অষ্টম শ্রেণী । চন্দ্রগুপ্ত । গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর ।
১.১ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কৃষিবিদ্যা শেখার জন্য কোথায় গিয়েছিলেন?
উত্তর: দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কৃষিবিদ্যা শেখার জন্য বিলেত গিয়েছিলেন।
১.২ তাঁর রচিত দুটি নাটকের নাম লেখো।
উত্তর: দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচিত দুটি নাটকের নাম হলো—
১) সাজাহান
২) প্রতাপসিংহ
২. নীচের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর একটি বাক্যে লেখো :
২.১ নাট্যাংশটির ঘটনাস্থল ও সময় নির্দেশ করো।
উত্তর: দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশটির ঘটনাস্থল সিন্ধু নদের তীর এবং সময় সন্ধ্যাকাল।
২.২ নাট্যাংশে উল্লিখিত ‘হেলেন’ চরিত্রের পরিচয় দাও।
উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশে উল্লিখিত ‘হেলেন’ হলেন গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার-এর সেনাপতি সেলুকাস-এর কন্যা।
২.৩ ‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ।’ – উদ্ধৃতাংশের বক্তা কে?
উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশে ‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ’ উক্তিটির বক্তা হলেন ভারতীয় রাজা পুরু।
২.৪ ‘জগতে একটা কীর্তি রেখে যেতে চাই’ – বক্তা কীভাবে এই কীর্তি রেখে যেতে চান?
উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশে উক্ত উক্তির বক্তা গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার দিগ্বিজয়ের মাধ্যমে কীর্তি রেখে যেতে চান।
২.৫ ‘সম্রাট, আমায় বধ না করে বন্দি করতে পারবেন না।’—বক্তাকে ‘বন্দি’ করার প্রসঙ্গ এসেছে কেন?
উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশে চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক শিবিরে প্রবেশ করে যুদ্ধকৌশল জানার সময় গুপ্তচর সন্দেহে অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে বন্দি করার প্রসঙ্গ এসেছে।
৩. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :
৩.১ ‘কী বিচিত্র এই দেশ!’ — বক্তার চোখে এই দেশের বৈচিত্র্য কীভাবে ধরা পড়েছে?
উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশে গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার ভারতের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য দেখে বিস্মিত হন। দিনের প্রচণ্ড সূর্যতাপ, রাত্রির স্নিগ্ধ চাঁদের আলো, বর্ষার গম্ভীর মেঘ, একদিকে হিমালয়ের বরফশৃঙ্গ ও অন্যদিকে নদী ও মরুভূমির বৈপরীত্য তাঁকে এই দেশকে ‘বিচিত্র’ বলে মনে করায়।
৩.২ ‘ভাবলাম—এ একটা জাতি বটে!’ — বক্তা কে? তাঁর এমন ভাবনার কারণ কী?
উত্তর:
উক্ত উক্তির বক্তা হলেন গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার। যুদ্ধে পরাজিত হয়েও ভারতীয় রাজা পুরু যখন ‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ’ প্রত্যাশা করেন, তখন তাঁর আত্মসম্মান, সাহস ও আভিজাত্যে মুগ্ধ হয়ে সেকেন্দার ভারতবাসীকে একটি মহান জাতি বলে উপলব্ধি করেন।
৩.৩ ‘এ দিগ্বিজয় অসম্পূর্ণ রেখে যাচ্ছেন কেন সম্রাট?’—এই প্রশ্নের উত্তরে সম্রাট কী জানালেন?
উত্তর:
সম্রাট সেকেন্দার জানান, পুরুরাজের সঙ্গে যুদ্ধে গ্রিক সৈন্যদল ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়েছে এবং ভারতবর্ষের বীর রাজাদের সঙ্গে দিগ্বিজয় সম্পূর্ণ করতে হলে তাঁর নতুন গ্রিক সৈন্যের প্রয়োজন।
৩.৪ ‘ভারতবাসী মিথ্যা কথা বলতে এখনও শিখে নাই।’—বক্তা কে? কোন সত্য সে উচ্চারণ করেছে?
