Explore
Wb Suggestion
Learn Today, Lead Tomorrow

Follow Us

Madhyamik Bengali Suggestion 2027

WB SUGGESTION Verified
🗓 Posted: 12.08.2026
PART 1

মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা Final Exam Preparation

গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি MCQ — প্রশ্ন, বিকল্প ও সঠিক উত্তরসহ

প্রশ্ন ১

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের রচয়িতা কে?

ক) আশাপূর্ণা দেবী
খ) মহাশ্বেতা দেবী
গ) সুচিত্রা ভট্টাচার্য
ঘ) লীলা মজুমদার
সঠিক উত্তর: ক) আশাপূর্ণা দেবী
প্রশ্ন ২

তপনের লেখা প্রথম গল্পটির নাম কী?

ক) শেষ দিন
খ) প্রথম দিন
গ) নতুন সকাল
ঘ) অচেনা মানুষ
সঠিক উত্তর: খ) প্রথম দিন
প্রশ্ন ৩

তপনের লেখা ‘প্রথম দিন’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?

ক) দেশ
খ) সন্দেশ
গ) সন্ধ্যাতারা
ঘ) ভারতবর্ষ
সঠিক উত্তর: গ) সন্ধ্যাতারা
প্রশ্ন ৪

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের জ্ঞানচক্ষু প্রথমে কেন খুলেছিল?

ক) সে একটি নতুন বই পেয়েছিল
খ) সে একজন লেখককে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে দেখেছিল
গ) সে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিল
ঘ) সে একটি পুরস্কার পেয়েছিল
সঠিক উত্তর: খ) সে একজন লেখককে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে দেখেছিল
প্রশ্ন ৫

‘বহুরূপী’ গল্পের রচয়িতা কে?

ক) সুবোধ ঘোষ
খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) পান্নালাল প্যাটেল
সঠিক উত্তর: ক) সুবোধ ঘোষ
প্রশ্ন ৬

‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদার পেশা কী?

ক) শিক্ষকতা
খ) বহুরূপীর সাজে মানুষের মনোরঞ্জন করা
গ) ব্যবসা করা
ঘ) কৃষিকাজ করা
সঠিক উত্তর: খ) বহুরূপীর সাজে মানুষের মনোরঞ্জন করা
প্রশ্ন ৭

‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা কোন ছদ্মবেশে বিশেষভাবে সাফল্য লাভ করেছিলেন?

ক) পুলিশ
খ) বাইজি
গ) ডাক্তার
ঘ) পোস্টম্যান
সঠিক উত্তর: খ) বাইজি
প্রশ্ন ৮

‘পথের দাবী’ রচনার লেখক কে?

ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রশ্ন ৯

‘পথের দাবী’-তে সব্যসাচী মল্লিক কোন নামে ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন?

ক) অপূর্ব
খ) নিমাইবাবু
গ) গিরীশ মহাপাত্র
ঘ) রামদাস
সঠিক উত্তর: গ) গিরীশ মহাপাত্র
প্রশ্ন ১০

গিরীশ মহাপাত্রকে কার সামনে হাজির করা হয়েছিল?

ক) অপূর্বর সামনে
খ) নিমাইবাবুর সামনে
গ) হরিদার সামনে
ঘ) নদেরচাঁদের সামনে
সঠিক উত্তর: খ) নিমাইবাবুর সামনে
প্রশ্ন ১১

‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র কে?

ক) নদেরচাঁদ
খ) নিমাইচাঁদ
গ) হরিদা
ঘ) অপূর্ব
সঠিক উত্তর: ক) নদেরচাঁদ
প্রশ্ন ১২

নদেরচাঁদ পেশায় কী ছিলেন?

ক) শিক্ষক
খ) স্টেশনমাস্টার
গ) ডাক্তার
ঘ) কৃষক
সঠিক উত্তর: খ) স্টেশনমাস্টার
প্রশ্ন ১৩

নদেরচাঁদ কতদিন নদীটিকে দেখতে পারেনি?

ক) তিন দিন
খ) চার দিন
গ) পাঁচ দিন
ঘ) সাত দিন
সঠিক উত্তর: গ) পাঁচ দিন
প্রশ্ন ১৪

নদেরচাঁদের কাছে নদীর প্রতি আকর্ষণটি কেমন ছিল?

ক) সাময়িক কৌতূহল
খ) গভীর ও দীর্ঘদিনের ভালোবাসা
গ) ভয়ের অনুভূতি
ঘ) কেবল পেশাগত প্রয়োজন
সঠিক উত্তর: খ) গভীর ও দীর্ঘদিনের ভালোবাসা
প্রশ্ন ১৫

‘অদল বদল’ গল্পের রচয়িতা কে?

ক) পান্নালাল প্যাটেল
খ) প্রেমচন্দ
গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) সুবোধ ঘোষ
সঠিক উত্তর: ক) পান্নালাল প্যাটেল
প্রশ্ন ১৬

‘অদল বদল’ গল্পে দুই বন্ধু কারা?

ক) তপন ও হরিদা
খ) অমৃত ও ইসাব
গ) নদেরচাঁদ ও অপূর্ব
ঘ) সিরাজ ও মীরজাফর
সঠিক উত্তর: খ) অমৃত ও ইসাব
প্রশ্ন ১৭

অমৃত ও ইসাবের পারিবারিক পার্থক্য কী ছিল?

ক) অমৃতের মা ছিল না
খ) ইসাবের মা ছিল না
গ) দুজনেরই মা ছিল না
ঘ) দুজনেরই বাবা ছিল না
সঠিক উত্তর: খ) ইসাবের মা ছিল না
প্রশ্ন ১৮

‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাব একই রকম জামা পরে কোথায় বেরিয়েছিল?

ক) দুর্গাপূজার দিনে
খ) হোলির দিনে
গ) ঈদের দিনে
ঘ) সরস্বতী পুজোর দিনে
সঠিক উত্তর: খ) হোলির দিনে
প্রশ্ন ১৯

‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

ক) প্রতিযোগিতা
খ) স্বার্থপরতা
গ) গভীর আত্মীয়তা ও পরস্পরের প্রতি মমতা
ঘ) দূরত্ব
সঠিক উত্তর: গ) গভীর আত্মীয়তা ও পরস্পরের প্রতি মমতা
প্রশ্ন ২০

‘অসুখী একজন’ কবিতার কবি কে?

ক) পাবলো নেরুদা
খ) শঙ্খ ঘোষ
গ) জয় গোস্বামী
ঘ) জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর: ক) পাবলো নেরুদা
প্রশ্ন ২১

‘অসুখী একজন’ কবিতার প্রধান পটভূমির সঙ্গে কোন বিষয়টি জড়িত?

ক) যুদ্ধ ও ধ্বংস
খ) কৃষিজীবন
গ) উৎসব
ঘ) বিদ্যালয়জীবন
সঠিক উত্তর: ক) যুদ্ধ ও ধ্বংস
প্রশ্ন ২২

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার কবি কে?

ক) শঙ্খ ঘোষ
খ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ঘ) জয় গোস্বামী
সঠিক উত্তর: ক) শঙ্খ ঘোষ
প্রশ্ন ২৩

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় প্রধান আহ্বান কোনটি?

ক) একা থাকার
খ) ঐক্যবদ্ধ থাকার
গ) যুদ্ধ করার
কেবল দেশত্যাগের
সঠিক উত্তর: খ) ঐক্যবদ্ধ থাকার
প্রশ্ন ২৪

‘আফ্রিকা’ কবিতার রচয়িতা কে?

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ) পাবলো নেরুদা
সঠিক উত্তর: ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রশ্ন ২৫

‘আফ্রিকা’ কবিতায় কোন ঐতিহাসিক বাস্তবতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে?

ক) উপনিবেশবাদী শোষণ
খ) কৃষির উন্নতি
গ) শিক্ষার প্রসার
ঘ) নগরায়ণ
সঠিক উত্তর: ক) উপনিবেশবাদী শোষণ
প্রশ্ন ২৬

‘অভিষেক’ কবিতার রচয়িতা কে?

ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ) সৈয়দ আলাওল
সঠিক উত্তর: ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
প্রশ্ন ২৭

‘অভিষেক’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?

ক) মেঘনাদবধ কাব্য
খ) সোনার তরী
গ) বিদ্রোহী
পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর: ক) মেঘনাদবধ কাব্য
প্রশ্ন ২৮

‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার কবি কে?

ক) কাজী নজরুল ইসলাম
খ) শঙ্খ ঘোষ
গ) জয় গোস্বামী
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর: ক) কাজী নজরুল ইসলাম
প্রশ্ন ২৯

‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘প্রলয়’ কীসের সম্ভাবনার সঙ্গেও যুক্ত?

ক) নতুন সৃষ্টির
খ) স্থবিরতার
গ) পরাজয়ের
ঘ) নিঃসঙ্গতার
সঠিক উত্তর: ক) নতুন সৃষ্টির
প্রশ্ন ৩০

‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার কবি কে?

ক) জয় গোস্বামী
খ) শঙ্খ ঘোষ
গ) পাবলো নেরুদা
ঘ) সৈয়দ আলাওল
সঠিক উত্তর: ক) জয় গোস্বামী
প্রশ্ন ৩১

‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় অস্ত্রের বিপরীতে কোন শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে?

ক) গান ও মানবিক চেতনা
খ) অর্থ ও সম্পদ
গ) ক্ষমতা
ঘ) প্রতিশোধ
সঠিক উত্তর: ক) গান ও মানবিক চেতনা
প্রশ্ন ৩২

‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের রচয়িতা কে?

ক) সৈয়দ আলাওল
খ) মালিক মুহম্মদ জায়সী
গ) মাগন ঠাকুর
ঘ) বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর: ক) সৈয়দ আলাওল
প্রশ্ন ৩৩

‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত?

ক) পদ্মাবতী
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
গ) বৈষ্ণব পদাবলি
ঘ) মেঘনাদবধ কাব্য
সঠিক উত্তর: ক) পদ্মাবতী
প্রশ্ন ৩৪

‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি ‘পদ্মাবতী’-র কোন খণ্ড থেকে নেওয়া?

ক) পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড
খ) রত্নসেন-বন্ধন খণ্ড
গ) বাদশাহ-আক্রমণ খণ্ড
ঘ) চিতোর খণ্ড
সঠিক উত্তর: ক) পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড
প্রশ্ন ৩৫

‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে ‘কন্যা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

ক) পদ্মাবতীকে
খ) নাগমতীকে
গ) মীরাকে
ঘ) সমুদ্রকন্যাকে
সঠিক উত্তর: ক) পদ্মাবতীকে
প্রশ্ন ৩৬

‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের রচয়িতা কে?

ক) রাজশেখর বসু
খ) প্রমথ চৌধুরী
গ) নিখিল সরকার
ঘ) শ্রীপান্থ
সঠিক উত্তর: ক) রাজশেখর বসু
প্রশ্ন ৩৭

‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বিজ্ঞানবিষয়ক বাংলা গ্রন্থের পাঠকদের মোটামুটি কত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে?

ক) দুই শ্রেণিতে
খ) তিন শ্রেণিতে
গ) চার শ্রেণিতে
ঘ) পাঁচ শ্রেণিতে
সঠিক উত্তর: ক) দুই শ্রেণিতে
প্রশ্ন ৩৮

‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের মূল আলোচনার সঙ্গে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত?

ক) বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার ভাষা ও সমস্যা
খ) বাংলা কবিতার ছন্দ
গ) নাটকের অভিনয়
ঘ) উপন্যাসের চরিত্র
সঠিক উত্তর: ক) বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার ভাষা ও সমস্যা
প্রশ্ন ৩৯

‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের রচয়িতা কে?

ক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ঘ) মন্মথ রায়
সঠিক উত্তর: ক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
প্রশ্ন ৪০

‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমির সঙ্গে কোন ঘটনা বিশেষভাবে যুক্ত?

ক) পলাশির যুদ্ধ
খ) সিপাহি বিদ্রোহ
গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ঘ) বঙ্গভঙ্গ
সঠিক উত্তর: ক) পলাশির যুদ্ধ
প্রশ্ন ৪১

‘কোনি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?

ক) মতি নন্দী
খ) সমরেশ বসু
গ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ঘ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক) মতি নন্দী
প্রশ্ন ৪২

‘কোনি’ উপন্যাসের কাহিনির কেন্দ্রে কোন খেলাটি রয়েছে?

ক) ফুটবল
খ) ক্রিকেট
গ) সাঁতার
ঘ) কুস্তি
সঠিক উত্তর: গ) সাঁতার
প্রশ্ন ৪৩

‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিদদার ভূমিকা কী?

ক) প্রশিক্ষক ও পথপ্রদর্শক
খ) ব্যবসায়ী
গ) চিকিৎসক
ঘ) সাংবাদিক
সঠিক উত্তর: ক) প্রশিক্ষক ও পথপ্রদর্শক
প্রশ্ন ৪৪

‘কোনি’ উপন্যাসে সাফল্যের পথে কোন গুণটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে?

ক) অধ্যবসায় ও কঠোর অনুশীলন
খ) কেবল ভাগ্য
গ) অর্থসম্পদ
ঘ) সামাজিক পরিচিতি
সঠিক উত্তর: ক) অধ্যবসায় ও কঠোর অনুশীলন
প্রশ্ন ৪৫

‘হারিয়ে যাওয়া কালিকলম’ কোন ধরনের রচনা?

