স্তরে বিপাকীয় কাজের সময় শক্তির একটি বড় অংশ তাপ হিসেবে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই পরবর্তী ট্রফিক স্তরে ব্যবহারযোগ্য শক্তির পরিমাণ কমতে থাকে।
এই কারণে বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ মূলত একমুখী।
জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ, এর পরিবেশগত প্রভাব এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি আলোচনা করো।
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সমগ্র পৃথিবীতে বিভিন্ন জীবের প্রজাতিগত, জিনগত ও বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যকে জীববৈচিত্র্য বলা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হ্রাসের কারণ
- বনভূমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস।
- অতিরিক্ত শিকার ও অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য।
- জল, বায়ু ও মাটির দূষণ।
- জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিবর্তন।
- আক্রমণকারী বহিরাগত প্রজাতির বিস্তার।
প্রভাব
- প্রজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি বৃদ্ধি।
- বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যজাল ও ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া।
- প্রাকৃতিক সম্পদ ও জিনগত বৈচিত্র্য হ্রাস।
সংরক্ষণ
জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত বন তৈরি, প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং বীজব্যাংক বা অন্যান্য ex-situ পদ্ধতির মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা যায়।
প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ কেন জরুরি? জল, বন, শক্তি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কার্যকর পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।
মানুষের জীবনধারণ, কৃষি, শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার ও অপচয় ভবিষ্যতে সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাই সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার ও সংরক্ষণ প্রয়োজন।
জল সংরক্ষণ
- জলের অপচয় কমানো।
- বৃষ্টির জল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা।
- জলাশয় দূষণ রোধ করা।
বন সংরক্ষণ
- অনিয়ন্ত্রিত বন উজাড় বন্ধ করা।
- বৃক্ষরোপণ ও বন পুনরুদ্ধার করা।
- বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা।
শক্তি সংরক্ষণ
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় কমানো।
- সৌর ও অন্যান্য পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ
- শিকার ও অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা।
- জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য রক্ষা করা।
এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করলে বর্তমানের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব।
Part 6 — গুরুত্বপূর্ণ Diagram & Labeling
চিত্র আঁকা, অংশ চিহ্নিত করা, চিত্রভিত্তিক প্রশ্ন ও পরীক্ষায় কী কী Label মনে রাখতে হবে।
প্রতিটি চিত্রের নাম, Label এবং চিত্রটির সঙ্গে সম্পর্কিত ১–২টি মূল বৈজ্ঞানিক তথ্যও মনে রাখবে। পরীক্ষায় চিত্রের অংশ চিহ্নিতকরণ বা চিত্র দেখে প্রশ্ন আসতে পারে।
মানব মস্তিষ্কের সরল চিত্র
মস্তিষ্কের প্রধান অংশগুলির নাম লেখো এবং লঘুমস্তিষ্কের একটি প্রধান কাজ উল্লেখ করো।
উত্তর:মস্তিষ্কের প্রধান অংশগুলির মধ্যে বৃহৎ মস্তিষ্ক, লঘুমস্তিষ্ক ও সুষুম্নাশীর্ষ উল্লেখযোগ্য। লঘুমস্তিষ্ক দেহের ভারসাম্য ও পেশির সমন্বয় বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবর্ত চাপ / Reflex Arc
প্রতিবর্ত চাপের প্রধান অংশগুলি চিত্রসহ দেখাও।
উত্তর:গ্রাহক → সংজ্ঞাবহ স্নায়ু → কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দিষ্ট অংশ → চালক স্নায়ু → কার্যকরী অঙ্গ। এই ধারাবাহিক পথেই প্রতিবর্ত প্রতিক্রিয়ার সংকেত চলাচল করে।
মাইটোসিসের পর্যায়সমূহ
মাইটোসিসের পর্যায়গুলি সঠিক ক্রমে লেখো এবং মাইটোসিসের দুটি গুরুত্ব উল্লেখ করো।
উত্তর:প্রোফেজ → মেটাফেজ → অ্যানাফেজ → টেলোফেজ। এরপর সাইটোকাইনেসিসের মাধ্যমে কোষদেহ বিভাজিত হয়। মাইটোসিস জীবের বৃদ্ধি, ক্ষতিপূরণ ও নতুন দেহকোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
ফুলের যৌন জননের জন্য আদর্শ ফুলের চিত্র
একটি আদর্শ ফুলের চিত্র অঙ্কন করে প্রধান প্রজনন অঙ্গগুলি চিহ্নিত করো।
উত্তর লেখার সময়:পুংকেশর ও স্ত্রীকেশরের অংশগুলি আলাদা করে Label করবে। বিশেষভাবে পরাগধানী, গর্ভমুণ্ড, গর্ভদণ্ড, গর্ভাশয় ও ডিম্বক সঠিক স্থানে দেখাতে হবে।
পরাগনালি ও নিষেকের সরল চিত্র
পরাগনালি কীভাবে ডিম্বকে পৌঁছায় এবং নিষেকের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক?