উত্তর:
উক্ত উক্তির বক্তা চন্দ্রগুপ্ত। তিনি সত্য বলে স্বীকার করেন যে, গ্রিক সেনাপতি সেলুকাস-এর কাছ থেকে গ্রিক বাহিনীর যুদ্ধকৌশল শিখে তা তালপাতায় লিখে নিচ্ছিলেন, গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে নয়।
৩.৫ ‘আমার ইচ্ছা হলো যে দেখে আসি…’—বক্তার মনে কোন ইচ্ছে জেগে উঠেছিল? তার পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর:
চন্দ্রগুপ্তের মনে সেকেন্দারের দিগ্বিজয়ের রহস্য ও যুদ্ধজয়ের কৌশল জানার ইচ্ছে জেগেছিল। সেই উদ্দেশ্যে তিনি গ্রিক শিবিরে গিয়ে সেলুকাসের কাছ থেকে কৌশল শিখলেও ধরা পড়েন; তবে শেষ পর্যন্ত সেকেন্দার তাঁর সাহস ও সত্যবাদিতায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করেন।
৪. নীচের উদ্ধৃত অংশগুলির প্রসঙ্গ ও তাৎপর্য আলোচনা করো :
৪.১ ‘এ শৌর্য পরাজয় করে আনন্দ আছে।’
প্রসঙ্গ:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশে সিন্ধু নদের তীরে ভারতীয় রাজা পুরু-র বীরত্ব ও সাহস প্রসঙ্গে গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার এই উক্তি করেন।
তাৎপর্য:
দুর্বল শত্রুকে পরাজিত করে সেকেন্দারের বীরত্ব তৃপ্ত হয়নি; বীর প্রতিপক্ষ পুরুকে পরাজিত করে তিনি প্রকৃত আনন্দ ও গৌরব অনুভব করেছিলেন।
৪.২ ‘সম্রাট মহানুভব।’
প্রসঙ্গ:
পুরু রাজ্যের অধিকার ফিরে পাওয়ার পর গ্রিক সেনাপতি সেলুকাস সম্রাট সেকেন্দারের উদ্দেশ্যে এই উক্তিটি করেন।
তাৎপর্য:
পুরুর আত্মসম্মান ও সাহসে মুগ্ধ হয়ে সেকেন্দার তাঁকে হৃত রাজ্য ফিরিয়ে দেন, যা সম্রাটের উদারতা ও মহানুভবতার পরিচয় বহন করে।
৪.৩ ‘বাধা পেলাম প্রথম সেই শতদ্রুতীরে।’
প্রসঙ্গ:
নিজের দিগ্বিজয় অভিযানের কথা বলতে গিয়ে সেকেন্দার সেনাপতি সেলুকাসের কাছে এই উক্তি করেন।
তাৎপর্য:
শতদ্রু নদীর তীরে পুরুর প্রতিরোধই ছিল সেকেন্দারের প্রথম প্রকৃত বাধা, যা ভারতীয় রাজাদের বীরত্ব ও শক্তির পরিচয় দেয়।
৪.৪ ‘আমি তারই প্রতিশোধ নিতে বেরিয়েছি।’
প্রসঙ্গ:
চন্দ্রগুপ্ত নিজের নির্বাসন ও রাজ্যচ্যুত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই উক্তি করেন।
তাৎপর্য:
এই উক্তির মাধ্যমে চন্দ্রগুপ্তের হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারের সংকল্প ও দৃঢ় প্রতিশোধস্পৃহা প্রকাশ পায়।
৪.৫ ‘যাও বীর! মুক্ত তুমি।’
প্রসঙ্গ:
চন্দ্রগুপ্তের নির্ভীকতা ও সাহস দেখে সম্রাট সেকেন্দার তাঁকে মুক্ত করার সময় এই উক্তি করেন।
তাৎপর্য:
এই উক্তিতে সেকেন্দারের বীরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং চন্দ্রগুপ্তের নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি প্রকাশ পেয়েছে।
৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :
৫.১ নাট্যাংশটি অবলম্বনে ঐতিহাসিক নাটকের পরিবেশ সৃষ্টিতে নাট্যকারের দক্ষতার পরিচয় দাও।
উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ঐতিহাসিক নাটক রচনায় এক অসাধারণ দক্ষ নাট্যকার ছিলেন। তাঁর রচিত চন্দ্রগুপ্ত নাটকটি ইতিহাসকে ভিত্তি করে নির্মিত হলেও এতে নাটকীয় রস ও কল্পনার সার্থক সংমিশ্রণ ঘটেছে। আলোচ্য নাট্যাংশে নাট্যকার প্রাচীন ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে অত্যন্ত জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন।
এই নাট্যাংশে গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার, তাঁর সেনাপতি সেলুকাস, রাজা পুরু, চন্দ্রগুপ্ত প্রমুখ ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি নাটকের ঐতিহাসিক আবহকে দৃঢ় করেছে। সেকেন্দারের ভারত আক্রমণ, পুরুর সঙ্গে যুদ্ধ, পরাজয়ের মধ্যেও পুরুর আত্মমর্যাদা রক্ষা এবং চন্দ্রগুপ্তের রাজ্য পুনরুদ্ধারের সংকল্প—এই সব ঘটনাবলি নাট্যাংশে ইতিহাসের স্পষ্ট ছাপ রেখে যায়।
নাট্যকার ইতিহাসকে বিকৃত না করে সংলাপ, চরিত্রচিত্রণ ও ঘটনাবিন্যাসের মাধ্যমে অতীত যুগের রাজকীয় পরিবেশ, যুদ্ধের আবহ এবং বীরত্বের আদর্শকে নাটকীয় রূপ দিয়েছেন। এই কারণেই বলা যায়, ঐতিহাসিক নাটকের পরিবেশ সৃষ্টিতে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের দক্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
৫.২ নাট্যাংশে ‘সেকেন্দার’ ও ‘সেলুকস’-এর পরিচয় দাও। সেকেন্দারের সংলাপে ভারত-প্রকৃতির বৈচিত্র্যপূর্ণ রূপ কীভাবে ধরা দিয়েছে, তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
আলোচ্য নাট্যাংশে ‘সেকেন্দার’ হলেন গ্রিক সম্রাট, যিনি দিগ্বিজয়ের উদ্দেশ্যে ভারত আক্রমণ করেন। ‘সেলুকস’ হলেন তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি ও পরামর্শদাতা। নাটকের বিভিন্ন স্থানে সেলুকসকে বিচক্ষণ, বাস্তববাদী ও সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দেখা যায়।
সেকেন্দারের সংলাপে ভারত-প্রকৃতির বৈচিত্র্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি ভারতের প্রকৃতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দিনের প্রচণ্ড সূর্যতাপ, রাত্রির স্নিগ্ধ চাঁদের আলো, বর্ষাকালের গম্ভীর মেঘগর্জন, একদিকে হিমালয়ের তুষারাবৃত শৃঙ্গ এবং অন্যদিকে নদনদীর উদ্দাম প্রবাহ ও মরুভূমির রুক্ষতার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি ভারতের গাছপালা, বনভূমি ও জীবজন্তুর বৈচিত্র্যের কথাও বলেন।
এই সমস্ত বর্ণনার মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষের প্রকৃতির বৈপরীত্য ও সমৃদ্ধি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিদেশি সম্রাট হয়েও সেকেন্দার ভারতের প্রকৃতির এই অনন্য রূপে মুগ্ধ হন, যা নাট্যাংশে ভারতের মহিমা ও বৈচিত্র্যকে উজ্জ্বল করে তোলে।
৫.৩ ‘চমকিত হলাম।’—কার কথায় বক্তা চমকিত হয়েছিলেন? তাঁর চমকিত হওয়ার কারণ কী?