ক) কবিতা
খ) প্রবন্ধ
গ) নাটক
ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর: খ) প্রবন্ধ
প্রশ্ন ৪৬

‘সমাস’-এর ক্ষেত্রে সাধারণত কী ঘটে?

ক) একাধিক পদের সংক্ষেপে একটি পদ গঠিত হয়
খ) একটি শব্দ ভেঙে বহু শব্দ হয়
গ) ক্রিয়ার কাল পরিবর্তিত হয়
ঘ) বাক্যের অর্থ নষ্ট হয়
সঠিক উত্তর: ক) একাধিক পদের সংক্ষেপে একটি পদ গঠিত হয়
প্রশ্ন ৪৭

‘নদেরচাঁদ নদীকে ভালোবাসত’— এখানে ‘নদীকে’ কোন কারক?

ক) কর্তৃকারক
খ) কর্মকারক
গ) অধিকরণ কারক
ঘ) অপাদান কারক
সঠিক উত্তর: খ) কর্মকারক
প্রশ্ন ৪৮

‘সিন্ধুতীরে’ পদে কোন কারক ও বিভক্তি রয়েছে?

ক) কর্মকারক — কে
খ) করণকারক — দিয়ে
গ) অধিকরণ কারক — এ
ঘ) অপাদান কারক — থেকে
সঠিক উত্তর: গ) অধিকরণ কারক — এ
প্রশ্ন ৪৯

‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ কোনটি?

ক) তারা একই স্কুলে পড়ত
খ) বিপদের সময় একজন অন্যজনের পাশে দাঁড়িয়েছিল
গ) তারা একই রকম জামা পরত
ঘ) তারা একই মাঠে খেলত
সঠিক উত্তর: খ) বিপদের সময় একজন অন্যজনের পাশে দাঁড়িয়েছিল
প্রশ্ন ৫০

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু কখন খুলেছিল?

ক) লেখক মেসোমশাইকে প্রথম দেখার সময়
খ) নিজের লেখা গল্পের নাম ঠিক করার সময়
গ) নিজের লেখা গল্প অন্যের সংশোধনে নিজের কাছেই অপরিচিত হয়ে ওঠার সময়
ঘ) পত্রিকা হাতে পাওয়ার সময়
সঠিক উত্তর: গ) নিজের লেখা গল্প অন্যের সংশোধনে নিজের কাছেই অপরিচিত হয়ে ওঠার সময়
PART 2

মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা Final Exam Preparation

৫০টি গুরুত্বপূর্ণ SAQ — প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত উত্তরসহ

প্রশ্ন ১

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের লেখক কে?

উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের লেখক হলেন আশাপূর্ণা দেবী।
প্রশ্ন ২

তপনের প্রথম গল্পের নাম কী?

উত্তর: তপনের প্রথম গল্পের নাম ছিল ‘প্রথম দিন’।
প্রশ্ন ৩

তপন কেন গল্প লিখতে উৎসাহিত হয়েছিল?

উত্তর: একজন লেখকও যে তার মতোই সাধারণ মানুষ—এই উপলব্ধি তপনের মনে লেখক হওয়ার সাহস ও উৎসাহ জাগিয়েছিল।
প্রশ্ন ৪

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণের তাৎপর্য কী?

উত্তর: তপনের মনে লেখক সম্পর্কে যে ভুল ধারণা ছিল, তা ভেঙে গিয়ে বাস্তব উপলব্ধির জন্ম হয়। এই মানসিক জাগরণকেই ‘জ্ঞানচক্ষু’ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৫

তপনের লেখা গল্পটির নাম কী ছিল?

উত্তর: তপনের লেখা গল্পটির নাম ছিল ‘প্রথম দিন’।
প্রশ্ন ৬

‘বহুরূপী’ গল্পের রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘বহুরূপী’ গল্পের রচয়িতা সুবোধ ঘোষ।
প্রশ্ন ৭

হরিদার পেশা কী ছিল?

উত্তর: হরিদা ছিলেন একজন বহুরূপী। নানা ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করে তিনি মানুষের মনোরঞ্জন করতেন।
প্রশ্ন ৮

হরিদা কেন বাঁধা কাজ করতে চাইতেন না?

উত্তর: হরিদা স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দমতো কাজ করতে ভালোবাসতেন। বাঁধা কাজের নিয়ম ও স্থিরতা তাঁর স্বভাবের সঙ্গে মানাত না।
প্রশ্ন ৯

হরিদার ছদ্মবেশ ধারণের বিশেষত্ব কী ছিল?

উত্তর: হরিদা দক্ষতার সঙ্গে নানা চরিত্রের রূপ ধারণ করতে পারতেন এবং নিজের অভিনয় ও সাজসজ্জার মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করতেন।
প্রশ্ন ১০

‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার চরিত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: হরিদার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর স্বাধীনচেতা মনোভাব। অর্থের চেয়ে নিজের শিল্পীসত্তা ও স্বাধীনতাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন।
প্রশ্ন ১১

‘পথের দাবী’ রচনার লেখক কে?

উত্তর: ‘পথের দাবী’ রচনার লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
প্রশ্ন ১২

‘পথের দাবী’-র গিরীশ মহাপাত্র আসলে কে?

উত্তর: গিরীশ মহাপাত্র নামটি সব্যসাচী মল্লিকের একটি ছদ্মপরিচয়।
প্রশ্ন ১৩

গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশের উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে ব্রিটিশ পুলিশের নজর এড়ানোই ছিল তাঁর ছদ্মবেশের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রশ্ন ১৪

গিরীশ মহাপাত্র নিজেকে কেমন মানুষ বলে পরিচয় দিয়েছিল?

উত্তর: গিরীশ মহাপাত্র নিজেকে ধর্মভীরু মানুষ বলে পরিচয় দিয়েছিল।
প্রশ্ন ১৫

‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের রচয়িতা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রশ্ন ১৬

‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র কে?

উত্তর: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদ।
প্রশ্ন ১৭

নদেরচাঁদ পেশায় কী ছিলেন?

উত্তর: নদেরচাঁদ পেশায় একজন স্টেশনমাস্টার ছিলেন।
প্রশ্ন ১৮

নদেরচাঁদের কাছে নদীটি কেন এত প্রিয় ছিল?

উত্তর: দীর্ঘদিন ধরে নদীটির সঙ্গে নদেরচাঁদের গভীর মানসিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তাই নদীটি তাঁর কাছে কেবল প্রকৃতির অংশ ছিল না, প্রিয় সঙ্গীর মতো হয়ে উঠেছিল।
প্রশ্ন ১৯

নদেরচাঁদ কতদিন নদীটিকে দেখতে পায়নি?

উত্তর: নদেরচাঁদ পাঁচ দিন নদীটিকে দেখতে পায়নি।
প্রশ্ন ২০

‘নদীর বিদ্রোহ’ নামকরণে ‘বিদ্রোহ’ শব্দটির তাৎপর্য কী?

উত্তর: নদীর স্বাভাবিক রূপ ও আচরণের পরিবর্তন এবং তার প্রবল স্রোতকে কেন্দ্র করে নদেরচাঁদের মনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, তার মধ্যেই ‘বিদ্রোহ’-এর তাৎপর্য নিহিত।
প্রশ্ন ২১

‘অদল বদল’ গল্পের লেখক কে?

উত্তর: ‘অদল বদল’ গল্পের লেখক পান্নালাল প্যাটেল।
প্রশ্ন ২২

‘অদল বদল’ গল্পের দুই প্রধান বালক চরিত্রের নাম কী?

উত্তর: গল্পের দুই প্রধান বালক চরিত্র হল অমৃত ও ইসাব।
প্রশ্ন ২৩

অমৃত ও ইসাবের সম্পর্ক কেমন ছিল?

উত্তর: অমৃত ও ইসাবের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। সামাজিক ও পারিবারিক পার্থক্য তাদের বন্ধুত্বে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।
প্রশ্ন ২৪

‘অদল বদল’ গল্পে বন্ধুত্বের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?

উত্তর: গল্পে ধর্ম, পরিবার ও সামাজিক অবস্থানের ভেদাভেদ অতিক্রম করে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের শক্তি ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ২৫

‘অসুখী একজন’ কবিতার কবি কে?

উত্তর: ‘অসুখী একজন’ কবিতার কবি পাবলো নেরুদা।
প্রশ্ন ২৬

‘অসুখী একজন’ কবিতার প্রধান বিষয় কী?

উত্তর: যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাব, মানুষের অসহায়তা এবং শান্তির আকাঙ্ক্ষা কবিতাটির প্রধান বিষয়।
প্রশ্ন ২৭

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার কবি কে?

উত্তর: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার কবি শঙ্খ ঘোষ।
প্রশ্ন ২৮

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার মূল আহ্বান কী?

উত্তর: প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষকে পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়ে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশ্ন ২৯

‘আফ্রিকা’ কবিতার কবি কে?

উত্তর: ‘আফ্রিকা’ কবিতার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্রশ্ন ৩০

‘আফ্রিকা’ কবিতায় কবির প্রতিবাদের মূল কারণ কী?

উত্তর: আফ্রিকার মানুষের ওপর ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে কবির মানবিক প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন ৩১

‘অভিষেক’ কবিতার রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘অভিষেক’ কবিতার রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
প্রশ্ন ৩২

‘অভিষেক’ কোন কাব্যের অংশ?

উত্তর: ‘অভিষেক’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর অংশ।
প্রশ্ন ৩৩

‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার কবি কে?

উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্ন ৩৪

‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘প্রলয়’ কীসের প্রতীক?

উত্তর: কবিতায় প্রলয় শুধু ধ্বংসের প্রতীক নয়; পুরোনো ও জীর্ণকে ভেঙে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনারও প্রতীক।
প্রশ্ন ৩৫

‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার কবি কে?

উত্তর: ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার কবি জয় গোস্বামী।
প্রশ্ন ৩৬

‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার মূল বক্তব্য কী?

উত্তর: ধ্বংস ও হিংসার বিরুদ্ধে মানবিকতা, শান্তি এবং সৃষ্টিশীলতার শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করাই কবিতাটির মূল বক্তব্য।
প্রশ্ন ৩৭

‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের রচয়িতা সৈয়দ আলাওল।
প্রশ্ন ৩৮

‘সিন্ধুতীরে’ কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্যগ্রন্থের অংশ।
প্রশ্ন ৩৯

‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্রের ভূমিকা কী?

উত্তর: সমুদ্র কাব্যাংশে কাহিনির পটভূমি ও ঘটনাপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার বিশালতা ও ভয়ংকর রূপ কাহিনির আবহকে গভীর করেছে।
প্রশ্ন ৪০

‘হারিয়ে যাওয়া কালিকলম’ কোন ধরনের রচনা?

উত্তর: ‘হারিয়ে যাওয়া কালিকলম’ একটি প্রবন্ধধর্মী রচনা।
প্রশ্ন ৪১

‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের লেখক কে?

উত্তর: ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের লেখক রাজশেখর বসু।
প্রশ্ন ৪২

‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে মূলত কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?

উত্তর: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা, বৈজ্ঞানিক বিষয়কে সহজভাবে প্রকাশ এবং উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক পরিভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রবন্ধটিতে আলোচনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৪৩

‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের রচয়িতা শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত।
প্রশ্ন ৪৪

‘কোনি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘কোনি’ উপন্যাসের রচয়িতা মতি নন্দী।
প্রশ্ন ৪৫

‘কোনি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিষয় কী?

উত্তর: প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম, কঠোর অনুশীলন, আত্মবিশ্বাস এবং সাঁতারে সাফল্য অর্জনের লড়াই উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় বিষয়।
প্রশ্ন ৪৬

ক্ষিদদা কে?

উত্তর: ক্ষিদদা হলেন সাঁতারের প্রশিক্ষক ও কোনির প্রধান পথপ্রদর্শক। তাঁর প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ কোনির সাফল্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ৪৭

কোনির জীবনে দারিদ্র্যের প্রভাব কী ছিল?

উত্তর: দারিদ্র্য কোনির জীবনে নানা বাধা তৈরি করেছিল। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সে সেই প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে।
প্রশ্ন ৪৮

‘কারক’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
প্রশ্ন ৪৯

‘সমাস’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদের একপদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
প্রশ্ন ৫০

‘বাচ্য’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তা বা কর্মের যে সম্পর্ক প্রকাশ পায়, তার ভিত্তিতে বাক্যের যে রূপ নির্ধারিত হয় তাকে বাচ্য বলে।
PART 3

মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা Final Exam Preparation

৩ নম্বরের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — প্রসঙ্গভিত্তিক উত্তরসহ

প্রশ্ন ১

“লেখক বলে যে মানুষকে আলাদা কোনো জীব মনে হয়েছিল তপনের।” — তপনের এই ধারণার পরিবর্তন কীভাবে ঘটেছিল?

উত্তর: প্রথমদিকে তপনের ধারণা ছিল, লেখকেরা সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তাঁদের জীবন রহস্যময়। কিন্তু তার মেসোমশাইকে লেখক হিসেবে দেখার পর সে বুঝতে পারে যে লেখকরাও সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেন। এই উপলব্ধিই তপনের মনে লেখক হওয়ার আত্মবিশ্বাস তৈরি করে এবং তার পূর্বধারণা বদলে দেয়।
প্রশ্ন ২

“তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল।” — তপনের জ্ঞানচক্ষু কীভাবে খুলেছিল?

উত্তর: তপন মনে করত লেখকরা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা এক বিশেষ শ্রেণির মানুষ। মেসোমশাইকে নিজের চোখে দেখে সে বুঝতে পারে যে লেখকরাও সাধারণ জীবনযাপন করেন। পরে নিজের লেখা গল্প মেসোমশাইয়ের সংশোধনে নিজের কাছেই অপরিচিত হয়ে উঠলে তার আরও গভীর উপলব্ধি হয়। এভাবেই তার জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়।
প্রশ্ন ৩

“তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।” — ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা কেন এমন কথা বলেছিলেন?

উত্তর: হরিদার কাছে বহুরূপীর কাজ শুধু অর্থ উপার্জনের উপায় ছিল না; সেটি ছিল তাঁর শিল্পীসত্তা ও স্বাধীনতার প্রকাশ। কোনো নির্দিষ্ট মানুষের বাড়িতে নিয়মিত কাজ করলে তাঁর সাজ, অভিনয় ও স্বাধীনভাবে চরিত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়ে যেত। তাই বাঁধা কাজ গ্রহণ করলে তাঁর ‘ঢং’ বা বহুরূপী শিল্পীর স্বাতন্ত্র্য নষ্ট হবে বলে তিনি মনে করেছিলেন।
প্রশ্ন ৪

“হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।” — কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: হরিদা কখনও পুলিশ, কখনও বৈরাগী, কখনও অন্য কোনো বিচিত্র চরিত্রের ছদ্মবেশে মানুষের সামনে উপস্থিত হতেন। প্রতিটি রূপেই তাঁর অভিনয় ছিল স্বতন্ত্র। তাঁর জীবনের পেশা, ছদ্মবেশ, অভিনয় এবং মানুষের সঙ্গে নানা রকম সম্পর্ক—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন সাধারণ মানুষের মতো একঘেয়ে ছিল না। তাই তাঁর জীবনে নাটকীয় বৈচিত্র্য ছিল।
প্রশ্ন ৫

“নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।” — নদেরচাঁদ ‘নদীর বিদ্রোহ’ বলতে কী বুঝেছিল?

উত্তর: প্রবল বর্ষণের ফলে নদীর জল ফুলে-ফেঁপে উঠে তার স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। নদেরচাঁদের কাছে নদীর এই অস্বাভাবিক, উত্তাল ও বাধাভাঙা রূপকে মনে হয়েছিল যেন নদী তার দীর্ঘদিনের বাঁধন ভেঙে বিদ্রোহ করেছে। প্রকৃতির এই পরিবর্তনকেই সে নিজের কল্পনায় ‘নদীর বিদ্রোহ’ বলে বুঝেছিল।
প্রশ্ন ৬

“নদীর জন্য নদেরচাঁদের এত মায়া একটু স্বাভাবিক।” — উক্তিটির যথার্থতা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: নদেরচাঁদ স্টেশনমাস্টার হিসেবে দীর্ঘদিন নদীর কাছাকাছি বসবাস করত। প্রতিদিন কাজের ফাঁকে সে নদীকে দেখত এবং ধীরে ধীরে নদীটির সঙ্গে তার গভীর মানসিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। নদী তার কাছে কেবল একটি প্রাকৃতিক জলধারা ছিল না, বরং পরিচিত ও আপন সঙ্গীর মতো হয়ে উঠেছিল। তাই নদীর প্রতি তার মায়া স্বাভাবিক।
প্রশ্ন ৭

“আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?” — নদেরচাঁদের মনে এমন ভাবনা কেন এসেছিল?

উত্তর: নদেরচাঁদ নদীর প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিল। প্রবল বর্ষণের ফলে নদীর জল ও স্রোতের রূপ সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ায় সে ব্রিজের ওপর থেকে নদীকে অন্যভাবে দেখতে পায়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্রিজ যেন কৃত্রিমভাবে বাধা দিচ্ছে—এই অনুভূতি তার মনে জন্মায়। তাই তার মনে হয়েছিল, নদীর ওপর এই ব্রিজের আদৌ কী প্রয়োজন।
প্রশ্ন ৮

“লোভটা সে সামলাইতে পারিল না।” — নদেরচাঁদের কোন লোভের কথা বলা হয়েছে? এই লোভের কারণ কী?

উত্তর: প্রবল বর্ষণের কারণে নদী অস্বাভাবিক রূপ ধারণ করেছিল। নদীর সেই উত্তাল ও পরিবর্তিত রূপ দেখার প্রবল আকাঙ্ক্ষা নদেরচাঁদের মনে জন্মায়। নদীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসার জন্যই সে বারবার নদীর কাছে যেতে চাইত। ফলে নিজের নিরাপত্তার কথাও ভুলে নদীর সেই বিরল রূপ আরও কাছ থেকে দেখার লোভ সে সামলাতে পারেনি।
প্রশ্ন ৯

“বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।” — নদেরচাঁদের ভয়ের কারণ কী?

উত্তর: প্রবল বর্ষণে নদীর জল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল এবং নদী উত্তাল হয়ে উঠেছিল। নদীর স্বাভাবিক রূপের পরিবর্তন নদেরচাঁদের মনে বিপদের আশঙ্কা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নদীর প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের কারণে সে বিপজ্জনক পরিস্থিতির কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ফলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তার মনে প্রবল ভয় জন্মায়।
প্রশ্ন ১০

“কী আশ্চর্য! চমকে ওঠে ভবতোষ।” — ভবতোষ কেন চমকে উঠেছিল?

উত্তর: ভবতোষ হরিদার বহুরূপী সত্তার সঙ্গে পরিচিত ছিল। হরিদার কোনো একটি ছদ্মবেশ বা আচরণ বাস্তব চরিত্রের মতো এতটাই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছিল যে ভবতোষ মুহূর্তের জন্য বিস্মিত হয়ে যায়। হরিদার অভিনয়ের স্বাভাবিকতা ও দক্ষতাই তার এই চমকে ওঠার প্রধান কারণ।
প্রশ্ন ১১

“কিছুক্ষণ নদীকে না দেখিলে সে বাঁচিবে না।” — উক্তিটির মাধ্যমে নদেরচাঁদের চরিত্রের কোন দিক প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর: উক্তিটির মাধ্যমে নদেরচাঁদের নদীর প্রতি গভীর ও প্রায় আবেগময় ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। নদীকে সে নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করত। নদীকে না দেখলে তার মনে অস্বস্তি তৈরি হতো। তাই নদীর প্রতি তার আকর্ষণ সাধারণ কৌতূহল নয়, বরং গভীর মানসিক আসক্তি।
প্রশ্ন ১২

“অমৃতের মতো ছেলে পেলে ইসাবের বাবা…” — অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের সামাজিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: অমৃত ও ইসাব ভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশের ছেলে হলেও তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। তাদের বন্ধুত্ব প্রমাণ করে যে শিশুমনের কাছে ধর্ম, জাতি বা সামাজিক অবস্থানের বিভেদ বড় হয়ে ওঠে না। মানবিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক মমতাই তাদের কাছে প্রধান। এই কারণে গল্পটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি সুন্দর বার্তা বহন করে।
প্রশ্ন ১৩

‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্ব কীভাবে সামাজিক ভেদাভেদকে অতিক্রম করেছে?

উত্তর: অমৃত ও ইসাবের পরিবার, ধর্ম ও আর্থিক অবস্থার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও তাদের বন্ধুত্বে কোনো বিভেদ ছিল না। তারা একে অপরকে আপনজনের মতো ভালোবাসত এবং আনন্দ-বিপদের মুহূর্ত ভাগ করে নিত। তাদের সম্পর্ক দেখায়, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ধর্ম বা সামাজিক অবস্থানে নয়; মানবিকতা ও ভালোবাসাতেই।
প্রশ্ন ১৪

‘পথের দাবী’-তে গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশের তাৎপর্য কী?

উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশের মাধ্যমে সব্যসাচীর বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিপ্লবী কর্মকৌশল প্রকাশ পেয়েছে। প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে সে পুলিশের সামনে উপস্থিত হয় এবং নিজের নিরাপত্তা বজায় রাখে। এই ছদ্মবেশ কেবল আত্মরক্ষার কৌশল নয়, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবীদের গোপন সংগ্রামের বাস্তবতাকেও তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৫

‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিদদার ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: ক্ষিদদা কোনির প্রতিভা ও সম্ভাবনা প্রথমে বুঝতে পেরেছিলেন। দারিদ্র্য ও সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কোনিকে প্রশিক্ষণ দেন, উৎসাহ দেন এবং বারবার লড়াই করে যাওয়ার সাহস জোগান। কোনির সাফল্যের পেছনে তার কঠোর প্রশিক্ষণ, বিশ্বাস ও মানসিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই ক্ষিদদা শুধু প্রশিক্ষক নন, পথপ্রদর্শকও।
প্রশ্ন ১৬

‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধ কীভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ধ্বংস করে?

উত্তর: যুদ্ধ মানুষের ঘরবাড়ি, পরিবার, স্মৃতি ও নিরাপত্তা ধ্বংস করে দেয়। কবিতায় প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা মানুষটি ফিরে এসে দেখতে পায় তার পরিচিত পৃথিবী আর আগের মতো নেই। আগুন, ধ্বংসস্তূপ ও মৃত্যুর চিহ্ন মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। এভাবেই যুদ্ধের নির্মমতা কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন ১৭

‘অসুখী একজন’ কবিতার নামকরণ কতটা সার্থক?

উত্তর: যুদ্ধের কারণে কবিতার বক্তা তার পরিচিত জীবন, ঘরবাড়ি ও প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফিরে এসে সে চারপাশে কেবল ধ্বংস ও মৃত্যুর চিহ্ন দেখতে পায়। তার ব্যক্তিগত বেদনার সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের সামগ্রিক অসহায়তা যুক্ত হয়েছে। তাই ‘অসুখী একজন’ নামটি কবিতার বিষয়বস্তুর সঙ্গে যথার্থভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রশ্ন ১৮

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’-র তাৎপর্য কী?

উত্তর: এখানে ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ বলতে কোনো শারীরিক বন্ধন বোঝানো হয়নি। বিপদ, সংকট ও অনিশ্চয়তার সময় মানুষ যেন একে অপরকে ছেড়ে না যায় এবং ঐক্যবদ্ধ থাকে—এই মানসিক বন্ধনের কথাই বলা হয়েছে। কবি পারস্পরিক সহমর্মিতা, সংহতি ও একতার মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রশ্ন ১৯

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সংকটের চিত্র কীভাবে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে?

উত্তর: কবিতায় চারপাশে বিপদ, অনিশ্চয়তা ও পথহীনতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় একা মানুষের পক্ষে নিরাপদ থাকা কঠিন। তাই কবি মানুষকে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সংকট যত গভীর, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের প্রয়োজন তত বেশি—এই সত্যই কবিতার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রশ্ন ২০

‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘মানুষ ধরার দল’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের এভাবে অভিহিত করার কারণ কী?

উত্তর: ‘মানুষ ধরার দল’ বলতে আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপনকারী ও দাসব্যবসার সঙ্গে যুক্ত শোষক শক্তিকে বোঝানো হয়েছে। তারা আফ্রিকার মানুষকে স্বাধীন মানুষ হিসেবে না দেখে সম্পদ ও শ্রমের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তাদের নির্মম শোষণ ও মানবিকতাবিরোধী আচরণের কারণেই কবি এই তীব্র শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন।
প্রশ্ন ২১

‘আফ্রিকা’ কবিতায় কবির ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্যে কী ধরনের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর: কবির ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্যে আফ্রিকার প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও মানবিক অপরাধবোধ প্রকাশ পেয়েছে। সভ্যতার নামে যে নির্মম শোষণ ও অত্যাচার সংঘটিত হয়েছে, তার জন্য কবি মানবসভ্যতার পক্ষ থেকে লজ্জা ও অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। ফলে ক্ষমাপ্রার্থনা এখানে শুধু ব্যক্তিগত নয়, সমগ্র মানবসভ্যতার নৈতিক দায়বোধের প্রতীক।
প্রশ্ন ২২

‘অভিষেক’ কবিতায় রাবণের মানসিক অবস্থার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর: ‘অভিষেক’ অংশে রাবণের মধ্যে একদিকে পুত্রশোক ও গভীর বেদনা, অন্যদিকে প্রতিশোধস্পৃহা ও আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ পেয়েছে। মেঘনাদের মৃত্যুর সংবাদ তাকে বিচলিত করলেও সে দুর্বল হয়ে পড়ে না। ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সংকল্প গ্রহণ করে।
প্রশ্ন ২৩

‘অভিষেক’ কবিতায় শোক কীভাবে বীরত্বে রূপান্তরিত হয়েছে?

উত্তর: মেঘনাদের মৃত্যুর সংবাদ রাবণের মনে গভীর শোক সৃষ্টি করে। কিন্তু সে শোকে ভেঙে পড়ে না। পুত্রহারা পিতার বেদনা ধীরে ধীরে প্রতিশোধের সংকল্পে রূপ নেয়। ব্যক্তিগত দুঃখকে শক্তিতে পরিণত করে শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মানসিকতা তার চরিত্রে বীরত্বের প্রকাশ ঘটায়।
প্রশ্ন ২৪

‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয়ের মধ্যে আনন্দের কারণ কী?

উত্তর: কবির কাছে প্রলয় কেবল ধ্বংস নয়; পুরোনো, জীর্ণ ও অন্যায় ব্যবস্থার অবসানের সূচনা। সেই ধ্বংসের মধ্য থেকেই নতুন জীবন ও নতুন সৌন্দর্যের জন্ম হবে। তাই প্রলয়ের ভয়াবহতার মধ্যেও কবি নবসৃষ্টির সম্ভাবনা দেখতে পান। এই কারণেই প্রলয় তাঁর কাছে আনন্দ ও আশার বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন ২৫

‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘নবীন’-এর আগমন কেন আনন্দের?

উত্তর: ‘নবীন’ এখানে নতুন যুগ, নতুন জীবন ও নতুন সৃষ্টির প্রতীক। পুরোনো ও জীর্ণ ব্যবস্থার অবসানের পর নবীনের আগমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে। তাই কবি নবীনের আগমনকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে তিনি নতুন সৌন্দর্য, শক্তি ও মুক্ত জীবনের সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছেন।
প্রশ্ন ২৬

‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় গান কেন অস্ত্রের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে ওঠে?

উত্তর: অস্ত্র ধ্বংস ও মৃত্যুর প্রতীক, আর গান মানুষের সৃষ্টিশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিক চেতনার প্রতীক। অস্ত্র দিয়ে মানুষের জীবন নষ্ট করা যায়, কিন্তু মানুষের আশা, স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীলতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যায় না। তাই কবি গানকে এমন এক মানবিক শক্তি হিসেবে দেখিয়েছেন, যা হিংসার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে।
প্রশ্ন ২৭

“অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে”— উক্তিটির অন্তর্নিহিত বক্তব্য কী?

উত্তর: কবি হিংসা ও ধ্বংসের পথ পরিত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অস্ত্র ফেলে মানুষের প্রতি আস্থা, ভালোবাসা ও শান্তির পথ গ্রহণ করাই তাঁর বক্তব্যের মূল কথা। ‘অস্ত্র রাখো পায়ে’ কথাটি অস্ত্রের শক্তিকে মানবিকতার কাছে আত্মসমর্পণ করানোর প্রতীক। এখানে যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি ও সৃষ্টির জয় কামনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ২৮

‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্রের রূপ কীভাবে কাহিনির আবহ তৈরি করেছে?

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্র কখনও বিশাল, কখনও উত্তাল ও ভয়ংকর রূপে উপস্থিত হয়েছে। তার অসীমতা চরিত্রগুলির সামনে অনিশ্চয়তা ও বিপদের পরিবেশ তৈরি করে। একই সঙ্গে সমুদ্রের সৌন্দর্য কাহিনির কাব্যিক আবহকে সমৃদ্ধ করেছে। ফলে প্রকৃতি এখানে শুধু পটভূমি নয়, কাহিনির আবেগেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রশ্ন ২৯

‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে প্রকৃতি কীভাবে কাহিনির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে?

উত্তর: এই কাব্যাংশে সমুদ্র, ঢেউ, বাতাস ও প্রকৃতির নানা রূপ কাহিনির ঘটনাগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। প্রকৃতির শান্ত বা উত্তাল রূপ চরিত্রগুলির মানসিক অবস্থা ও পরিস্থিতির আবহকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে প্রকৃতি কেবল দৃশ্যসজ্জা নয়, কাহিনির আবেগ ও নাটকীয়তার অন্যতম উপাদান হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন ৩০

‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ ও ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’—এই দুই কবিতায় কোন মানবিক মূল্যবোধের মিল পাওয়া যায়?

উত্তর: দুটি কবিতাতেই হিংসা, সংকট ও বিভেদের পরিবর্তে মানবিকতা, ঐক্য, সহমর্মিতা ও শান্তির মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ ধ্বংসের বিরুদ্ধে সৃষ্টিশীলতার শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করে, আর ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ বিপদের সময় মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়। তাই দুটির মূল সুর মানবিক সংহতি।
PART 4

মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা Final Exam Preparation

৫ নম্বরের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — পরীক্ষোপযোগী উত্তরসহ

গল্প

পাঠ্য গল্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৫ নম্বরের প্রশ্ন

প্রশ্ন ১

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প অবলম্বনে তপনের চরিত্রের পরিবর্তন আলোচনা করো।

উত্তর:

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের তপন প্রথমদিকে লেখকদের সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করত। তার মনে হয়েছিল, লেখকরা সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তাঁদের জীবন এক রহস্যময় জগতের অন্তর্গত। কিন্তু তার মেসোমশাইকে লেখক হিসেবে দেখার পর তপনের সেই ধারণায় পরিবর্তন আসে। সে বুঝতে পারে, একজন লেখকও তার মতোই সাধারণ মানুষ।

এই উপলব্ধির ফলে তপনের নিজের লেখক হওয়ার ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়। সে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প লেখে এবং সেটি মেসোমশাইকে পড়ায়। মেসোমশাই গল্পটি সংশোধন করে পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু প্রকাশিত গল্পটি পড়ে তপনের মনে হয়, তার নিজের লেখা যেন আর নিজের নেই। এতে তার মনে গভীর উপলব্ধি জন্মায়।

শেষ পর্যন্ত তপন বুঝতে পারে, সত্যিকারের লেখক হতে হলে নিজের ভাষা, নিজস্ব ভাবনা ও নিজস্ব লেখনীর ওপর নির্ভর করতে হবে। এই মানসিক জাগরণই তার প্রকৃত ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে দেয়।

প্রশ্ন ২

‘বহুরূপী’ গল্প অবলম্বনে হরিদার চরিত্র বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা একজন স্বাধীনচেতা ও স্বতন্ত্র শিল্পীসত্তার অধিকারী মানুষ। বহুরূপীর কাজ করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। নানা ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষের সামনে উপস্থিত হওয়া ছিল তাঁর শিল্প। তাঁর সাজসজ্জা ও অভিনয়ের মধ্যে ছিল অসাধারণ দক্ষতা।

হরিদা অর্থলোভী ছিলেন না। তাঁর কাছে নিজের শিল্পীসত্তা ও স্বাধীনতা অর্থের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই কোনো ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি বাঁধা কাজ গ্রহণ করতে চাননি। তাঁর ধারণা ছিল, নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে বাঁধা পড়লে তাঁর বহুরূপী শিল্পের স্বাধীনতা নষ্ট হবে।

হরিদার মধ্যে আত্মসম্মান, স্বাধীনচেতা মনোভাব, অভিনয়প্রতিভা এবং শিল্পের প্রতি ভালোবাসা ছিল। সাধারণ জীবনের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছিলেন। এই কারণেই হরিদা চরিত্রটি গল্পে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রশ্ন ৩

‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাঁদ। পেশায় স্টেশনমাস্টার হলেও তার মন গভীরভাবে প্রকৃতিপ্রেমী। বিশেষ করে নদীর সঙ্গে তার এক নিবিড় মানসিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। প্রতিদিন নদীকে দেখা তার জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

নদেরচাঁদের নদীর প্রতি ভালোবাসা ছিল অত্যন্ত গভীর। কয়েক দিন নদীকে দেখতে না পেয়ে সে অস্থির হয়ে পড়ে। প্রবল বর্ষণের ফলে নদীর স্বাভাবিক রূপ পরিবর্তিত হলে তার কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। নদীর উত্তাল রূপ তাকে একই সঙ্গে আকৃষ্ট ও ভীত করে।

তবে নদীর প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ তার মধ্যে এক ধরনের আবেগপ্রবণতাও তৈরি করেছিল। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও নদীর কাছাকাছি যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ফলে তার চরিত্রে প্রকৃতিপ্রেম, সংবেদনশীলতা, আবেগ এবং দুর্বলতা—সবকিছুরই সমন্বয় দেখা যায়।

প্রশ্ন ৪

‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের মানবিক তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তর:

পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পের অমৃত ও ইসাব দুই ভিন্ন ধর্মীয় ও পারিবারিক পরিবেশের বালক। কিন্তু তাদের বন্ধুত্বে ধর্ম, সামাজিক অবস্থান বা পারিবারিক পার্থক্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। শিশুমনের স্বাভাবিক ভালোবাসা ও আন্তরিকতা তাদের সম্পর্ককে গভীর করে তুলেছিল।

অমৃত ও ইসাব একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিত। তাদের বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো স্বার্থ বা হিসাব ছিল না। তারা পরস্পরের প্রতি যে টান অনুভব করত, তা ছিল সম্পূর্ণ মানবিক। এই সম্পর্কের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন, মানুষের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি হলেও শিশুমনের স্বাভাবিক মানবিকতা সেই বিভেদকে অতিক্রম করতে পারে।

গল্পটির সবচেয়ে বড় মানবিক শিক্ষা হলো—মানুষের পরিচয় তার ধর্ম বা সামাজিক অবস্থান দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। ভালোবাসা, মমতা, বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতাই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। তাই অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্ব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিকতার প্রতীক।

কবিতা

পাঠ্য কবিতা থেকে বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন

প্রশ্ন ৫

‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক রূপ কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর:

পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের নির্মম ও ধ্বংসাত্মক রূপ অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে প্রকাশিত হয়েছে। যুদ্ধ মানুষের স্বাভাবিক জীবন, ঘরবাড়ি, সম্পর্ক ও স্মৃতিকে ধ্বংস করে দেয়। কবিতার বক্তা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিরে এসে তার পরিচিত পৃথিবীকে আর আগের অবস্থায় দেখতে পায় না।

যুদ্ধের ফলে মানুষের বসতি ধ্বংস হয়, চারপাশে মৃত্যুর চিহ্ন ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের ব্যক্তিগত সুখ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। যুদ্ধ শুধু বাড়িঘর ধ্বংস করে না, মানুষের মনে গভীর শূন্যতা ও বেদনা তৈরি করে।

কবি যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরাসরি মানবিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষতি কোনো একটি দেশের নয়—সমগ্র মানবজাতির। তাই কবিতাটি যুদ্ধবিরোধী মানবিক চেতনার একটি শক্তিশালী প্রকাশ।

প্রশ্ন ৬

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবির মানবিক ও সামাজিক চেতনার পরিচয় দাও।

উত্তর:

শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সংকটের সময় মানুষের পারস্পরিক ঐক্য ও সহমর্মিতার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে। কবিতার মানুষগুলো এমন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে যেখানে একা পথ চলা কঠিন। তাই কবি মানুষকে একে অপরের হাত ধরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ এখানে কোনো বাহ্যিক বন্ধন নয়। এটি পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ব, সহমর্মিতা ও সামাজিক সংহতির প্রতীক। কবি বুঝেছেন যে বিপদের সময় মানুষ যদি পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে সংকট আরও গভীর হয়।

কবিতায় তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে সমষ্টিগত চেতনা গুরুত্ব পেয়েছে। মানুষের দুর্দশার প্রতি কবির গভীর সহানুভূতি এবং একসঙ্গে বাঁচার আকাঙ্ক্ষাই তাঁর মানবিক ও সামাজিক চেতনার প্রধান পরিচয়।

প্রশ্ন ৭

‘আফ্রিকা’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথের ঔপনিবেশিকতাবিরোধী মনোভাব আলোচনা করো।

উত্তর:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। আফ্রিকার মানুষকে সভ্যতার নামে যারা শোষণ করেছিল, কবি তাদের মানবিকতার অভাবকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন।

আফ্রিকাকে সম্পদ ও শ্রমের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা, মানুষকে বন্দি করা এবং তার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলির মধ্যে কবি সভ্যতার ভণ্ডামি দেখতে পেয়েছেন। তথাকথিত সভ্যতার নামে এই বর্বরতা কবির কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কবিতার শেষে কবির ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্যেও গভীর মানবিক অপরাধবোধ প্রকাশ পেয়েছে। আফ্রিকার ওপর সংঘটিত অত্যাচারের জন্য সমগ্র মানবসভ্যতার পক্ষ থেকে তিনি যেন লজ্জা প্রকাশ করেছেন। ফলে ‘আফ্রিকা’ শুধু একটি মহাদেশের কথা নয়; এটি শোষিত মানুষের পক্ষে কবির মানবিক প্রতিবাদ।

প্রশ্ন ৮

‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ধ্বংসের মধ্যে সৃষ্টির আনন্দ কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর:

কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয়কে কেবল ধ্বংসের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়নি। কবির কাছে প্রলয় পুরোনো, জীর্ণ ও অন্যায় ব্যবস্থার অবসানের সংকেত। সেই ধ্বংসের মধ্য থেকেই নতুন জীবন ও নতুন সমাজের জন্ম হবে।

কবিতায় তাই ভয়াবহতার সঙ্গে আনন্দের অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটেছে। যে পুরোনো ব্যবস্থা মানুষের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার পতন কবির কাছে আনন্দের। কারণ তার জায়গায় নতুন শক্তি, নতুন প্রাণ এবং নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই কবি প্রলয়কে ভয় না পেয়ে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নবসৃষ্টির যে পথ তৈরি হয়, সেটিই কবিতার মূল আনন্দ ও আশাবাদ।

প্রশ্ন ৯

‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার মূল বক্তব্য আলোচনা করো।

উত্তর:

জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় হিংসা ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে মানবিকতা, শান্তি ও সৃষ্টিশীলতার শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ‘অস্ত্র’ এখানে যুদ্ধ, হত্যা ও ধ্বংসের প্রতীক। তার বিপরীতে ‘গান’ মানুষের ভালোবাসা, স্বপ্ন, সৃজনশীলতা ও শান্তির প্রতীক।

কবি অস্ত্রের শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে মানবিক শক্তির ওপর আস্থা রেখেছেন। অস্ত্র দিয়ে মানুষের শরীরকে আঘাত করা সম্ভব হলেও মানুষের স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীল চেতনাকে সহজে ধ্বংস করা যায় না। তাই গানকে তিনি অস্ত্রের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী মানবিক প্রতিরোধ হিসেবে দেখেছেন।

কবিতার মূল বক্তব্য হলো—মানুষের ভবিষ্যৎ যুদ্ধ ও হিংসার ওপর নয়, শান্তি, ভালোবাসা ও সৃষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।

প্রশ্ন ১০

‘অভিষেক’ কবিতায় রাবণের চরিত্রের যে বীরত্ব ও পিতৃস্নেহ প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচনা করো।

উত্তর:

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ অংশে রাবণকে একদিকে শোকাহত পিতা এবং অন্যদিকে বীর যোদ্ধা হিসেবে দেখা যায়। মেঘনাদের মৃত্যুসংবাদ রাবণের মনে গভীর পুত্রশোক সৃষ্টি করে। পুত্রের প্রতি তার ভালোবাসা ও আবেগ এই শোকের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কিন্তু রাবণ কেবল শোকে ভেঙে পড়ে না। ব্যক্তিগত বেদনার মধ্যেও তার বীরত্ব, আত্মমর্যাদা ও প্রতিশোধস্পৃহা জেগে ওঠে। সে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সংকল্প গ্রহণ করে। এইভাবে পিতৃস্নেহ ও বীরত্ব তার চরিত্রে পাশাপাশি অবস্থান করেছে।

ফলে রাবণকে এখানে একমাত্রিক খলচরিত্র হিসেবে দেখা যায় না। তার মধ্যে পিতার কোমলতা এবং যোদ্ধার কঠোরতা—দুই বিপরীত বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটেছে। এটাই তার চরিত্রকে মানবিক ও মহত্তর করে তুলেছে।

প্রবন্ধ

পাঠ্য প্রবন্ধ থেকে বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন

প্রশ্ন ১১

‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে রাজশেখর বসু বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে কোন সমস্যাগুলির কথা বলেছেন?

উত্তর:

রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের প্রধান বিষয় বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার সমস্যা ও সম্ভাবনা। লেখকের মতে, বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে তার বক্তব্য সহজ ও স্পষ্ট বাংলায় প্রকাশ করা দরকার।

কিন্তু বিজ্ঞানবিষয়ক বিষয় বাংলায় প্রকাশ করার সময় উপযুক্ত পরিভাষার অভাব, অপ্রচলিত বা দুর্বোধ্য শব্দের ব্যবহার এবং অতিরিক্ত সংস্কৃতনির্ভর ভাষা অনেক সময় পাঠকের বোঝার পথে বাধা সৃষ্টি করে। আবার বিদেশি শব্দকে অযথা বাদ দিতে গিয়েও ভাষাকে কৃত্রিম করে তোলা ঠিক নয়।

লেখক তাই এমন একটি বৈজ্ঞানিক বাংলা ভাষার পক্ষে মত দিয়েছেন, যা নির্ভুল, সহজবোধ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য পরিভাষাসমৃদ্ধ। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করে তোলা।

প্রশ্ন ১২

‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বিজ্ঞানবিষয়ক রচনার ভাষা কেমন হওয়া উচিত বলে লেখক মনে করেন?

উত্তর:

রাজশেখর বসুর মতে বিজ্ঞানবিষয়ক রচনার ভাষা অবশ্যই নির্ভুল ও স্পষ্ট হওয়া দরকার। বৈজ্ঞানিক বিষয়কে এমনভাবে প্রকাশ করতে হবে যাতে পাঠক বিষয়টি সহজে বুঝতে পারেন। শুধু কঠিন শব্দ ব্যবহার করলেই বৈজ্ঞানিক আলোচনা উন্নত হয় না।

প্রয়োজন অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু সেই পরিভাষা এমন হওয়া উচিত যাতে তার অর্থ পাঠকের কাছে বোধগম্য হয়। অযথা দুর্বোধ্য ও কৃত্রিম ভাষা ব্যবহার করলে বিজ্ঞান সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।

তাই লেখকের আদর্শ বিজ্ঞানভাষা হলো—নির্ভুল, সংক্ষিপ্ত, সহজ, স্বাভাবিক এবং বিষয়ের উপযোগী। এই ধরনের ভাষার মাধ্যমেই বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে।

প্রশ্ন ১৩

‘হারিয়ে যাওয়া কালিকলম’ রচনায় লেখক পুরোনো লেখার উপকরণের প্রতি যে স্মৃতিমেদুরতা প্রকাশ করেছেন তা আলোচনা করো।

উত্তর:

‘হারিয়ে যাওয়া কালিকলম’ রচনায় পুরোনো লেখার উপকরণকে কেন্দ্র করে অতীত জীবনের নানা স্মৃতি ও পরিবর্তনের ছবি ফুটে উঠেছে। কালিকলম, দোয়াত ও লেখার পুরোনো পদ্ধতি একসময় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে সেইসব উপকরণ ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে।

লেখকের স্মৃতিতে পুরোনো কালিকলম শুধু একটি লেখার সরঞ্জাম নয়; এটি একটি সম্পূর্ণ সময়ের প্রতীক। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ধৈর্য, লেখার অভ্যাস, ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং পুরোনো সংস্কৃতির নানা দিক।

তাই রচনাটিতে পুরোনো জিনিস হারিয়ে যাওয়ার জন্য লেখকের মধ্যে যে বিষণ্ণতা তৈরি হয়েছে, তা আসলে একটি পরিবর্তনশীল সময়ের প্রতি স্মৃতিমেদুরতা। আধুনিকতার অগ্রগতির পাশাপাশি অতীতের কিছু মূল্যবান অভিজ্ঞতা হারিয়ে যাওয়ার বেদনাও এখানে প্রকাশিত হয়েছে।

নাটক

‘সিরাজদ্দৌলা’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১৪

‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটক অবলম্বনে সিরাজের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর:

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে সিরাজদ্দৌলাকে একজন দেশপ্রেমিক, সাহসী ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন শাসক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার বিষয়ে তাঁর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছিল। ইংরেজদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে তিনি সতর্ক ছিলেন।

সিরাজের চরিত্রে আবেগপ্রবণতাও ছিল। তিনি নিজের আপনজন ও সভাসদদের প্রতি বিশ্বাস রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। ফলে তাঁর চরিত্রে সাহসের পাশাপাশি সরলতা ও রাজনৈতিক দুর্বলতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে।

শেষ পর্যন্ত বিপদের মুখেও সিরাজ নিজের দেশ ও মর্যাদার কথা ভুলে যাননি। তাঁর পরিণতি বাংলার স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। তাই সিরাজ নাটকে একদিকে ঐতিহাসিক চরিত্র, অন্যদিকে দেশপ্রেম ও ট্র্যাজিক বেদনার প্রতীক।

প্রশ্ন ১৫

‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে মীরজাফরের চরিত্রের স্বরূপ আলোচনা করো।

উত্তর:

‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে মীরজাফর ষড়যন্ত্র, স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক। সিরাজের প্রতি আনুগত্যের ভান করলেও তার মনে ছিল ব্যক্তিগত ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে ইংরেজদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ ও ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়।

মীরজাফরের চরিত্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো দেশ ও শাসকের প্রতি আনুগত্যের অভাব। ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও সিংহাসনের লোভ তাকে এমন পথে নিয়ে যায়, যার ফল বাংলার রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়।

নাটকে মীরজাফর তাই শুধু একজন ব্যক্তি নয়; সে বিশ্বাসঘাতকতার একটি ঐতিহাসিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তার চরিত্রের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও স্বার্থপরতা একটি শক্তিশালী দেশকেও দুর্বল করে দিতে পারে।

পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ — কোনি

‘কোনি’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৫ নম্বরের প্রশ্ন

প্রশ্ন ১৬

‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিদদার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তর:

মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিদদা একজন কঠোর, আত্মবিশ্বাসী ও দূরদর্শী প্রশিক্ষক। সমাজের আর্থিক অবস্থান বা বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে মানুষের প্রতিভাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। কোনির মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে তিনি তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ক্ষিদদা কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতায় বিশ্বাসী। কোনি দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি তাকে ছাড় দেন না; বরং আরও শক্তভাবে অনুশীলন করতে উৎসাহ দেন। তাঁর কঠোরতার আড়ালে ছিল গভীর স্নেহ ও শিষ্যের প্রতি বিশ্বাস।

ক্ষিদদার সবচেয়ে বড় গুণ হলো তিনি প্রতিকূলতার কাছে হার মানেন না। কোনির সাফল্যের পেছনে তাঁর প্রশিক্ষণ, মানসিক শক্তি ও নিরন্তর উৎসাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই ক্ষিদদা শুধু প্রশিক্ষক নন, কোনির জীবনের একজন গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক।

প্রশ্ন ১৭

‘কোনি’ উপন্যাসে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে কোনির সংগ্রাম আলোচনা করো।

উত্তর:

‘কোনি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তার জীবনে আর্থিক সংকট ও সামাজিক প্রতিকূলতা ছিল প্রবল। কিন্তু এই প্রতিকূলতা তার প্রতিভা ও সাফল্যের আকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণ দমিয়ে দিতে পারেনি।

সাঁতারে তার স্বাভাবিক প্রতিভা ছিল। ক্ষিদদার প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ তার সেই প্রতিভাকে বিকশিত করে। কঠোর অনুশীলন, শারীরিক কষ্ট এবং মানসিক চাপ সহ্য করেও কোনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যায়নি।

কোনির সংগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সে নিজের পরিস্থিতিকে নিজের ভাগ্য বলে মেনে নেয়নি। কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে সে বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে। তাই কোনির চরিত্র সাফল্যের জন্য প্রতিভার পাশাপাশি অধ্যবসায় ও সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার প্রতীক।

প্রশ্ন ১৮

‘কোনি’ উপন্যাসের নামকরণ কতটা সার্থক?

উত্তর:

মতি নন্দীর উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে কোনির জীবন, সংগ্রাম ও সাঁতারে সাফল্য অর্জনের কাহিনি। গল্পের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে কোনির ব্যক্তিগত জীবন, তার পরিবার, প্রশিক্ষণ, প্রতিকূলতা এবং প্রতিযোগিতার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

কোনি শুধু উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নয়; তার সংগ্রামের মধ্য দিয়েই উপন্যাসের মূল বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। দরিদ্র পরিবেশ থেকে উঠে এসে প্রতিভা, কঠোর অনুশীলন ও আত্মবিশ্বাসের সাহায্যে নিজের জায়গা তৈরি করার লড়াই তার চরিত্রকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।

তাই উপন্যাসের বিষয়বস্তু, চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ—সবকিছুর সঙ্গে ‘কোনি’ নামটি সরাসরি যুক্ত। এই কারণে উপন্যাসটির নামকরণ অত্যন্ত সার্থক।

প্রশ্ন ১৯

‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিদদা ও কোনির সম্পর্কের স্বরূপ আলোচনা করো।

উত্তর:

ক্ষিদদা ও কোনির সম্পর্ক মূলত একজন প্রশিক্ষক ও শিষ্যের সম্পর্ক হলেও এর মধ্যে গভীর স্নেহ, বিশ্বাস ও মানসিক বন্ধন রয়েছে। ক্ষিদদা কোনির প্রতিভা প্রথম থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তার আর্থিক দুরবস্থা বা সামাজিক অবস্থানকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি তাকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেন।

ক্ষিদদা কোনির প্রতি কঠোর ছিলেন। কিন্তু তাঁর কঠোরতার উদ্দেশ্য ছিল কোনিকে মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্ত করে তোলা। কোনি যখন হতাশ বা দুর্বল হয়ে পড়ত, তখন ক্ষিদদা তাকে আবার লড়াই করার সাহস দিতেন।

অন্যদিকে কোনিও ক্ষিদদার প্রতি আস্থা রেখেছিল এবং তাঁর নির্দেশ মেনে কঠোর পরিশ্রম করেছিল। তাই তাদের সম্পর্ক শুধু প্রশিক্ষক-শিষ্যের নয়; এটি বিশ্বাস, সংগ্রাম ও সাফল্যের এক গভীর মানবিক সম্পর্ক।

প্রশ্ন ২০

‘কোনি’ উপন্যাসে “ফাইট, কোনি, ফাইট” উক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তর:

“ফাইট, কোনি, ফাইট” শুধু একটি উৎসাহের বাক্য নয়; এটি ‘কোনি’ উপন্যাসের সংগ্রামী চেতনার অন্যতম প্রতীক। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কোনি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন ক্ষিদদার এই আহ্বান তাকে আবার লড়াই করার মানসিক শক্তি দেয়।

এখানে ‘ফাইট’ বলতে শুধু সাঁতারের প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার চেষ্টা বোঝায় না। দারিদ্র্য, সামাজিক অবহেলা, হতাশা, শারীরিক ক্লান্তি এবং নানা বাধার বিরুদ্ধে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার কথাও বোঝানো হয়েছে।

উক্তিটি কোনির আত্মবিশ্বাসকে জাগিয়ে তোলে এবং তাকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করে যেতে শেখায়। তাই “ফাইট, কোনি, ফাইট” অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস, প্রতিরোধ এবং হার না মানার মানসিকতার প্রতীক।

PART 5

মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা ব্যাকরণ

৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১

কারক কাকে বলে?

উত্তর: বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক থাকে, তাকে কারক বলে।
প্রশ্ন ২

কারক কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণে কারক প্রধানত ছয় প্রকার—কর্তৃকারক, কর্মকারক, করণকারক, সম্প্রদান কারক, অপাদান কারক ও অধিকরণ কারক।
প্রশ্ন ৩

কর্তৃকারক কাকে বলে?

উত্তর: যে ব্যক্তি বা বস্তু ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে বোঝানো পদকে কর্তৃকারক বলে।

উদাহরণ: রাহুল বই পড়ে। — এখানে ‘রাহুল’ কর্তৃকারক।
প্রশ্ন ৪

কর্মকারক কাকে বলে?

উত্তর: কর্তা যে পদকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে, সেই পদকে কর্মকারক বলে।

উদাহরণ: মিতা বই পড়ে। — এখানে ‘বই’ কর্মকারক।
প্রশ্ন ৫

করণকারক কাকে বলে?

উত্তর: যে উপকরণ বা মাধ্যমের সাহায্যে কোনো কাজ সম্পন্ন হয়, তাকে করণকারক বলে।

উদাহরণ: কলম দিয়ে লিখি। — ‘কলম দিয়ে’ করণকারক।
প্রশ্ন ৬

সম্প্রদান কারক কাকে বলে?

উত্তর: যাকে কিছু দেওয়া হয় বা যার উদ্দেশ্যে কোনো বস্তু প্রদান করা হয়, তাকে বোঝানো পদকে সম্প্রদান কারক বলে।

উদাহরণ: আমি গরিবকে কাপড় দিলাম।
প্রশ্ন ৭

অপাদান কারক কাকে বলে?

উত্তর: যে স্থান, ব্যক্তি বা বস্তু থেকে বিচ্ছেদ, উৎপত্তি বা তুলনা বোঝায়, তাকে অপাদান কারক বলে।

উদাহরণ: গাছ থেকে পাতা পড়ে। — ‘গাছ থেকে’ অপাদান কারক।
প্রশ্ন ৮

অধিকরণ কারক কাকে বলে?

উত্তর: যে স্থান, কাল বা আধারে কোনো কাজ সংঘটিত হয়, তাকে বোঝানো পদকে অধিকরণ কারক বলে।

উদাহরণ: মাঠে ছেলেরা খেলছে। — ‘মাঠে’ অধিকরণ কারক।
প্রশ্ন ৯

সমধাতুজ কর্তা কাকে বলে?

উত্তর: বাক্যের কর্তা ও ক্রিয়া একই ধাতু থেকে গঠিত হলে সেই কর্তাকে সমধাতুজ কর্তা বলে।

উদাহরণ: সে একটি গান গাইল। — ‘গান’ ও ‘গাইল’ একই ধাতু থেকে নয়, তাই এটি সমধাতুজ কর্তার উদাহরণ নয়।

উপযুক্ত উদাহরণ: সে একটি খেলা খেলল।
প্রশ্ন ১০

অনুক্ত কর্তা কাকে বলে?

উত্তর: যে কর্তা বাক্যে প্রকাশিত না হলেও ক্রিয়ার অর্থ থেকে তার অস্তিত্ব বোঝা যায়, তাকে অনুক্ত কর্তা বলে।

উদাহরণ: আজ স্কুলে যাওয়া হবে। — এখানে কর্তা প্রকাশিত নয়।
প্রশ্ন ১১

সম্বন্ধপদ কারক নয় কেন?

উত্তর: সম্বন্ধপদ ক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি কোনো সম্পর্ক প্রকাশ করে না; এটি একটি বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে অন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সম্পর্ক প্রকাশ করে। তাই সম্বন্ধপদকে কারক বলা হয় না।
প্রশ্ন ১২

কর্ম কত প্রকার?

উত্তর: কর্ম প্রধানত দুই প্রকার—মুখ্য কর্ম এবং গৌণ কর্ম। এছাড়াও সমধাতুজ কর্ম ও প্রযোজ্য কর্মের মতো বিশেষ ধরনের কর্মও ব্যাকরণে আলোচিত হয়।
প্রশ্ন ১৩

মুখ্য কর্মের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: আমি বই পড়ি। — এখানে ‘বই’ মুখ্য কর্ম।
প্রশ্ন ১৪

সমধাতুজ কর্ম কাকে বলে?

উত্তর: যে কর্মপদ ক্রিয়াপদের ধাতুর সঙ্গে একই ধাতু থেকে গঠিত হয়, তাকে সমধাতুজ কর্ম বলে।

উদাহরণ: সে একটি খেলা খেলল।
প্রশ্ন ১৫

বিভক্তি কাকে বলে?

উত্তর: যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে বাক্যে সেই শব্দের সঙ্গে অন্য পদের সম্পর্ক প্রকাশ করে, তাকে বিভক্তি বলে।

উদাহরণ: রামকে — ‘কে’ বিভক্তি।
প্রশ্ন ১৬

বিভক্তি ও অনুসর্গের মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: বিভক্তি সাধারণত শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি পদ গঠন করে; কিন্তু অনুসর্গ স্বাধীনভাবে শব্দের পরে বসে সম্পর্ক প্রকাশ করে।

উদাহরণ: তাকে — ‘কে’ বিভক্তি; তার জন্য — ‘জন্য’ অনুসর্গ।
প্রশ্ন ১৭

সমাস কাকে বলে?

উত্তর: পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদের একপদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।

উদাহরণ: রাজার পুত্র → রাজপুত্র।
প্রশ্ন ১৮

সমাসের উদ্দেশ্য কী?

উত্তর: ভাষাকে সংক্ষিপ্ত, সুন্দর ও অর্থবহ করাই সমাসের প্রধান উদ্দেশ্য। একাধিক পদের পরিবর্তে একটি সমাসবদ্ধ পদ ব্যবহার করে কম শব্দে বেশি অর্থ প্রকাশ করা যায়।
প্রশ্ন ১৯

দ্বন্দ্ব সমাস কাকে বলে?

উত্তর: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলির প্রত্যেকটির অর্থই প্রধান থাকে এবং ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘ও’, ‘এবং’ ইত্যাদি অব্যয় থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

উদাহরণ: মা ও বাবা → মা-বাবা।
প্রশ্ন ২০

দ্বিগু সমাস কাকে বলে?

উত্তর: যে সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমাসবদ্ধ পদ দ্বারা কোনো সমষ্টি বা সমাহার বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।

উদাহরণ: তিন ভুবনের সমাহার → ত্রিভুবন।
প্রশ্ন ২১

কর্মধারয় সমাস কাকে বলে?

উত্তর: যে সমাসে পূর্বপদ পরের পদকে বিশেষিত করে এবং উভয় পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

উদাহরণ: নীল যে পদ্ম → নীলপদ্ম।
প্রশ্ন ২২

তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে?

উত্তর: যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান হয় এবং ব্যাসবাক্যে পূর্বপদের সঙ্গে পরপদের কারক-সম্পর্ক থাকে, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

উদাহরণ: রাজার পুত্র → রাজপুত্র।
প্রশ্ন ২৩

বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে?

উত্তর: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলির কোনোটির অর্থ প্রধান না হয়ে সমাসবদ্ধ পদ দ্বারা অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

উদাহরণ: নীল কণ্ঠ যার → নীলকণ্ঠ।
প্রশ্ন ২৪

অলোপ সমাস কাকে বলে?

উত্তর: যে সমাসে ব্যাসবাক্যের কোনো বিভক্তি বা অনুসর্গের লোপ হয় না, তাকে অলোপ সমাস বলে।

উদাহরণ: সারা রাত → সারারাত।
প্রশ্ন ২৫

নিত্য সমাস কাকে বলে?

উত্তর: যে সমাসবদ্ধ পদ প্রচলিত ব্যবহারে একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে এবং যার ব্যাসবাক্য সাধারণ নিয়মে সহজে তৈরি করা যায় না, তাকে নিত্য সমাস বলে।

উদাহরণ: নীলকণ্ঠ শব্দটি নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হলে তা নিত্য সমাসের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রশ্ন ২৬

‘রাজপুত্র’ শব্দটির ব্যাসবাক্য ও সমাসের নাম লেখো।

উত্তর: ব্যাসবাক্য — রাজার পুত্র।
সমাস — ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
প্রশ্ন ২৭

‘নীলপদ্ম’ শব্দটির ব্যাসবাক্য ও সমাসের নাম লেখো।

উত্তর: ব্যাসবাক্য — নীল যে পদ্ম।
সমাস — কর্মধারয় সমাস।
প্রশ্ন ২৮

‘মা-বাবা’ শব্দটির ব্যাসবাক্য ও সমাসের নাম লেখো।

উত্তর: ব্যাসবাক্য — মা ও বাবা।
সমাস — দ্বন্দ্ব সমাস।
প্রশ্ন ২৯

‘ত্রিভুবন’ শব্দটির ব্যাসবাক্য ও সমাসের নাম লেখো।

উত্তর: ব্যাসবাক্য — তিন ভুবনের সমাহার।
সমাস — দ্বিগু সমাস।
প্রশ্ন ৩০

বাক্য কাকে বলে?

উত্তর: যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি মনের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে, তাকে বাক্য বলে।

উদাহরণ: রাহুল প্রতিদিন স্কুলে যায়।
প্রশ্ন ৩১

বাক্য নির্মাণের প্রধান শর্তগুলি কী কী?

উত্তর: বাক্য নির্মাণের প্রধান শর্তগুলি হল—আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।
প্রশ্ন ৩২

আকাঙ্ক্ষা কাকে বলে?

উত্তর: বাক্যের একটি পদ শুনলে বা পড়লে অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য অন্য পদের যে প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়, তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
প্রশ্ন ৩৩

যোগ্যতা কাকে বলে?

উত্তর: বাক্যের পদগুলির মধ্যে অর্থগত সামঞ্জস্য বা উপযুক্ত সম্পর্ক থাকাকে যোগ্যতা বলে।

উদাহরণ: ‘জলে আগুন জ্বলে’—সাধারণ অর্থে বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
প্রশ্ন ৩৪

আসত্তি কাকে বলে?

উত্তর: বাক্যের পদগুলির মধ্যে যথাযথ নৈকট্য বা পারস্পরিক সংযোগ থাকাকে আসত্তি বলে। পদগুলির মধ্যে অতিরিক্ত বিচ্ছিন্নতা থাকলে বাক্যের অর্থ বোঝা কঠিন হয়ে যায়।
প্রশ্ন ৩৫

গঠন অনুসারে বাক্য কত প্রকার?

উত্তর: গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার—সরল বাক্য, জটিল বাক্য এবং যৌগিক বাক্য।
প্রশ্ন ৩৬

সরল বাক্য কাকে বলে?

উত্তর: যে বাক্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে এবং একটি মাত্র স্বাধীন খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

উদাহরণ: রিমা গান গায়।
প্রশ্ন ৩৭

জটিল বাক্য কাকে বলে?

উত্তর: যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

উদাহরণ: যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়।
প্রশ্ন ৩৮

যৌগিক বাক্য কাকে বলে?

উত্তর: দুই বা ততোধিক স্বাধীন খণ্ডবাক্য সংযোজক অব্যয়ের সাহায্যে যুক্ত হয়ে যে বাক্য গঠন করে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

উদাহরণ: সে পড়ে এবং আমি লিখি।
প্রশ্ন ৩৯

‘সে খুব পরিশ্রম করে এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করে।’ — বাক্যটি কী ধরনের?

উত্তর: এটি একটি যৌগিক বাক্য। কারণ দুটি স্বাধীন খণ্ডবাক্য ‘এবং’ সংযোজক অব্যয়ের সাহায্যে যুক্ত হয়েছে।
প্রশ্ন ৪০

‘যে সত্য কথা বলে, সবাই তাকে ভালোবাসে।’ — বাক্যটি কী ধরনের?

উত্তর: এটি একটি জটিল বাক্য। কারণ একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে একটি অপ্রধান খণ্ডবাক্য যুক্ত হয়েছে।
প্রশ্ন ৪১

বাচ্য কাকে বলে?

উত্তর: ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তা বা কর্মের যে সম্পর্ককে বিশেষভাবে প্রকাশ করা হয়, সেই অনুযায়ী ক্রিয়ার যে রূপ হয় তাকে বাচ্য বলে।
প্রশ্ন ৪২

বাচ্য কত প্রকার?

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণে বাচ্য প্রধানত চার প্রকার—কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য এবং কর্মকর্তৃবাচ্য।
প্রশ্ন ৪৩

কর্তৃবাচ্য কাকে বলে?

উত্তর: যে বাচ্যে কর্তা প্রধান হয়ে ওঠে এবং কর্তার ক্রিয়াই বিশেষভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।

উদাহরণ: রাহুল চিঠি লেখে।
প্রশ্ন ৪৪

কর্মবাচ্য কাকে বলে?

উত্তর: যে বাচ্যে কর্ম প্রধান হয়ে ওঠে এবং কর্তা গৌণ হয়ে যায়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

উদাহরণ: রাহুলের দ্বারা চিঠি লেখা হয়।
প্রশ্ন ৪৫

ভাববাচ্য কাকে বলে?

উত্তর: যে বাচ্যে কর্তা বা কর্মের পরিবর্তে ক্রিয়ার ভাব বা সংঘটন প্রধান হয়ে ওঠে, তাকে ভাববাচ্য বলে।

উদাহরণ: এখানে বসা যায়।
প্রশ্ন ৪৬

কর্মকর্তৃবাচ্য কাকে বলে?

উত্তর: যে বাচ্যে কর্মই কর্তার মতো ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে প্রধান হয়ে ওঠে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।

উদাহরণ: বইটি ছাপা হয়েছে।
প্রশ্ন ৪৭

‘মা শিশুকে ডাকলেন।’ — কর্মবাচ্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর: শিশুকে মায়ের দ্বারা ডাকা হলো।
প্রশ্ন ৪৮

‘রাহুল চিঠি লিখেছে।’ — কর্মবাচ্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর: রাহুলের দ্বারা চিঠি লেখা হয়েছে।
প্রশ্ন ৪৯

‘তুমি এখন বাংলা পড়ো।’ — নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর: তুমি এখন বাংলা পড়ো না।
প্রশ্ন ৫০

‘তুমি বাংলা পড়বে অথবা ইংরেজি পড়বে।’ — বাক্যটি সরলভাবে প্রকাশ করো।

উত্তর: তুমি বাংলা অথবা ইংরেজি পড়বে।
PART 6

মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা — নির্মিতি

৩০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্মিতি প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর

১. কাল্পনিক গল্প

৬টি পরীক্ষোপযোগী গল্পের বিষয় ও নমুনা উত্তর

প্রশ্ন ১
কাল্পনিক গল্প

নিচের সূত্র অবলম্বনে একটি গল্প রচনা করো:
“এক ছাত্র পরীক্ষার হলে যাওয়ার পথে একটি টাকা ভর্তি ব্যাগ পেল…”

নমুনা উত্তর:

সততার পুরস্কার

রাহুল মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী। সেদিন ছিল তার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। সে সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। পথের ধারে হঠাৎ সে একটি ব্যাগ দেখতে পেল। ব্যাগটি খুলে সে অবাক হয়ে গেল। ভিতরে বেশ কিছু টাকা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল।

রাহুলের মনে এক মুহূর্তের জন্য লোভ জেগেছিল। কিন্তু সে ভাবল, এই টাকা নিশ্চয়ই কোনো মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ব্যাগের ভিতরে থাকা একটি পরিচয়পত্র দেখে সে মালিকের ঠিকানা খুঁজে বের করার চেষ্টা করল।

পরীক্ষা শুরু হতে তখন খুব বেশি সময় বাকি ছিল না। তবুও রাহুল কাছের থানায় গিয়ে ব্যাগটি জমা দিল এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছল। পরীক্ষার পর ব্যাগের মালিক থানায় এসে রাহুলের সততার কথা জানতে পারেন। তিনি রাহুলকে পুরস্কার দিতে চাইলেও রাহুল তা গ্রহণ করেনি।

রাহুল বলেছিল, “অন্যের জিনিস ফিরিয়ে দেওয়া কোনো উপকার নয়, এটা আমার কর্তব্য।” তার সততা ও দায়িত্ববোধ সকলের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

নীতিকথা: সততার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু নেই।

প্রশ্ন ২
কাল্পনিক গল্প

সূত্র অবলম্বনে গল্প লেখো:
“এক বৃদ্ধ প্রতিদিন একটি গাছের চারা লাগাতেন। গ্রামের লোকেরা তাঁকে নিয়ে হাসত। কয়েক বছর পর…”

নমুনা উত্তর:

ভবিষ্যতের জন্য

একটি গ্রামের প্রান্তে থাকতেন হরিদাস নামে এক বৃদ্ধ। প্রতিদিন সকালে তিনি একটি করে গাছের চারা লাগাতেন। গ্রামের লোকেরা তাঁকে দেখে হাসত। তারা বলত, “এই বয়সে গাছ লাগিয়ে কী লাভ? গাছ বড় হতে হতে তো আপনি থাকবেন না।”

হরিদাস কোনো উত্তর দিতেন না। তিনি শুধু বলতেন, “আমি যদি অন্যের লাগানো গাছের ছায়া পেয়ে থাকি, তবে আমিও ভবিষ্যতের মানুষের জন্য কিছু রেখে যেতে চাই।”

কয়েক বছর কেটে গেল। গ্রামের চারপাশে সেই ছোট ছোট চারাগাছ বিশাল বৃক্ষে পরিণত হলো। প্রচণ্ড গরমে মানুষ সেই গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে লাগল। পাখিরা বাসা বাঁধল, পরিবেশ ঠান্ডা হলো এবং গ্রামের সৌন্দর্যও বেড়ে গেল।

তখন গ্রামের মানুষ বুঝতে পারল, বৃদ্ধের কাজ কখনোই বৃথা যায়নি। তিনি নিজের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গাছ লাগিয়েছিলেন।

নীতিকথা: ভালো কাজের ফল সবসময় সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন ৩
কাল্পনিক গল্প

সূত্র অবলম্বনে গল্প লেখো:
“দুই বন্ধু পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিল। হঠাৎ একজন বিপদে পড়ল…”

নমুনা উত্তর:

বিপদে বন্ধুর পরিচয়

অর্ণব ও সুমন ছোটবেলার বন্ধু। একদিন তারা পাহাড়ে বেড়াতে গেল। পাহাড়ি পথে হাঁটার সময় হঠাৎ সুমনের পা পিছলে যায়। সে একটি ঢালু জায়গায় পড়ে যায় এবং উঠতে পারছিল না।

অর্ণব ভয় পেলেও বন্ধুকে একা রেখে চলে যায়নি। সে প্রথমে নিজের ব্যাগ থেকে দড়ি বের করল এবং নিরাপদ জায়গায় সেটি বাঁধল। তারপর ধীরে ধীরে নিচে নেমে সুমনকে ধরে উপরে তুলে আনল।

কিছুক্ষণ পর তারা নিরাপদ জায়গায় পৌঁছল। সুমন বলল, “তুই না থাকলে আজ কী হতো জানি না।” অর্ণব হাসতে হাসতে বলল, “বন্ধুত্ব তো শুধু আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য নয়। বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোই আসল বন্ধুত্ব।”

নীতিকথা: বিপদের সময় যে পাশে থাকে, সেই প্রকৃত বন্ধু।

প্রশ্ন ৪
কাল্পনিক গল্প

“লোভের পরিণতি” — এই শিরোনাম অবলম্বনে একটি গল্প রচনা করো।

নমুনা উত্তর:

লোভের পরিণতি

বিজন একটি ছোট দোকান চালাত। ব্যবসা ভালোই চলছিল। কিন্তু অল্পে তার মন ভরত না। সে সবসময় দ্রুত বেশি টাকা উপার্জনের পথ খুঁজত।

একদিন এক অপরিচিত ব্যক্তি তাকে খুব কম দামে একটি মূল্যবান জিনিস দেওয়ার প্রস্তাব দিল। বিজন কোনো যাচাই না করেই বেশি লাভের আশায় সেটি কিনে নিল। পরে সে জানতে পারল, জিনিসটি আসলে নকল।

শুধু তাই নয়, লোকটির দেওয়া কাগজপত্রও ভুয়ো ছিল। বিজন নিজের সঞ্চয়ের বেশিরভাগ টাকা হারাল। সে বুঝতে পারল, অল্প সময়ে বেশি লাভের লোভই তাকে বিপদে ফেলেছে।

এরপর থেকে বিজন আর কোনো কাজ করার আগে ভালোভাবে যাচাই করত। ধীরে ধীরে সে আবার নিজের ব্যবসা দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।

নীতিকথা: অতিরিক্ত লোভ মানুষকে নিজের সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রশ্ন ৫
কাল্পনিক গল্প

“হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন” — বিষয়টি অবলম্বনে একটি শিক্ষামূলক গল্প লেখো।

নমুনা উত্তর:

হারানো জিনিস

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অয়ন রাস্তার পাশে একটি দামি মোবাইল ফোন দেখতে পেল। সে ফোনটি তুলে নিল। কিছুক্ষণ পর ফোনে একটি কল এল। একজন বৃদ্ধ কাঁপা গলায় বললেন, ফোনটি তাঁর এবং তাতে তাঁর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

অয়ন তাঁকে কাছের একটি দোকানের সামনে আসতে বলল। কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধ সেখানে এসে ফোনটি নিজের বলে প্রমাণ করলেন। তিনি অয়নকে টাকা দিতে চাইলেন।

অয়ন বলল, “আপনার জিনিস আপনাকে ফিরিয়ে দিয়েছি। এর জন্য টাকা নেওয়া ঠিক হবে না।” বৃদ্ধ অয়নের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন।

অয়ন বুঝেছিল, অন্যের হারানো জিনিস নিজের করে নেওয়া কখনোই সঠিক নয়।

নীতিকথা: সততা মানুষকে সম্মান এনে দেয়।

প্রশ্ন ৬
কাল্পনিক গল্প

“শেষ পর্যন্ত সত্যের জয়” — এই শিরোনামে একটি গল্প রচনা করো।

নমুনা উত্তর:

শেষ পর্যন্ত সত্যের জয়

বিদ্যালয়ে একটি মূল্যবান ঘড়ি হারিয়ে গেল। সন্দেহ গিয়ে পড়ল দরিদ্র ছাত্র রতনের ওপর। কারণ সে শেষবার শ্রেণিকক্ষে ছিল। অনেকেই তাকে চোর বলে অভিযুক্ত করল।

রতন বারবার বলল যে সে ঘড়িটি নেয়নি। কিন্তু কেউ তার কথা বিশ্বাস করল না। শিক্ষক বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

পরে বিদ্যালয়ের একটি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গেল, অন্য একটি ছাত্র ভুল করে ঘড়িটি নিজের ব্যাগে নিয়ে গিয়েছিল। সে বিষয়টি স্বীকার করে রতনের কাছে ক্ষমা চাইল।

শিক্ষক বললেন, “প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী করা উচিত নয়।” রতনের সততা ও ধৈর্যের শেষ পর্যন্ত জয় হলো।

নীতিকথা: সত্যকে কিছু সময়ের জন্য চাপা দেওয়া যায়, কিন্তু চিরদিনের জন্য নয়।

২. প্রতিবেদন

৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন লেখার নমুনা

প্রশ্ন ৭
প্রতিবেদন

তোমাদের বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লেখো।

নমুনা উত্তর:

বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতা, ১৫ জুলাই ২০২৬

পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে গত ১৫ জুলাই আমাদের বিদ্যালয়ে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের গাছের গুরুত্ব ও পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করেন।

কর্মসূচির শেষে প্রত্যেক শ্রেণিকে কয়েকটি করে গাছের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি চালু থাকবে।

প্রশ্ন ৮
প্রতিবেদন

তোমাদের এলাকায় একটি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বিষয়ে প্রতিবেদন লেখো।

নমুনা উত্তর:

বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির

নিজস্ব সংবাদদাতা: হুগলি, ২০ আগস্ট ২০২৬

স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গত রবিবার আমাদের এলাকায় একটি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে শিবিরটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন। রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ৩০০ জন মানুষ এই শিবির থেকে পরিষেবা গ্রহণ করেন।

চিকিৎসকেরা রোগ প্রতিরোধ, খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন। এলাকার বাসিন্দারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

প্রশ্ন ৯
প্রতিবেদন

তোমাদের বিদ্যালয়ে একটি বিজ্ঞান প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ওপর একটি প্রতিবেদন লেখো।

নমুনা উত্তর:

বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান প্রদর্শনী

নিজস্ব সংবাদদাতা: বর্ধমান, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ৫ সেপ্টেম্বর আমাদের বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে।

সৌরশক্তি, জল সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন মডেল প্রদর্শিত হয়। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের তৈরি মডেলের কার্যপ্রণালী দর্শকদের সামনে ব্যাখ্যা করে।

অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষও প্রদর্শনী দেখতে আসেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্ন ১০
প্রতিবেদন

তোমাদের এলাকায় প্রবল বর্ষণের ফলে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন লেখো।

নমুনা উত্তর:

প্রবল বর্ষণে জলমগ্ন এলাকা

নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টানা কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে গতকাল জেলার বেশ কয়েকটি এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বহু রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

নিচু এলাকার বেশ কিছু বাড়িতেও জল ঢুকে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পের সাহায্যে জল বের করার ব্যবস্থা করা হয়। বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কর্মীরাও বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে জলমগ্ন এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

প্রশ্ন ১১
প্রতিবেদন

বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ওপর একটি প্রতিবেদন লেখো।

নমুনা উত্তর:

বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

নিজস্ব সংবাদদাতা: নদিয়া, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

গত ১০ জানুয়ারি আমাদের বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে।

দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

শেষে সফল প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাও ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন ১২
প্রতিবেদন

তোমাদের এলাকায় একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ওপর প্রতিবেদন লেখো।

নমুনা উত্তর:

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এলাকাবাসী

নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তর ২৪ পরগনা, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

স্বচ্ছ ও দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গত রবিবার আমাদের এলাকায় একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় ক্লাব ও বাসিন্দাদের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় এবং নিকাশি নালাগুলিও পরিষ্কার করা হয়। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়।

প্রায় শতাধিক মানুষ এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। উদ্যোক্তারা জানান, শুধু একদিন পরিষ্কার করলেই হবে না; নিয়মিতভাবে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

৩. রচনা / প্রবন্ধ

৮টি গুরুত্বপূর্ণ রচনার বিষয় ও পূর্ণাঙ্গ নমুনা উত্তর

প্রশ্ন ১৩
রচনা

ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য

নমুনা উত্তর:

মানুষের জীবনে সময় অত্যন্ত মূল্যবান। অর্থ বা সম্পদ হারিয়ে গেলে তা আবার অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু একবার চলে যাওয়া সময় কখনো ফিরে আসে না। তাই ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য আরও বেশি।

ছাত্রজীবন মানুষের ভবিষ্যৎ গঠনের সময়। এই সময়ে পড়াশোনা, শরীরচর্চা, খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ এবং নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন ছাত্র নিজের ভবিষ্যৎ প্রস্তুত করে। কিন্তু সময়ের সঠিক ব্যবহার না করলে পরে তার ফল ভোগ করতে হয়।

বর্তমানে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিনোদনের কারণে অনেক ছাত্র অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় নষ্ট করে। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়। তাই প্রতিদিনের কাজের জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সূচি তৈরি করা দরকার।

সময়নিষ্ঠ মানুষ জীবনের কাজগুলি পরিকল্পনা করে করতে পারে। পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার পরিবর্তে প্রতিদিন নিয়মিত পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

তাই ছাত্রজীবনে সময়কে অবহেলা না করে তার সঠিক ব্যবহার করা উচিত। সময়ের মূল্য বুঝে যে ছাত্র এগিয়ে চলে, ভবিষ্যতে সাফল্যের সম্ভাবনা তারই বেশি।

প্রশ্ন ১৪
রচনা

পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা

নমুনা উত্তর:

মানুষ ও পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বনভূমি ধ্বংস, প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং দূষণের কারণে পরিবেশ আজ নানা সমস্যার সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ছাত্রছাত্রীরা প্রথমত নিজেদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করতে পারে। বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্লাস্টিকবিরোধী প্রচার এবং জল সংরক্ষণের মতো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা যায়।

শুধু গাছ লাগালেই পরিবেশ রক্ষা হয় না; লাগানো গাছের যত্ন নেওয়াও জরুরি। অপ্রয়োজনীয়ভাবে জল নষ্ট না করা, যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলাও পরিবেশ রক্ষার অংশ।

ছাত্রছাত্রীরা পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করতে পারে। তাদের ছোট ছোট অভ্যাস সমাজে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

তাই পরিবেশ রক্ষার কাজ শুধু সরকারের নয়। ছাত্রসমাজ সচেতন ও দায়িত্বশীল হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রশ্ন ১৫
রচনা

বিজ্ঞান: আশীর্বাদ না অভিশাপ

নমুনা উত্তর:

আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতির পেছনে বিজ্ঞানের অবদান অসীম। বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, যোগাযোগ, পরিবহণ, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি—জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ করেছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বহু কঠিন রোগের চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে অন্য প্রান্তের মানুষ মুহূর্তে যোগাযোগ করতে পারে। কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করছে।

কিন্তু বিজ্ঞানের অপব্যবহার বিপজ্জনক। যুদ্ধাস্ত্র, পারমাণবিক অস্ত্র এবং নানা ধ্বংসাত্মক প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় হুমকি। অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা মানুষের সামাজিক সম্পর্ক ও স্বাভাবিক জীবনেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তাই বিজ্ঞান নিজে আশীর্বাদ বা অভিশাপ নয়। মানুষ কীভাবে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করছে তার ওপর তার ফল নির্ভর করে। মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ব্যবহার করলে তা আশীর্বাদ; ধ্বংস ও শোষণের কাজে ব্যবহার করলে তা অভিশাপে পরিণত হয়।

প্রশ্ন ১৬
রচনা

বই পড়ার অভ্যাস

নমুনা উত্তর:

বই মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বন্ধু। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ শুধু জ্ঞান অর্জন করে না, তার চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও ভাষাজ্ঞানও বৃদ্ধি পায়। তাই ছাত্রজীবনে বই পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠ্যবই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় হলেও কেবল পাঠ্যবই পড়লেই জ্ঞানের পরিধি বাড়ে না। গল্প, উপন্যাস, জীবনী, বিজ্ঞানবিষয়ক বই, ইতিহাস ও ভ্রমণকাহিনি পড়লে নানা বিষয়ে নতুন ধারণা তৈরি হয়।

বর্তমানে মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বই পড়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই কমছে। কিন্তু নিয়মিত বই পড়া মনোযোগ ধরে রাখতে এবং গভীরভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন অল্প সময় হলেও বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা উচিত। বিদ্যালয় ও পরিবার থেকেও শিশুদের বই পড়তে উৎসাহিত করা দরকার।

বই মানুষের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে এবং তাকে চিন্তাশীল করে তোলে। তাই জীবনে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

প্রশ্ন ১৭
রচনা

খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা

নমুনা উত্তর:

সুস্থ শরীরের জন্য যেমন পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন নিয়মিত খেলাধুলা। খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মনকেও সতেজ রাখে।

ছাত্রজীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব আরও বেশি। দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করার ফলে শরীর ও মন ক্লান্ত হয়ে যায়। খেলাধুলা সেই ক্লান্তি দূর করে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

খেলাধুলা থেকে নিয়মানুবর্তিতা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব, ধৈর্য এবং হার-জিতকে মেনে নেওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়। একজন খেলোয়াড় বুঝতে শেখে যে সাফল্যের জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রম দরকার।

বর্তমানে মোবাইল ও কম্পিউটারের কারণে অনেক ছাত্র মাঠের খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই প্রবণতা বদলানো দরকার।

তাই পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর নিয়মিত খেলাধুলার অভ্যাস থাকা উচিত। সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

প্রশ্ন ১৮
রচনা

সামাজিক জীবনে ইন্টারনেটের ভূমিকা

নমুনা উত্তর:

ইন্টারনেট আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। শিক্ষা, যোগাযোগ, ব্যবসা, চিকিৎসা, সরকারি পরিষেবা এবং বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার রয়েছে।

ছাত্রছাত্রীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল বই, শিক্ষামূলক ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্যভান্ডার পড়াশোনাকে সহজ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দূরে থাকা মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করা যায়। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার সময় নষ্ট করতে পারে এবং ভুল তথ্য, প্রতারণা ও অনলাইন হয়রানির মতো সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

তাই ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি। ব্যক্তিগত তথ্য অযথা প্রকাশ না করা, সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা দরকার।

ইন্টারনেট একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি জ্ঞান ও উন্নতির হাতিয়ার; অসচেতন ব্যবহার করলে তা সমস্যার কারণ হতে পারে।

প্রশ্ন ১৯
রচনা

আমার প্রিয় শিক্ষক

নমুনা উত্তর:

শিক্ষকের স্থান মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ভালো শিক্ষক শুধু বইয়ের বিষয় শেখান না; তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঠিক পথে চলার শিক্ষাও দেন। আমার প্রিয় শিক্ষক হলেন আমাদের বাংলা শিক্ষক।

তিনি অত্যন্ত সহজভাবে কঠিন বিষয় বোঝান। কোনো ছাত্র কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে তিনি বিরক্ত হন না। বরং অন্যভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ক্লাসে শুধু বইয়ের প্রশ্ন নয়, সাহিত্য ও সমাজজীবনের নানা বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

তিনি আমাদের সময়ের মূল্য, শৃঙ্খলা এবং সততার গুরুত্ব শেখান। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হওয়াকেও তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।

তাঁর ব্যবহার ছাত্রদের প্রতি আন্তরিক। কোনো ছাত্র সমস্যায় পড়লে তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করেন। তাঁর কাছ থেকে আমি শুধু বাংলা বিষয় নয়, জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি।

তাই আমার কাছে তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন; তিনি একজন পথপ্রদর্শক।

প্রশ্ন ২০
রচনা

দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা

নমুনা উত্তর:

শৃঙ্খলা হলো নিয়ম মেনে সঠিকভাবে জীবন পরিচালনা করার অভ্যাস। ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের উন্নতির জন্য শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ছাত্রজীবনে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, পড়াশোনা করা, বিদ্যালয়ে যাওয়া, খেলাধুলা করা এবং বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস একজন ছাত্রের জীবনকে সুশৃঙ্খল করে।

শৃঙ্খলাহীন মানুষ অনেক সময় প্রতিভাবান হয়েও নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না। কারণ শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়; নিয়মিত পরিশ্রম ও সময়ের সঠিক ব্যবহারও দরকার।

সমাজজীবনেও শৃঙ্খলার প্রয়োজন রয়েছে। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, সারিতে দাঁড়ানো, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং অন্যের অধিকারকে সম্মান করা সামাজিক শৃঙ্খলার অংশ।

তাই শৃঙ্খলা কোনো বাধা নয়; বরং সাফল্য ও সুস্থ সমাজের ভিত্তি। ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলা উচিত।

৪. ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ

১০টি পরীক্ষোপযোগী Translation Practice

প্রশ্ন ২১
অনুবাদ

Translate into Bengali:

Honesty is one of the greatest qualities of a human being. An honest person may face difficulties, but he never loses the respect of others.
উত্তর: সততা মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। একজন সৎ মানুষ জীবনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন, কিন্তু তিনি কখনো অন্যের সম্মান হারান না।
প্রশ্ন ২২
অনুবাদ

Translate into Bengali:

Time is more valuable than money. Money can be earned again, but lost time can never be recovered.
উত্তর: সময় অর্থের চেয়েও মূল্যবান। অর্থ আবার উপার্জন করা যায়, কিন্তু হারানো সময় কখনো ফিরে পাওয়া যায় না।
প্রশ্ন ২৩
অনুবাদ

Translate into Bengali:

Trees are essential for our life. They give us oxygen, protect the soil and help to keep the environment cool.
উত্তর: গাছ আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য। তারা আমাদের অক্সিজেন দেয়, মাটিকে রক্ষা করে এবং পরিবেশকে শীতল রাখতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ২৪
অনুবাদ

Translate into Bengali:

A good student does not study only before an examination. He studies regularly and tries to understand every subject.
উত্তর: একজন ভালো ছাত্র শুধু পরীক্ষার আগে পড়াশোনা করে না। সে নিয়মিত পড়াশোনা করে এবং প্রতিটি বিষয় বোঝার চেষ্টা করে।
প্রশ্ন ২৫
অনুবাদ

Translate into Bengali:

Books open the door to knowledge. A person who reads good books can learn from the experiences of many people.
উত্তর: বই জ্ঞানের দরজা খুলে দেয়। যে ব্যক্তি ভালো বই পড়ে, সে বহু মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
প্রশ্ন ২৬
অনুবাদ

Translate into Bengali:

Once a farmer found a wounded bird near his field. He took the bird home and cared for it until it became healthy.
উত্তর: একদিন একজন কৃষক তার মাঠের কাছে একটি আহত পাখি দেখতে পেলেন। তিনি পাখিটিকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার যত্ন নিলেন।
প্রশ্ন ২৭
অনুবাদ

Translate into Bengali:

We should respect people of every religion. Differences in religion should never create hatred among human beings.
উত্তর: আমাদের প্রত্যেক ধর্মের মানুষকে সম্মান করা উচিত। ধর্মের পার্থক্য কখনোই মানুষের মধ্যে ঘৃণা সৃষ্টি করা উচিত নয়।
প্রশ্ন ২৮
অনুবাদ

Translate into Bengali:

Failure is not the end of life. It teaches us our mistakes and gives us another opportunity to try again.
উত্তর: ব্যর্থতাই জীবনের শেষ নয়। এটি আমাদের ভুলগুলি শেখায় এবং আবার চেষ্টা করার একটি নতুন সুযোগ দেয়।
প্রশ্ন ২৯
অনুবাদ

Translate into Bengali:

The villagers decided to build a small library in their village. They collected books from different people and opened the library for everyone.
উত্তর: গ্রামের মানুষ তাদের গ্রামে একটি ছোট গ্রন্থাগার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিল। তারা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করে সকলের জন্য গ্রন্থাগারটি খুলে দিল।
প্রশ্ন ৩০
অনুবাদ

Translate into Bengali:

Education does not simply help us to get a job. It teaches us how to think, how to behave and how to become responsible citizens.
উত্তর: শিক্ষা শুধু আমাদের চাকরি পেতে সাহায্য করে না। এটি আমাদের কীভাবে চিন্তা করতে হয়, কীভাবে আচরণ করতে হয় এবং কীভাবে দায়িত্বশীল নাগরিক হতে হয়, তা শেখায়।