উত্তর:পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়ে অঙ্কুরিত হলে পরাগনালি গঠিত হয়। এটি গর্ভদণ্ডের মধ্য দিয়ে ডিম্বকের দিকে অগ্রসর হয় এবং পুরুষ গ্যামেটকে নিষেকের স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
মানব পুরুষ প্রজননতন্ত্র — Label Practice
পুরুষ প্রজননতন্ত্রের একটি চিত্রে শুক্রাশয়, শুক্রবাহী নালি, শুক্রথলি, প্রস্টেট গ্রন্থি ও মূত্রনালি চিহ্নিত করো।
গুরুত্বপূর্ণ:এখানে শুধু অঙ্গের নাম মুখস্থ করলেই হবে না। কোন অঙ্গ কোথায় অবস্থান করে এবং তার প্রধান কাজ কী, সেটিও সংক্ষেপে মনে রাখবে।
মানব স্ত্রী প্রজননতন্ত্র — Label Practice
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের প্রধান অঙ্গগুলির নাম লেখো এবং ডিম্বাশয়ের একটি প্রধান কাজ উল্লেখ করো।
উত্তর:প্রধান অঙ্গগুলির মধ্যে ডিম্বাশয়, ডিম্বনালি, জরায়ু, জরায়ুমুখ ও যোনিপথ উল্লেখযোগ্য। ডিম্বাশয়ে স্ত্রী গ্যামেট বা ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় এবং স্ত্রী যৌন হরমোনও ক্ষরিত হয়।
একসংকর জননের বংশগত ছক
একসংকর জননের সাহায্যে F₂ জনুতে জিনোটাইপিক ও ফিনোটাইপিক অনুপাত দেখাও।
উত্তর:Tt × Tt থেকে TT, Tt, Tt ও tt পাওয়া যায়। তাই জিনোটাইপিক অনুপাত 1 : 2 : 1 এবং প্রকট-প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের ফিনোটাইপিক অনুপাত 3 : 1।
মানবের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্রোমোজোমীয় ছক
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্রোমোজোমীয় ছক অঙ্কন করো।
উত্তর:স্ত্রী সাধারণত XX এবং পুরুষ XY যৌন ক্রোমোজোম বহন করে। ডিম্বাণুতে X থাকে, কিন্তু শুক্রাণু X অথবা Y হতে পারে। তাই X-বাহী শুক্রাণুর সঙ্গে মিলনে XX এবং Y-বাহী শুক্রাণুর সঙ্গে মিলনে XY জাইগোট সৃষ্টি হয়।
X-ক্রোমোজোম-সংযুক্ত বংশগতির সরল ছক
X-ক্রোমোজোম-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে বাহক মায়ের বংশগতির সম্ভাব্য ফলাফল একটি ছকের সাহায্যে দেখাও।
উত্তর:বাহক মায়ের X-ক্রোমোজোমে ত্রুটিপূর্ণ প্রচ্ছন্ন অ্যালিল থাকতে পারে। পুত্রের একমাত্র X ক্রোমোজোমে সেই অ্যালিল এলে সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেতে পারে।
সমসংস্থ অঙ্গের ধারণা
কঙ্কাল পরিকল্পনা →
সমসংস্থ অঙ্গ কী? দুটি উদাহরণ দাও এবং বিবর্তনের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব লেখো।
উত্তর:যেসব অঙ্গের মৌলিক গঠন ও উৎপত্তিগত সম্পর্ক একই হলেও কাজ ভিন্ন হতে পারে, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। মানুষের হাত ও বাদুড়ের ডানা এর উদাহরণ। এগুলি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিচ্যুত বিবর্তনের ধারণাকে সমর্থনকারী প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রাকৃতিক নির্বাচন — ধারণাগত Flow Diagram
প্রাকৃতিক নির্বাচনের মূল ধারণাটি একটি Flow Diagram-এর সাহায্যে প্রকাশ করো।
উত্তর:জীবদের মধ্যে প্রকরণ থাকে এবং সীমিত সম্পদের জন্য অস্তিত্বের সংগ্রাম ঘটে। পরিবেশের সঙ্গে বেশি উপযোগী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের টিকে থাকা ও প্রজননের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। দীর্ঘ সময়ে এই প্রক্রিয়া বিবর্তনীয় পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
খাদ্যশৃঙ্খল ও ট্রফিক স্তর
একটি সরল খাদ্যশৃঙ্খল অঙ্কন করে প্রতিটি ট্রফিক স্তর চিহ্নিত করো।
উত্তর:সূর্য → উদ্ভিদ → তৃণভোজী → মাংসাশী → উচ্চতর খাদক। উৎপাদক প্রথম ট্রফিক স্তরে এবং তাদের খাদকরা পরবর্তী ট্রফিক স্তরে অবস্থান করে। খাদ্যশৃঙ্খলে শক্তি এক স্তর থেকে পরবর্তী স্তরে স্থানান্তরিত হয়।
শক্তির প্রবাহ — Energy Flow
বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহের একটি চিত্র অঙ্কন করো। কেন প্রতিটি ট্রফিক স্তরে শক্তির পরিমাণ কমে যায়?
উত্তর:সূর্যের শক্তি উৎপাদক গ্রহণ করে। খাদ্যের মাধ্যমে তা পরবর্তী ট্রফিক স্তরে স্থানান্তরিত হয়। প্রতিটি স্তরে জীবের বিপাকীয় ক্রিয়ায় শক্তির একটি বড় অংশ তাপ হিসেবে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই পরবর্তী স্তরে ব্যবহারযোগ্য শক্তির পরিমাণ কমে যায়।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ধারণাগত চিত্র
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের In-situ ও Ex-situ পদ্ধতি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:জীবকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে সংরক্ষণ করাকে In-situ conservation বলা হয়। জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য এর উদাহরণ।
স্বাভাবিক আবাসস্থলের বাইরে জীব বা তাদের জিনগত সম্পদ সংরক্ষণ করাকে Ex-situ conservation বলা হয়। বীজব্যাংক ও চিড়িয়াখানা এর উদাহরণ।