উত্তর:
‘চমকিত হলাম’ উক্তিটির বক্তা গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার। তিনি ভারতীয় রাজা পুরু’র কথায় চমকিত হয়েছিলেন।
যুদ্ধে পরাজিত ও বন্দি হওয়ার পর সেকেন্দার যখন পুরুর কাছে জানতে চান তিনি তাঁর কাছ থেকে কেমন আচরণ প্রত্যাশা করেন, তখন পুরু নির্ভীক কণ্ঠে উত্তর দেন—‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ’। এই উত্তরের মাধ্যমে পুরুর আত্মসম্মান, সাহস, রাজকীয় ব্যক্তিত্ব ও শৌর্যের পরিচয় প্রকাশ পায়। পরাজয়ের মধ্যেও নিজের মর্যাদা অটুট রাখার এই মানসিকতা সেকেন্দারকে গভীরভাবে বিস্মিত করে। তাই পুরুর এই মহৎ ও দৃঢ়চিত্ত মনোভাবেই সেকেন্দার চমকিত হয়েছিলেন।
৫.৪ ‘সম্রাট মহানুভব।’—বক্তা কে? সম্রাটের ‘মহানুভবতা’-র কীরূপ পরিচয় নাট্যাংশে পাওয়া যায়?
উত্তর:
উক্তিটির বক্তা হলেন গ্রিক সেনাপতি সেলুকাস।
নাট্যাংশে সম্রাট সেকেন্দারের মহানুভবতার পরিচয় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় পুরুর সঙ্গে তাঁর আচরণে। যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বন্দি হলেও পুরুর আত্মসম্মান ও সাহস সেকেন্দারকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি বুঝতে পারেন যে পুরু একজন প্রকৃত রাজা ও বীর যোদ্ধা। সেই কারণে শত্রু হয়েও সেকেন্দার পুরুকে অপমান না করে তাঁর রাজ্য ফিরিয়ে দেন।
এই আচরণের মাধ্যমে সেকেন্দার প্রমাণ করেন যে তিনি কেবল দিগ্বিজয়ী যোদ্ধাই নন, বরং বীরের প্রতি বীরের শ্রদ্ধা জানাতে সক্ষম একজন মহানুভব সম্রাট। এই কারণেই সেলুকাস তাঁকে ‘মহানুভব’ বলে অভিহিত করেন।
৫.৫ ইতিহাসের নানান অনুষঙ্গ কীভাবে নাট্যকলেবরে বিধৃত রয়েছে তা ঘটনাধারা বিশ্লেষণ করে আলোচনা করো।
উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশটি ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। এই নাট্যাংশে একাধিক ঐতিহাসিক চরিত্র ও ঘটনার সমাবেশ ঘটেছে। গ্রিক সম্রাট সেকেন্দারের ভারত আক্রমণ, পুরুর সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ, পরাজয়ের মধ্যেও পুরুর আত্মমর্যাদা রক্ষা—এই সবই ঐতিহাসিক ঘটনার নাট্যরূপ।
এছাড়াও চন্দ্রগুপ্তের নির্বাসন, তাঁর রাজ্য পুনরুদ্ধারের সংকল্প, গ্রিক সেনাপতি সেলুকসের কাছ থেকে যুদ্ধকৌশল শিক্ষা—এই ঘটনাগুলিও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে নাট্যাংশে স্থান পেয়েছে। নাট্যকার ইতিহাসের মূল তথ্য অক্ষুণ্ণ রেখে নাটকীয় সংলাপ ও ঘটনাবিন্যাসের মাধ্যমে সেগুলিকে জীবন্ত করে তুলেছেন।
এইভাবে ইতিহাসের বিভিন্ন খণ্ডচিত্রকে নাট্যকলেবরে রূপ দিয়ে নাট্যকার অতীত যুগের রাজনৈতিক পরিবেশ, বীরত্ব ও আদর্শকে পাঠকের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন।
৫.৬ ‘গুপ্তচর’—কাকে ‘গুপ্তচর’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে? সে কি প্রকৃতই গুপ্তচর?
উত্তর:
নাট্যাংশে চন্দ্রগুপ্তকে ‘গুপ্তচর’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
চন্দ্রগুপ্ত প্রকৃতপক্ষে গুপ্তচর ছিলেন না। তিনি নিজের হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে গ্রিক সেনাপতি সেলুকসের কাছ থেকে যুদ্ধবিদ্যা ও সামরিক কৌশল শিখছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে শক্তিশালী হয়ে নিজের অধিকার ফিরে পাওয়া, গ্রিকদের ক্ষতিসাধন করা নয়। তাই ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাঁকে গুপ্তচর বলা হলেও বাস্তবে তিনি গুপ্তচর ছিলেন না।
৫.৭ ‘সেকেন্দার একবার সেলুকসের প্রতি চাহিলেন…’—এই ক্ষণেক দৃষ্টিপাতের কারণ কী?
উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত যখন বলেন যে ভারতবাসী এখনও মিথ্যা বলতে শেখেনি, তখন সেকেন্দার ক্ষণেকের জন্য সেলুকসের দিকে তাকান। এই দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে তিনি সেলুকসকে বোঝাতে চান যে ভারতবাসী সম্পর্কে তাঁর পূর্বের ধারণা সম্পূর্ণ সত্য। ভারতবাসীর বীরত্ব, সততা ও নৈতিক শক্তি যে বাস্তব, এই দৃষ্টিপাত তারই নীরব স্বীকৃতি।
৫.৮ চন্দ্রগুপ্ত ও সেলুকসের সম্পর্ক কীরূপ, তা নাট্যাংশের আলোকে আলোচনা করো।
উত্তর:
নাট্যাংশে চন্দ্রগুপ্ত ও সেলুকসের সম্পর্ক মূলত গুরু-শিষ্য সম্পর্ক। সেলুকস ছিলেন গ্রিক সম্রাট সেকেন্দারের সেনাপতি এবং যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী। চন্দ্রগুপ্ত তাঁর কাছে বাহিনী পরিচালনা, ব্যূহ রচনা ও সামরিক নিয়ম শিখতেন।
যদিও সেলুকস প্রথমে চন্দ্রগুপ্তের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতেন না, তবুও তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও ভদ্র আচরণে তিনি আকৃষ্ট হন এবং আন্তরিকভাবে শিক্ষা দেন। আন্টিগোনসের আক্রমণ থেকে সেলুকসকে রক্ষা করার ঘটনায় চন্দ্রগুপ্তের প্রতি সেলুকসের আস্থা আরও দৃঢ় হয়। এই সব ঘটনার মধ্য দিয়ে নাট্যাংশে তাদের মধ্যে গুরু-শিষ্য সম্পর্কের পরিচয় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
৫.৯ ‘তা এই পত্রে লিখে নিচ্ছিলাম।’—কার উক্তি? সে কী লিখে নিচ্ছিল? তাঁর এই লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্য কী?
উত্তর:
উক্ত উক্তিটির বক্তা হলেন চন্দ্রগুপ্ত।
চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক সেনাপতি সেলুকাস-এর কাছ থেকে যে সমস্ত যুদ্ধবিদ্যা, বাহিনী পরিচালনার কৌশল, ব্যূহ রচনার প্রণালী ও সামরিক নিয়ম শিখেছিলেন, সেগুলিই তিনি শুকনো তালপাতায় লিখে নিচ্ছিলেন।
এই লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে নিজের হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য সেই যুদ্ধকৌশলগুলি কাজে লাগানো। চন্দ্রগুপ্ত মগধের রাজা মহাপদ্মনন্দের পুত্র হয়েও বৈমাত্রেয় ভাই কর্তৃক নির্বাসিত হয়েছিলেন। তাই ভবিষ্যতে শক্তিশালী হয়ে সিংহাসন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে শেখা বিদ্যাগুলি ভুলে না যাওয়ার জন্যই তিনি সেগুলি লিখে রাখছিলেন।
৫.১০ আন্টিগোনস নাটকের এই দৃশ্যে সেলুকসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেছে। তোমার কি সেলুকসকে সত্যিই ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে মনে হয়? যুক্তিসহ আলোচনা করো।
উত্তর:
নাট্যাংশে আন্টিগোনস সেলুকসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিলেও আমার মতে সেলুকস প্রকৃত অর্থে বিশ্বাসঘাতক নন।
সেলুকস চন্দ্রগুপ্তকে শিক্ষা দিয়েছিলেন তাঁর ব্যবহারের সরলতা, বুদ্ধিমত্তা ও ভদ্রতার কারণে। তিনি কখনোই জানতেন না যে চন্দ্রগুপ্ত ভবিষ্যতে মগধের সিংহাসন পুনরুদ্ধারের জন্য এই বিদ্যা ব্যবহার করবেন। তাছাড়া চন্দ্রগুপ্ত নিজেই স্বীকার করেন যে গ্রিক বাহিনীর ক্ষতিসাধন বা গ্রিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
অতএব অজ্ঞাতসারে কাউকে শিক্ষা দেওয়াকে বিশ্বাসঘাতকতা বলা যায় না। আন্টিগোনসের অভিযোগ ছিল আবেগপ্রসূত ও সন্দেহনির্ভর, যুক্তিসংগত নয়। তাই সেলুকসকে বিশ্বাসঘাতক বলা অনুচিত।
৫.১১ ‘নিরস্ত হও।’—কে এই নির্দেশ দিয়েছেন? কোন পরিস্থিতিতে তিনি এমন নির্দেশ দানে বাধ্য হলেন?
উত্তর:
‘নিরস্ত হও’ নির্দেশটি দিয়েছেন গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার।
আন্টিগোনস সেলুকসকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে উত্তেজিত হয়ে তাঁর উপর তরবারি নিক্ষেপ করেন। সেই আক্রমণ চন্দ্রগুপ্ত প্রতিহত করলে আন্টিগোনস পুনরায় চন্দ্রগুপ্তের উপর আক্রমণ চালায়। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে সম্রাট সেকেন্দার যুদ্ধ থামানোর জন্য উভয় পক্ষকে ‘নিরস্ত হও’ নির্দেশ দেন। শিবিরে বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত এড়াতেই তিনি এই নির্দেশ দিতে বাধ্য হন।
৫.১২ ‘আন্টিগোনস লজ্জায় শির অবনত করিলেন।’—তাঁর এহেন লজ্জিত হওয়ার কারণ কী?
উত্তর:
আন্টিগোনস লজ্জিত হয়েছিলেন একাধিক কারণে।
প্রথমত, সম্রাট সেকেন্দারের সামনে তিনি সামরিক শৃঙ্খলা ভেঙে উত্তেজিত হয়ে সেলুকসের উপর তরবারি নিক্ষেপ করেন, যা ছিল স্পষ্ট ঔদ্ধত্য।
দ্বিতীয়ত, সম্রাট তাঁকে প্রকাশ্যে ‘নিরস্ত হও’ নির্দেশ দিয়ে শাসন করেন, যা একজন অভিজ্ঞ সেনানায়কের পক্ষে অত্যন্ত অপমানজনক।
তৃতীয়ত, একজন তরুণ রাজপুত্র চন্দ্রগুপ্ত তাঁর নিক্ষিপ্ত তরবারি প্রতিহত করতে সক্ষম হওয়ায় তাঁর সামরিক গর্ব ভেঙে যায়।
এই সব কারণেই আন্টিগোনস লজ্জায় শির অবনত করেন।
৫.১৩ নাট্যাংশ অবলম্বনে গ্রিক সম্রাট সেকেন্দারের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের পরিচয় দাও।
উত্তর:
নাট্যাংশে গ্রিক সম্রাট সেকেন্দারের উজ্জ্বল ও বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি কেবল দিগ্বিজয়ী যোদ্ধাই নন, একজন চিন্তাশীল, বাস্তববাদী ও উদারমনের অধিকারী শাসক।
সিন্ধু নদের তীরে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা তাঁর সংবেদনশীল মননের পরিচয় দেয়। পুরুর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজ্য ফিরিয়ে দেওয়া তাঁর মহানুভবতার প্রমাণ। আবার সৈন্যদের ক্লান্তি উপলব্ধি করে দিগ্বিজয় অসম্পূর্ণ রেখে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্তে তাঁর বাস্তববুদ্ধির পরিচয় মেলে।
সেলুকস ও আন্টিগোনসের সংঘর্ষ ঠান্ডা মাথায় সামলানো এবং চন্দ্রগুপ্তকে মুক্ত করে আশীর্বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর বিচক্ষণতা, ধৈর্য ও উদার চরিত্র সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
৫.১৪ চন্দ্রগুপ্তের প্রতি সেকেন্দারের কীরূপ মনোভাবের পরিচয় নাট্যদৃশ্যে ফুটে উঠেছে—উভয়ের সংলাপের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
নাট্যাংশে সেকেন্দার ও চন্দ্রগুপ্তের সংলাপের মধ্য দিয়ে চন্দ্রগুপ্তের প্রতি সেকেন্দারের গভীর শ্রদ্ধা ও কৌতূহলের পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথমে গুপ্তচরের অভিযোগ উঠলেও সেকেন্দার চন্দ্রগুপ্তের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং তাঁর সত্যবাদিতা উপলব্ধি করেন।
চন্দ্রগুপ্তের স্পষ্টভাষিতা, নির্ভীকতা ও আত্মমর্যাদাবোধ সেকেন্দারকে মুগ্ধ করে। “আমায় বধ না করে বন্দি করতে পারবেন না”—এই সাহসী উক্তিতে সেকেন্দার তাঁর বীরসত্তাকে চিনতে পারেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে চন্দ্রগুপ্ত ভবিষ্যতের একজন মহান শাসক হতে পারেন।
তাই তাঁকে শাস্তি না দিয়ে মুক্ত করে আশীর্বাদ করেন—“তুমি হৃত রাজ্য পুনরুদ্ধার করবে।” এর মধ্য দিয়ে চন্দ্রগুপ্তের প্রতি সেকেন্দারের উদার, বীরোচিত ও দূরদর্শী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
৬. নীচের বাক্যগুলি থেকে সন্ধিবদ্ধ পদ খুঁজে নিয়ে সন্ধিবিচ্ছেদ করো :
৬.১. আমি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে দেখি।
উত্তর: নির্বাক = নিঃ + বাক
৬.২. বিশাল নদ-নদী ফেনিল উচ্ছ্বাসে উদ্দাম বেগে ছুটেছে।
উত্তর: উচ্ছ্বাসে = উৎ + শ্বাসে, উদ্দাম = উৎ + দাম
৬.৩. সে নির্ভীক নিষ্কম্পত্তরে উত্তর দিলো, ‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ।’
উত্তর: নির্ভীক = নিঃ + ভীক
৬.৪. আমি এসেছি শৌখিন দিগবিজয়ে।
উত্তর: দিগবিজয়ে = দিক্ + বিজয়ে
৬.৫. তুমি হৃতরাজ্য উদ্ধার করবে।
উত্তর: উদ্ধার = উদ্ + হার
৭. ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো
দৈত্যসৈন্য
দৈত্যদের সৈন্য (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)
যে দৈত্য সেই সৈন্য (কর্মধারয় সমাস)
নদনদী
নদ ও নদী (দ্বন্দ্ব সমাস)
স্নেহছায়া
স্নেহ রূপ ছায়া (রূপক কর্মধারয় সমাস)
অসম্পূর্ণ
নয় সম্পূর্ণ (না তৎপুরুষ সমাস)
বিজয়বার্তা
বিজয়ের বার্তা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)
অভ্রভেদী
অভ্রকে ভেদ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)
৮. ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করো
৯. নিম্নরেখাঙ্কিত শব্দগুলির কারক-বিভক্তি নির্দেশ করো
কী বিচিত্র এই দেশ!
কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি
আমি বিস্মিত আতঙ্কে চেয়ে থাকি।
অপাদান কারকে ‘এ’ বিভক্তি
মদমত্ত মাতঙ্গা জামপর্বতসম মন্থর গতিতে চলেছে।
কর্তৃকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি
বাধা পেলাম প্রথম-সেই শতদ্রুতীরে।
অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি
আমি যা শিখেছি তা এই পত্রে লিখে নিচ্ছিলাম।
অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি