Madhyamik Bengali Suggestion 2027
মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা Final Exam Preparation
গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি MCQ — প্রশ্ন, বিকল্প ও সঠিক উত্তরসহ
তপনের লেখা প্রথম গল্পটির নাম কী?
তপনের লেখা ‘প্রথম দিন’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের জ্ঞানচক্ষু প্রথমে কেন খুলেছিল?
‘বহুরূপী’ গল্পের রচয়িতা কে?
‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদার পেশা কী?
‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা কোন ছদ্মবেশে বিশেষভাবে সাফল্য লাভ করেছিলেন?
‘পথের দাবী’ রচনার লেখক কে?
‘পথের দাবী’-তে সব্যসাচী মল্লিক কোন নামে ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন?
গিরীশ মহাপাত্রকে কার সামনে হাজির করা হয়েছিল?
‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র কে?
নদেরচাঁদ পেশায় কী ছিলেন?
নদেরচাঁদ কতদিন নদীটিকে দেখতে পারেনি?
নদেরচাঁদের কাছে নদীর প্রতি আকর্ষণটি কেমন ছিল?
‘অদল বদল’ গল্পের রচয়িতা কে?
‘অদল বদল’ গল্পে দুই বন্ধু কারা?
অমৃত ও ইসাবের পারিবারিক পার্থক্য কী ছিল?
‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাব একই রকম জামা পরে কোথায় বেরিয়েছিল?
‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
‘অসুখী একজন’ কবিতার কবি কে?
‘অসুখী একজন’ কবিতার প্রধান পটভূমির সঙ্গে কোন বিষয়টি জড়িত?
‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার কবি কে?
‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় প্রধান আহ্বান কোনটি?
‘আফ্রিকা’ কবিতার রচয়িতা কে?
‘আফ্রিকা’ কবিতায় কোন ঐতিহাসিক বাস্তবতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে?
‘অভিষেক’ কবিতার রচয়িতা কে?
‘অভিষেক’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?
‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার কবি কে?
‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘প্রলয়’ কীসের সম্ভাবনার সঙ্গেও যুক্ত?
‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার কবি কে?
‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় অস্ত্রের বিপরীতে কোন শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে?
‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের রচয়িতা কে?
‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত?
‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি ‘পদ্মাবতী’-র কোন খণ্ড থেকে নেওয়া?
‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে ‘কন্যা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বিজ্ঞানবিষয়ক বাংলা গ্রন্থের পাঠকদের মোটামুটি কত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে?
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের মূল আলোচনার সঙ্গে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত?
‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের রচয়িতা কে?
‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমির সঙ্গে কোন ঘটনা বিশেষভাবে যুক্ত?
‘কোনি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
‘কোনি’ উপন্যাসের কাহিনির কেন্দ্রে কোন খেলাটি রয়েছে?
‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিদদার ভূমিকা কী?
‘কোনি’ উপন্যাসে সাফল্যের পথে কোন গুণটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে?
‘হারিয়ে যাওয়া কালিকলম’ কোন ধরনের রচনা?
‘সমাস’-এর ক্ষেত্রে সাধারণত কী ঘটে?
‘নদেরচাঁদ নদীকে ভালোবাসত’— এখানে ‘নদীকে’ কোন কারক?
‘সিন্ধুতীরে’ পদে কোন কারক ও বিভক্তি রয়েছে?
‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ কোনটি?
‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু কখন খুলেছিল?
মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা Final Exam Preparation
৫০টি গুরুত্বপূর্ণ SAQ — প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত উত্তরসহ
‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের লেখক কে?
তপনের প্রথম গল্পের নাম কী?
তপন কেন গল্প লিখতে উৎসাহিত হয়েছিল?
‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণের তাৎপর্য কী?
তপনের লেখা গল্পটির নাম কী ছিল?
‘বহুরূপী’ গল্পের রচয়িতা কে?
হরিদার পেশা কী ছিল?
হরিদা কেন বাঁধা কাজ করতে চাইতেন না?
হরিদার ছদ্মবেশ ধারণের বিশেষত্ব কী ছিল?
‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার চরিত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
‘পথের দাবী’ রচনার লেখক কে?
‘পথের দাবী’-র গিরীশ মহাপাত্র আসলে কে?
গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশের উদ্দেশ্য কী ছিল?
গিরীশ মহাপাত্র নিজেকে কেমন মানুষ বলে পরিচয় দিয়েছিল?
‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের রচয়িতা কে?
‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র কে?
নদেরচাঁদ পেশায় কী ছিলেন?
নদেরচাঁদের কাছে নদীটি কেন এত প্রিয় ছিল?
নদেরচাঁদ কতদিন নদীটিকে দেখতে পায়নি?
‘নদীর বিদ্রোহ’ নামকরণে ‘বিদ্রোহ’ শব্দটির তাৎপর্য কী?
‘অদল বদল’ গল্পের লেখক কে?
‘অদল বদল’ গল্পের দুই প্রধান বালক চরিত্রের নাম কী?
অমৃত ও ইসাবের সম্পর্ক কেমন ছিল?
‘অদল বদল’ গল্পে বন্ধুত্বের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
‘অসুখী একজন’ কবিতার কবি কে?
‘অসুখী একজন’ কবিতার প্রধান বিষয় কী?
‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার কবি কে?
‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার মূল আহ্বান কী?
‘আফ্রিকা’ কবিতার কবি কে?
‘আফ্রিকা’ কবিতায় কবির প্রতিবাদের মূল কারণ কী?
‘অভিষেক’ কবিতার রচয়িতা কে?
‘অভিষেক’ কোন কাব্যের অংশ?
‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার কবি কে?
‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘প্রলয়’ কীসের প্রতীক?
‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার কবি কে?
‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার মূল বক্তব্য কী?
‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের রচয়িতা কে?
‘সিন্ধুতীরে’ কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?
‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্রের ভূমিকা কী?
‘হারিয়ে যাওয়া কালিকলম’ কোন ধরনের রচনা?
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের লেখক কে?
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে মূলত কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের রচয়িতা কে?
‘কোনি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
‘কোনি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিষয় কী?
ক্ষিদদা কে?
কোনির জীবনে দারিদ্র্যের প্রভাব কী ছিল?
‘কারক’ বলতে কী বোঝায়?
‘সমাস’ বলতে কী বোঝায়?
‘বাচ্য’ বলতে কী বোঝায়?
মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা Final Exam Preparation
৩ নম্বরের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — প্রসঙ্গভিত্তিক উত্তরসহ
গদ্য ও সহায়ক পাঠ
গল্পভিত্তিক ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
“লেখক বলে যে মানুষকে আলাদা কোনো জীব মনে হয়েছিল তপনের।” — তপনের এই ধারণার পরিবর্তন কীভাবে ঘটেছিল?
“তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল।” — তপনের জ্ঞানচক্ষু কীভাবে খুলেছিল?
“তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।” — ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা কেন এমন কথা বলেছিলেন?
“হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।” — কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
“নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।” — নদেরচাঁদ ‘নদীর বিদ্রোহ’ বলতে কী বুঝেছিল?
“নদীর জন্য নদেরচাঁদের এত মায়া একটু স্বাভাবিক।” — উক্তিটির যথার্থতা ব্যাখ্যা করো।
“আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?” — নদেরচাঁদের মনে এমন ভাবনা কেন এসেছিল?
“লোভটা সে সামলাইতে পারিল না।” — নদেরচাঁদের কোন লোভের কথা বলা হয়েছে? এই লোভের কারণ কী?
“বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।” — নদেরচাঁদের ভয়ের কারণ কী?
“কী আশ্চর্য! চমকে ওঠে ভবতোষ।” — ভবতোষ কেন চমকে উঠেছিল?
“কিছুক্ষণ নদীকে না দেখিলে সে বাঁচিবে না।” — উক্তিটির মাধ্যমে নদেরচাঁদের চরিত্রের কোন দিক প্রকাশ পেয়েছে?
“অমৃতের মতো ছেলে পেলে ইসাবের বাবা…” — অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের সামাজিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্ব কীভাবে সামাজিক ভেদাভেদকে অতিক্রম করেছে?
‘পথের দাবী’-তে গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশের তাৎপর্য কী?
‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিদদার ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কবিতা
পাঠ্য কবিতার ওপর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ৩ নম্বরের প্রশ্ন
‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধ কীভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ধ্বংস করে?
‘অসুখী একজন’ কবিতার নামকরণ কতটা সার্থক?
‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’-র তাৎপর্য কী?
‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সংকটের চিত্র কীভাবে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে?
‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘মানুষ ধরার দল’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের এভাবে অভিহিত করার কারণ কী?
‘আফ্রিকা’ কবিতায় কবির ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্যে কী ধরনের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
‘অভিষেক’ কবিতায় রাবণের মানসিক অবস্থার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে?
‘অভিষেক’ কবিতায় শোক কীভাবে বীরত্বে রূপান্তরিত হয়েছে?
‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয়ের মধ্যে আনন্দের কারণ কী?
‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘নবীন’-এর আগমন কেন আনন্দের?
‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় গান কেন অস্ত্রের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে ওঠে?
“অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে”— উক্তিটির অন্তর্নিহিত বক্তব্য কী?
‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্রের রূপ কীভাবে কাহিনির আবহ তৈরি করেছে?
‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে প্রকৃতি কীভাবে কাহিনির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে?
‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ ও ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’—এই দুই কবিতায় কোন মানবিক মূল্যবোধের মিল পাওয়া যায়?
মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা Final Exam Preparation
৫ নম্বরের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — পরীক্ষোপযোগী উত্তরসহ
গল্প
পাঠ্য গল্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৫ নম্বরের প্রশ্ন
‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প অবলম্বনে তপনের চরিত্রের পরিবর্তন আলোচনা করো।
‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের তপন প্রথমদিকে লেখকদের সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করত। তার মনে হয়েছিল, লেখকরা সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তাঁদের জীবন এক রহস্যময় জগতের অন্তর্গত। কিন্তু তার মেসোমশাইকে লেখক হিসেবে দেখার পর তপনের সেই ধারণায় পরিবর্তন আসে। সে বুঝতে পারে, একজন লেখকও তার মতোই সাধারণ মানুষ।
এই উপলব্ধির ফলে তপনের নিজের লেখক হওয়ার ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়। সে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প লেখে এবং সেটি মেসোমশাইকে পড়ায়। মেসোমশাই গল্পটি সংশোধন করে পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু প্রকাশিত গল্পটি পড়ে তপনের মনে হয়, তার নিজের লেখা যেন আর নিজের নেই। এতে তার মনে গভীর উপলব্ধি জন্মায়।
শেষ পর্যন্ত তপন বুঝতে পারে, সত্যিকারের লেখক হতে হলে নিজের ভাষা, নিজস্ব ভাবনা ও নিজস্ব লেখনীর ওপর নির্ভর করতে হবে। এই মানসিক জাগরণই তার প্রকৃত ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে দেয়।
‘বহুরূপী’ গল্প অবলম্বনে হরিদার চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা একজন স্বাধীনচেতা ও স্বতন্ত্র শিল্পীসত্তার অধিকারী মানুষ। বহুরূপীর কাজ করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। নানা ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষের সামনে উপস্থিত হওয়া ছিল তাঁর শিল্প। তাঁর সাজসজ্জা ও অভিনয়ের মধ্যে ছিল অসাধারণ দক্ষতা।
হরিদা অর্থলোভী ছিলেন না। তাঁর কাছে নিজের শিল্পীসত্তা ও স্বাধীনতা অর্থের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই কোনো ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি বাঁধা কাজ গ্রহণ করতে চাননি। তাঁর ধারণা ছিল, নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে বাঁধা পড়লে তাঁর বহুরূপী শিল্পের স্বাধীনতা নষ্ট হবে।
হরিদার মধ্যে আত্মসম্মান, স্বাধীনচেতা মনোভাব, অভিনয়প্রতিভা এবং শিল্পের প্রতি ভালোবাসা ছিল। সাধারণ জীবনের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছিলেন। এই কারণেই হরিদা চরিত্রটি গল্পে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাঁদ। পেশায় স্টেশনমাস্টার হলেও তার মন গভীরভাবে প্রকৃতিপ্রেমী। বিশেষ করে নদীর সঙ্গে তার এক নিবিড় মানসিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। প্রতিদিন নদীকে দেখা তার জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।
নদেরচাঁদের নদীর প্রতি ভালোবাসা ছিল অত্যন্ত গভীর। কয়েক দিন নদীকে দেখতে না পেয়ে সে অস্থির হয়ে পড়ে। প্রবল বর্ষণের ফলে নদীর স্বাভাবিক রূপ পরিবর্তিত হলে তার কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। নদীর উত্তাল রূপ তাকে একই সঙ্গে আকৃষ্ট ও ভীত করে।
তবে নদীর প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ তার মধ্যে এক ধরনের আবেগপ্রবণতাও তৈরি করেছিল। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও নদীর কাছাকাছি যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ফলে তার চরিত্রে প্রকৃতিপ্রেম, সংবেদনশীলতা, আবেগ এবং দুর্বলতা—সবকিছুরই সমন্বয় দেখা যায়।
‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের মানবিক তাৎপর্য আলোচনা করো।
পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পের অমৃত ও ইসাব দুই ভিন্ন ধর্মীয় ও পারিবারিক পরিবেশের বালক। কিন্তু তাদের বন্ধুত্বে ধর্ম, সামাজিক অবস্থান বা পারিবারিক পার্থক্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। শিশুমনের স্বাভাবিক ভালোবাসা ও আন্তরিকতা তাদের সম্পর্ককে গভীর করে তুলেছিল।
অমৃত ও ইসাব একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিত। তাদের বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো স্বার্থ বা হিসাব ছিল না। তারা পরস্পরের প্রতি যে টান অনুভব করত, তা ছিল সম্পূর্ণ মানবিক। এই সম্পর্কের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন, মানুষের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি হলেও শিশুমনের স্বাভাবিক মানবিকতা সেই বিভেদকে অতিক্রম করতে পারে।
গল্পটির সবচেয়ে বড় মানবিক শিক্ষা হলো—মানুষের পরিচয় তার ধর্ম বা সামাজিক অবস্থান দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। ভালোবাসা, মমতা, বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতাই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। তাই অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্ব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিকতার প্রতীক।
কবিতা
পাঠ্য কবিতা থেকে বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন
‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক রূপ কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?
পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের নির্মম ও ধ্বংসাত্মক রূপ অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে প্রকাশিত হয়েছে। যুদ্ধ মানুষের স্বাভাবিক জীবন, ঘরবাড়ি, সম্পর্ক ও স্মৃতিকে ধ্বংস করে দেয়। কবিতার বক্তা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিরে এসে তার পরিচিত পৃথিবীকে আর আগের অবস্থায় দেখতে পায় না।
যুদ্ধের ফলে মানুষের বসতি ধ্বংস হয়, চারপাশে মৃত্যুর চিহ্ন ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের ব্যক্তিগত সুখ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। যুদ্ধ শুধু বাড়িঘর ধ্বংস করে না, মানুষের মনে গভীর শূন্যতা ও বেদনা তৈরি করে।
কবি যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরাসরি মানবিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষতি কোনো একটি দেশের নয়—সমগ্র মানবজাতির। তাই কবিতাটি যুদ্ধবিরোধী মানবিক চেতনার একটি শক্তিশালী প্রকাশ।
‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবির মানবিক ও সামাজিক চেতনার পরিচয় দাও।
শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সংকটের সময় মানুষের পারস্পরিক ঐক্য ও সহমর্মিতার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে। কবিতার মানুষগুলো এমন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে যেখানে একা পথ চলা কঠিন। তাই কবি মানুষকে একে অপরের হাত ধরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ এখানে কোনো বাহ্যিক বন্ধন নয়। এটি পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ব, সহমর্মিতা ও সামাজিক সংহতির প্রতীক। কবি বুঝেছেন যে বিপদের সময় মানুষ যদি পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে সংকট আরও গভীর হয়।
কবিতায় তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে সমষ্টিগত চেতনা গুরুত্ব পেয়েছে। মানুষের দুর্দশার প্রতি কবির গভীর সহানুভূতি এবং একসঙ্গে বাঁচার আকাঙ্ক্ষাই তাঁর মানবিক ও সামাজিক চেতনার প্রধান পরিচয়।
‘আফ্রিকা’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথের ঔপনিবেশিকতাবিরোধী মনোভাব আলোচনা করো।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। আফ্রিকার মানুষকে সভ্যতার নামে যারা শোষণ করেছিল, কবি তাদের মানবিকতার অভাবকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন।
আফ্রিকাকে সম্পদ ও শ্রমের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা, মানুষকে বন্দি করা এবং তার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলির মধ্যে কবি সভ্যতার ভণ্ডামি দেখতে পেয়েছেন। তথাকথিত সভ্যতার নামে এই বর্বরতা কবির কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কবিতার শেষে কবির ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্যেও গভীর মানবিক অপরাধবোধ প্রকাশ পেয়েছে। আফ্রিকার ওপর সংঘটিত অত্যাচারের জন্য সমগ্র মানবসভ্যতার পক্ষ থেকে তিনি যেন লজ্জা প্রকাশ করেছেন। ফলে ‘আফ্রিকা’ শুধু একটি মহাদেশের কথা নয়; এটি শোষিত মানুষের পক্ষে কবির মানবিক প্রতিবাদ।
‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ধ্বংসের মধ্যে সৃষ্টির আনন্দ কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?
কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয়কে কেবল ধ্বংসের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়নি। কবির কাছে প্রলয় পুরোনো, জীর্ণ ও অন্যায় ব্যবস্থার অবসানের সংকেত। সেই ধ্বংসের মধ্য থেকেই নতুন জীবন ও নতুন সমাজের জন্ম হবে।
কবিতায় তাই ভয়াবহতার সঙ্গে আনন্দের অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটেছে। যে পুরোনো ব্যবস্থা মানুষের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার পতন কবির কাছে আনন্দের। কারণ তার জায়গায় নতুন শক্তি, নতুন প্রাণ এবং নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই কবি প্রলয়কে ভয় না পেয়ে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নবসৃষ্টির যে পথ তৈরি হয়, সেটিই কবিতার মূল আনন্দ ও আশাবাদ।
‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার মূল বক্তব্য আলোচনা করো।
জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় হিংসা ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে মানবিকতা, শান্তি ও সৃষ্টিশীলতার শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ‘অস্ত্র’ এখানে যুদ্ধ, হত্যা ও ধ্বংসের প্রতীক। তার বিপরীতে ‘গান’ মানুষের ভালোবাসা, স্বপ্ন, সৃজনশীলতা ও শান্তির প্রতীক।
কবি অস্ত্রের শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে মানবিক শক্তির ওপর আস্থা রেখেছেন। অস্ত্র দিয়ে মানুষের শরীরকে আঘাত করা সম্ভব হলেও মানুষের স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীল চেতনাকে সহজে ধ্বংস করা যায় না। তাই গানকে তিনি অস্ত্রের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী মানবিক প্রতিরোধ হিসেবে দেখেছেন।
কবিতার মূল বক্তব্য হলো—মানুষের ভবিষ্যৎ যুদ্ধ ও হিংসার ওপর নয়, শান্তি, ভালোবাসা ও সৃষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
‘অভিষেক’ কবিতায় রাবণের চরিত্রের যে বীরত্ব ও পিতৃস্নেহ প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচনা করো।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ অংশে রাবণকে একদিকে শোকাহত পিতা এবং অন্যদিকে বীর যোদ্ধা হিসেবে দেখা যায়। মেঘনাদের মৃত্যুসংবাদ রাবণের মনে গভীর পুত্রশোক সৃষ্টি করে। পুত্রের প্রতি তার ভালোবাসা ও আবেগ এই শোকের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কিন্তু রাবণ কেবল শোকে ভেঙে পড়ে না। ব্যক্তিগত বেদনার মধ্যেও তার বীরত্ব, আত্মমর্যাদা ও প্রতিশোধস্পৃহা জেগে ওঠে। সে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সংকল্প গ্রহণ করে। এইভাবে পিতৃস্নেহ ও বীরত্ব তার চরিত্রে পাশাপাশি অবস্থান করেছে।
ফলে রাবণকে এখানে একমাত্রিক খলচরিত্র হিসেবে দেখা যায় না। তার মধ্যে পিতার কোমলতা এবং যোদ্ধার কঠোরতা—দুই বিপরীত বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটেছে। এটাই তার চরিত্রকে মানবিক ও মহত্তর করে তুলেছে।
প্রবন্ধ
পাঠ্য প্রবন্ধ থেকে বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে রাজশেখর বসু বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে কোন সমস্যাগুলির কথা বলেছেন?
রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের প্রধান বিষয় বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার সমস্যা ও সম্ভাবনা। লেখকের মতে, বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে তার বক্তব্য সহজ ও স্পষ্ট বাংলায় প্রকাশ করা দরকার।
কিন্তু বিজ্ঞানবিষয়ক বিষয় বাংলায় প্রকাশ করার সময় উপযুক্ত পরিভাষার অভাব, অপ্রচলিত বা দুর্বোধ্য শব্দের ব্যবহার এবং অতিরিক্ত সংস্কৃতনির্ভর ভাষা অনেক সময় পাঠকের বোঝার পথে বাধা সৃষ্টি করে। আবার বিদেশি শব্দকে অযথা বাদ দিতে গিয়েও ভাষাকে কৃত্রিম করে তোলা ঠিক নয়।
লেখক তাই এমন একটি বৈজ্ঞানিক বাংলা ভাষার পক্ষে মত দিয়েছেন, যা নির্ভুল, সহজবোধ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য পরিভাষাসমৃদ্ধ। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করে তোলা।
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বিজ্ঞানবিষয়ক রচনার ভাষা কেমন হওয়া উচিত বলে লেখক মনে করেন?
রাজশেখর বসুর মতে বিজ্ঞানবিষয়ক রচনার ভাষা অবশ্যই নির্ভুল ও স্পষ্ট হওয়া দরকার। বৈজ্ঞানিক বিষয়কে এমনভাবে প্রকাশ করতে হবে যাতে পাঠক বিষয়টি সহজে বুঝতে পারেন। শুধু কঠিন শব্দ ব্যবহার করলেই বৈজ্ঞানিক আলোচনা উন্নত হয় না।
প্রয়োজন অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু সেই পরিভাষা এমন হওয়া উচিত যাতে তার অর্থ পাঠকের কাছে বোধগম্য হয়। অযথা দুর্বোধ্য ও কৃত্রিম ভাষা ব্যবহার করলে বিজ্ঞান সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।
তাই লেখকের আদর্শ বিজ্ঞানভাষা হলো—নির্ভুল, সংক্ষিপ্ত, সহজ, স্বাভাবিক এবং বিষয়ের উপযোগী। এই ধরনের ভাষার মাধ্যমেই বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে।
‘হারিয়ে যাওয়া কালিকলম’ রচনায় লেখক পুরোনো লেখার উপকরণের প্রতি যে স্মৃতিমেদুরতা প্রকাশ করেছেন তা আলোচনা করো।
‘হারিয়ে যাওয়া কালিকলম’ রচনায় পুরোনো লেখার উপকরণকে কেন্দ্র করে অতীত জীবনের নানা স্মৃতি ও পরিবর্তনের ছবি ফুটে উঠেছে। কালিকলম, দোয়াত ও লেখার পুরোনো পদ্ধতি একসময় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে সেইসব উপকরণ ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে।
লেখকের স্মৃতিতে পুরোনো কালিকলম শুধু একটি লেখার সরঞ্জাম নয়; এটি একটি সম্পূর্ণ সময়ের প্রতীক। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ধৈর্য, লেখার অভ্যাস, ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং পুরোনো সংস্কৃতির নানা দিক।
তাই রচনাটিতে পুরোনো জিনিস হারিয়ে যাওয়ার জন্য লেখকের মধ্যে যে বিষণ্ণতা তৈরি হয়েছে, তা আসলে একটি পরিবর্তনশীল সময়ের প্রতি স্মৃতিমেদুরতা। আধুনিকতার অগ্রগতির পাশাপাশি অতীতের কিছু মূল্যবান অভিজ্ঞতা হারিয়ে যাওয়ার বেদনাও এখানে প্রকাশিত হয়েছে।
নাটক
‘সিরাজদ্দৌলা’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘ প্রশ্ন
‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটক অবলম্বনে সিরাজের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে সিরাজদ্দৌলাকে একজন দেশপ্রেমিক, সাহসী ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন শাসক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার বিষয়ে তাঁর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছিল। ইংরেজদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে তিনি সতর্ক ছিলেন।
সিরাজের চরিত্রে আবেগপ্রবণতাও ছিল। তিনি নিজের আপনজন ও সভাসদদের প্রতি বিশ্বাস রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। ফলে তাঁর চরিত্রে সাহসের পাশাপাশি সরলতা ও রাজনৈতিক দুর্বলতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে।
শেষ পর্যন্ত বিপদের মুখেও সিরাজ নিজের দেশ ও মর্যাদার কথা ভুলে যাননি। তাঁর পরিণতি বাংলার স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। তাই সিরাজ নাটকে একদিকে ঐতিহাসিক চরিত্র, অন্যদিকে দেশপ্রেম ও ট্র্যাজিক বেদনার প্রতীক।
‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে মীরজাফরের চরিত্রের স্বরূপ আলোচনা করো।
‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে মীরজাফর ষড়যন্ত্র, স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক। সিরাজের প্রতি আনুগত্যের ভান করলেও তার মনে ছিল ব্যক্তিগত ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে ইংরেজদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ ও ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়।
মীরজাফরের চরিত্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো দেশ ও শাসকের প্রতি আনুগত্যের অভাব। ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও সিংহাসনের লোভ তাকে এমন পথে নিয়ে যায়, যার ফল বাংলার রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়।
নাটকে মীরজাফর তাই শুধু একজন ব্যক্তি নয়; সে বিশ্বাসঘাতকতার একটি ঐতিহাসিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তার চরিত্রের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও স্বার্থপরতা একটি শক্তিশালী দেশকেও দুর্বল করে দিতে পারে।
পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ — কোনি
‘কোনি’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৫ নম্বরের প্রশ্ন
‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিদদার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিদদা একজন কঠোর, আত্মবিশ্বাসী ও দূরদর্শী প্রশিক্ষক। সমাজের আর্থিক অবস্থান বা বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে মানুষের প্রতিভাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। কোনির মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে তিনি তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ক্ষিদদা কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতায় বিশ্বাসী। কোনি দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি তাকে ছাড় দেন না; বরং আরও শক্তভাবে অনুশীলন করতে উৎসাহ দেন। তাঁর কঠোরতার আড়ালে ছিল গভীর স্নেহ ও শিষ্যের প্রতি বিশ্বাস।
ক্ষিদদার সবচেয়ে বড় গুণ হলো তিনি প্রতিকূলতার কাছে হার মানেন না। কোনির সাফল্যের পেছনে তাঁর প্রশিক্ষণ, মানসিক শক্তি ও নিরন্তর উৎসাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই ক্ষিদদা শুধু প্রশিক্ষক নন, কোনির জীবনের একজন গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক।
‘কোনি’ উপন্যাসে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে কোনির সংগ্রাম আলোচনা করো।
‘কোনি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তার জীবনে আর্থিক সংকট ও সামাজিক প্রতিকূলতা ছিল প্রবল। কিন্তু এই প্রতিকূলতা তার প্রতিভা ও সাফল্যের আকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণ দমিয়ে দিতে পারেনি।
সাঁতারে তার স্বাভাবিক প্রতিভা ছিল। ক্ষিদদার প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ তার সেই প্রতিভাকে বিকশিত করে। কঠোর অনুশীলন, শারীরিক কষ্ট এবং মানসিক চাপ সহ্য করেও কোনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যায়নি।
কোনির সংগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সে নিজের পরিস্থিতিকে নিজের ভাগ্য বলে মেনে নেয়নি। কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে সে বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে। তাই কোনির চরিত্র সাফল্যের জন্য প্রতিভার পাশাপাশি অধ্যবসায় ও সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার প্রতীক।
‘কোনি’ উপন্যাসের নামকরণ কতটা সার্থক?
মতি নন্দীর উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে কোনির জীবন, সংগ্রাম ও সাঁতারে সাফল্য অর্জনের কাহিনি। গল্পের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে কোনির ব্যক্তিগত জীবন, তার পরিবার, প্রশিক্ষণ, প্রতিকূলতা এবং প্রতিযোগিতার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
কোনি শুধু উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নয়; তার সংগ্রামের মধ্য দিয়েই উপন্যাসের মূল বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। দরিদ্র পরিবেশ থেকে উঠে এসে প্রতিভা, কঠোর অনুশীলন ও আত্মবিশ্বাসের সাহায্যে নিজের জায়গা তৈরি করার লড়াই তার চরিত্রকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।
তাই উপন্যাসের বিষয়বস্তু, চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ—সবকিছুর সঙ্গে ‘কোনি’ নামটি সরাসরি যুক্ত। এই কারণে উপন্যাসটির নামকরণ অত্যন্ত সার্থক।
‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিদদা ও কোনির সম্পর্কের স্বরূপ আলোচনা করো।
ক্ষিদদা ও কোনির সম্পর্ক মূলত একজন প্রশিক্ষক ও শিষ্যের সম্পর্ক হলেও এর মধ্যে গভীর স্নেহ, বিশ্বাস ও মানসিক বন্ধন রয়েছে। ক্ষিদদা কোনির প্রতিভা প্রথম থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তার আর্থিক দুরবস্থা বা সামাজিক অবস্থানকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি তাকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেন।
ক্ষিদদা কোনির প্রতি কঠোর ছিলেন। কিন্তু তাঁর কঠোরতার উদ্দেশ্য ছিল কোনিকে মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্ত করে তোলা। কোনি যখন হতাশ বা দুর্বল হয়ে পড়ত, তখন ক্ষিদদা তাকে আবার লড়াই করার সাহস দিতেন।
অন্যদিকে কোনিও ক্ষিদদার প্রতি আস্থা রেখেছিল এবং তাঁর নির্দেশ মেনে কঠোর পরিশ্রম করেছিল। তাই তাদের সম্পর্ক শুধু প্রশিক্ষক-শিষ্যের নয়; এটি বিশ্বাস, সংগ্রাম ও সাফল্যের এক গভীর মানবিক সম্পর্ক।
‘কোনি’ উপন্যাসে “ফাইট, কোনি, ফাইট” উক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো।
“ফাইট, কোনি, ফাইট” শুধু একটি উৎসাহের বাক্য নয়; এটি ‘কোনি’ উপন্যাসের সংগ্রামী চেতনার অন্যতম প্রতীক। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কোনি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন ক্ষিদদার এই আহ্বান তাকে আবার লড়াই করার মানসিক শক্তি দেয়।
এখানে ‘ফাইট’ বলতে শুধু সাঁতারের প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার চেষ্টা বোঝায় না। দারিদ্র্য, সামাজিক অবহেলা, হতাশা, শারীরিক ক্লান্তি এবং নানা বাধার বিরুদ্ধে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার কথাও বোঝানো হয়েছে।
উক্তিটি কোনির আত্মবিশ্বাসকে জাগিয়ে তোলে এবং তাকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করে যেতে শেখায়। তাই “ফাইট, কোনি, ফাইট” অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস, প্রতিরোধ এবং হার না মানার মানসিকতার প্রতীক।
মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা ব্যাকরণ
৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণ প্রশ্ন ও উত্তর
কারক কাকে বলে?
কারক কত প্রকার ও কী কী?
কর্তৃকারক কাকে বলে?
উদাহরণ: রাহুল বই পড়ে। — এখানে ‘রাহুল’ কর্তৃকারক।
কর্মকারক কাকে বলে?
উদাহরণ: মিতা বই পড়ে। — এখানে ‘বই’ কর্মকারক।
করণকারক কাকে বলে?
উদাহরণ: কলম দিয়ে লিখি। — ‘কলম দিয়ে’ করণকারক।
সম্প্রদান কারক কাকে বলে?
উদাহরণ: আমি গরিবকে কাপড় দিলাম।
অপাদান কারক কাকে বলে?
উদাহরণ: গাছ থেকে পাতা পড়ে। — ‘গাছ থেকে’ অপাদান কারক।
অধিকরণ কারক কাকে বলে?
উদাহরণ: মাঠে ছেলেরা খেলছে। — ‘মাঠে’ অধিকরণ কারক।
সমধাতুজ কর্তা কাকে বলে?
উদাহরণ: সে একটি গান গাইল। — ‘গান’ ও ‘গাইল’ একই ধাতু থেকে নয়, তাই এটি সমধাতুজ কর্তার উদাহরণ নয়।
উপযুক্ত উদাহরণ: সে একটি খেলা খেলল।
অনুক্ত কর্তা কাকে বলে?
উদাহরণ: আজ স্কুলে যাওয়া হবে। — এখানে কর্তা প্রকাশিত নয়।
সম্বন্ধপদ কারক নয় কেন?
কর্ম কত প্রকার?
মুখ্য কর্মের একটি উদাহরণ দাও।
সমধাতুজ কর্ম কাকে বলে?
উদাহরণ: সে একটি খেলা খেলল।
বিভক্তি কাকে বলে?
উদাহরণ: রামকে — ‘কে’ বিভক্তি।
বিভক্তি ও অনুসর্গের মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।
উদাহরণ: তাকে — ‘কে’ বিভক্তি; তার জন্য — ‘জন্য’ অনুসর্গ।
সমাস কাকে বলে?
উদাহরণ: রাজার পুত্র → রাজপুত্র।
সমাসের উদ্দেশ্য কী?
দ্বন্দ্ব সমাস কাকে বলে?
উদাহরণ: মা ও বাবা → মা-বাবা।
দ্বিগু সমাস কাকে বলে?
উদাহরণ: তিন ভুবনের সমাহার → ত্রিভুবন।
কর্মধারয় সমাস কাকে বলে?
উদাহরণ: নীল যে পদ্ম → নীলপদ্ম।
তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে?
উদাহরণ: রাজার পুত্র → রাজপুত্র।
বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে?
উদাহরণ: নীল কণ্ঠ যার → নীলকণ্ঠ।
অলোপ সমাস কাকে বলে?
উদাহরণ: সারা রাত → সারারাত।
নিত্য সমাস কাকে বলে?
উদাহরণ: নীলকণ্ঠ শব্দটি নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হলে তা নিত্য সমাসের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
‘রাজপুত্র’ শব্দটির ব্যাসবাক্য ও সমাসের নাম লেখো।
সমাস — ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
‘নীলপদ্ম’ শব্দটির ব্যাসবাক্য ও সমাসের নাম লেখো।
সমাস — কর্মধারয় সমাস।
‘মা-বাবা’ শব্দটির ব্যাসবাক্য ও সমাসের নাম লেখো।
সমাস — দ্বন্দ্ব সমাস।
‘ত্রিভুবন’ শব্দটির ব্যাসবাক্য ও সমাসের নাম লেখো।
সমাস — দ্বিগু সমাস।
বাক্য কাকে বলে?
উদাহরণ: রাহুল প্রতিদিন স্কুলে যায়।
বাক্য নির্মাণের প্রধান শর্তগুলি কী কী?
আকাঙ্ক্ষা কাকে বলে?
যোগ্যতা কাকে বলে?
উদাহরণ: ‘জলে আগুন জ্বলে’—সাধারণ অর্থে বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
আসত্তি কাকে বলে?
গঠন অনুসারে বাক্য কত প্রকার?
সরল বাক্য কাকে বলে?
উদাহরণ: রিমা গান গায়।
জটিল বাক্য কাকে বলে?
উদাহরণ: যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়।
যৌগিক বাক্য কাকে বলে?
উদাহরণ: সে পড়ে এবং আমি লিখি।
‘সে খুব পরিশ্রম করে এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করে।’ — বাক্যটি কী ধরনের?
‘যে সত্য কথা বলে, সবাই তাকে ভালোবাসে।’ — বাক্যটি কী ধরনের?
বাচ্য কাকে বলে?
বাচ্য কত প্রকার?
কর্তৃবাচ্য কাকে বলে?
উদাহরণ: রাহুল চিঠি লেখে।
কর্মবাচ্য কাকে বলে?
উদাহরণ: রাহুলের দ্বারা চিঠি লেখা হয়।
ভাববাচ্য কাকে বলে?
উদাহরণ: এখানে বসা যায়।
কর্মকর্তৃবাচ্য কাকে বলে?
উদাহরণ: বইটি ছাপা হয়েছে।
‘মা শিশুকে ডাকলেন।’ — কর্মবাচ্যে পরিবর্তন করো।
‘রাহুল চিঠি লিখেছে।’ — কর্মবাচ্যে পরিবর্তন করো।
‘তুমি এখন বাংলা পড়ো।’ — নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তন করো।
‘তুমি বাংলা পড়বে অথবা ইংরেজি পড়বে।’ — বাক্যটি সরলভাবে প্রকাশ করো।
মাধ্যমিক ২০২৭ বাংলা — নির্মিতি
৩০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্মিতি প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর
১. কাল্পনিক গল্প
৬টি পরীক্ষোপযোগী গল্পের বিষয় ও নমুনা উত্তর
নিচের সূত্র অবলম্বনে একটি গল্প রচনা করো:
“এক ছাত্র পরীক্ষার হলে যাওয়ার পথে একটি টাকা ভর্তি ব্যাগ পেল…”
সততার পুরস্কার
রাহুল মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী। সেদিন ছিল তার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। সে সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। পথের ধারে হঠাৎ সে একটি ব্যাগ দেখতে পেল। ব্যাগটি খুলে সে অবাক হয়ে গেল। ভিতরে বেশ কিছু টাকা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল।
রাহুলের মনে এক মুহূর্তের জন্য লোভ জেগেছিল। কিন্তু সে ভাবল, এই টাকা নিশ্চয়ই কোনো মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ব্যাগের ভিতরে থাকা একটি পরিচয়পত্র দেখে সে মালিকের ঠিকানা খুঁজে বের করার চেষ্টা করল।
পরীক্ষা শুরু হতে তখন খুব বেশি সময় বাকি ছিল না। তবুও রাহুল কাছের থানায় গিয়ে ব্যাগটি জমা দিল এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছল। পরীক্ষার পর ব্যাগের মালিক থানায় এসে রাহুলের সততার কথা জানতে পারেন। তিনি রাহুলকে পুরস্কার দিতে চাইলেও রাহুল তা গ্রহণ করেনি।
রাহুল বলেছিল, “অন্যের জিনিস ফিরিয়ে দেওয়া কোনো উপকার নয়, এটা আমার কর্তব্য।” তার সততা ও দায়িত্ববোধ সকলের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
নীতিকথা: সততার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু নেই।
সূত্র অবলম্বনে গল্প লেখো:
“এক বৃদ্ধ প্রতিদিন একটি গাছের চারা লাগাতেন। গ্রামের লোকেরা তাঁকে নিয়ে হাসত। কয়েক বছর পর…”
ভবিষ্যতের জন্য
একটি গ্রামের প্রান্তে থাকতেন হরিদাস নামে এক বৃদ্ধ। প্রতিদিন সকালে তিনি একটি করে গাছের চারা লাগাতেন। গ্রামের লোকেরা তাঁকে দেখে হাসত। তারা বলত, “এই বয়সে গাছ লাগিয়ে কী লাভ? গাছ বড় হতে হতে তো আপনি থাকবেন না।”
হরিদাস কোনো উত্তর দিতেন না। তিনি শুধু বলতেন, “আমি যদি অন্যের লাগানো গাছের ছায়া পেয়ে থাকি, তবে আমিও ভবিষ্যতের মানুষের জন্য কিছু রেখে যেতে চাই।”
কয়েক বছর কেটে গেল। গ্রামের চারপাশে সেই ছোট ছোট চারাগাছ বিশাল বৃক্ষে পরিণত হলো। প্রচণ্ড গরমে মানুষ সেই গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে লাগল। পাখিরা বাসা বাঁধল, পরিবেশ ঠান্ডা হলো এবং গ্রামের সৌন্দর্যও বেড়ে গেল।
তখন গ্রামের মানুষ বুঝতে পারল, বৃদ্ধের কাজ কখনোই বৃথা যায়নি। তিনি নিজের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গাছ লাগিয়েছিলেন।
নীতিকথা: ভালো কাজের ফল সবসময় সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না।
সূত্র অবলম্বনে গল্প লেখো:
“দুই বন্ধু পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিল। হঠাৎ একজন বিপদে পড়ল…”
বিপদে বন্ধুর পরিচয়
অর্ণব ও সুমন ছোটবেলার বন্ধু। একদিন তারা পাহাড়ে বেড়াতে গেল। পাহাড়ি পথে হাঁটার সময় হঠাৎ সুমনের পা পিছলে যায়। সে একটি ঢালু জায়গায় পড়ে যায় এবং উঠতে পারছিল না।
অর্ণব ভয় পেলেও বন্ধুকে একা রেখে চলে যায়নি। সে প্রথমে নিজের ব্যাগ থেকে দড়ি বের করল এবং নিরাপদ জায়গায় সেটি বাঁধল। তারপর ধীরে ধীরে নিচে নেমে সুমনকে ধরে উপরে তুলে আনল।
কিছুক্ষণ পর তারা নিরাপদ জায়গায় পৌঁছল। সুমন বলল, “তুই না থাকলে আজ কী হতো জানি না।” অর্ণব হাসতে হাসতে বলল, “বন্ধুত্ব তো শুধু আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য নয়। বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোই আসল বন্ধুত্ব।”
নীতিকথা: বিপদের সময় যে পাশে থাকে, সেই প্রকৃত বন্ধু।
“লোভের পরিণতি” — এই শিরোনাম অবলম্বনে একটি গল্প রচনা করো।
লোভের পরিণতি
বিজন একটি ছোট দোকান চালাত। ব্যবসা ভালোই চলছিল। কিন্তু অল্পে তার মন ভরত না। সে সবসময় দ্রুত বেশি টাকা উপার্জনের পথ খুঁজত।
একদিন এক অপরিচিত ব্যক্তি তাকে খুব কম দামে একটি মূল্যবান জিনিস দেওয়ার প্রস্তাব দিল। বিজন কোনো যাচাই না করেই বেশি লাভের আশায় সেটি কিনে নিল। পরে সে জানতে পারল, জিনিসটি আসলে নকল।
শুধু তাই নয়, লোকটির দেওয়া কাগজপত্রও ভুয়ো ছিল। বিজন নিজের সঞ্চয়ের বেশিরভাগ টাকা হারাল। সে বুঝতে পারল, অল্প সময়ে বেশি লাভের লোভই তাকে বিপদে ফেলেছে।
এরপর থেকে বিজন আর কোনো কাজ করার আগে ভালোভাবে যাচাই করত। ধীরে ধীরে সে আবার নিজের ব্যবসা দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
নীতিকথা: অতিরিক্ত লোভ মানুষকে নিজের সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেয়।
“হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন” — বিষয়টি অবলম্বনে একটি শিক্ষামূলক গল্প লেখো।
হারানো জিনিস
স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অয়ন রাস্তার পাশে একটি দামি মোবাইল ফোন দেখতে পেল। সে ফোনটি তুলে নিল। কিছুক্ষণ পর ফোনে একটি কল এল। একজন বৃদ্ধ কাঁপা গলায় বললেন, ফোনটি তাঁর এবং তাতে তাঁর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।
অয়ন তাঁকে কাছের একটি দোকানের সামনে আসতে বলল। কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধ সেখানে এসে ফোনটি নিজের বলে প্রমাণ করলেন। তিনি অয়নকে টাকা দিতে চাইলেন।
অয়ন বলল, “আপনার জিনিস আপনাকে ফিরিয়ে দিয়েছি। এর জন্য টাকা নেওয়া ঠিক হবে না।” বৃদ্ধ অয়নের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন।
অয়ন বুঝেছিল, অন্যের হারানো জিনিস নিজের করে নেওয়া কখনোই সঠিক নয়।
নীতিকথা: সততা মানুষকে সম্মান এনে দেয়।
“শেষ পর্যন্ত সত্যের জয়” — এই শিরোনামে একটি গল্প রচনা করো।
শেষ পর্যন্ত সত্যের জয়
বিদ্যালয়ে একটি মূল্যবান ঘড়ি হারিয়ে গেল। সন্দেহ গিয়ে পড়ল দরিদ্র ছাত্র রতনের ওপর। কারণ সে শেষবার শ্রেণিকক্ষে ছিল। অনেকেই তাকে চোর বলে অভিযুক্ত করল।
রতন বারবার বলল যে সে ঘড়িটি নেয়নি। কিন্তু কেউ তার কথা বিশ্বাস করল না। শিক্ষক বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
পরে বিদ্যালয়ের একটি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গেল, অন্য একটি ছাত্র ভুল করে ঘড়িটি নিজের ব্যাগে নিয়ে গিয়েছিল। সে বিষয়টি স্বীকার করে রতনের কাছে ক্ষমা চাইল।
শিক্ষক বললেন, “প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী করা উচিত নয়।” রতনের সততা ও ধৈর্যের শেষ পর্যন্ত জয় হলো।
নীতিকথা: সত্যকে কিছু সময়ের জন্য চাপা দেওয়া যায়, কিন্তু চিরদিনের জন্য নয়।
২. প্রতিবেদন
৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন লেখার নমুনা
তোমাদের বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লেখো।
বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে গত ১৫ জুলাই আমাদের বিদ্যালয়ে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের গাছের গুরুত্ব ও পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করেন।
কর্মসূচির শেষে প্রত্যেক শ্রেণিকে কয়েকটি করে গাছের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি চালু থাকবে।
তোমাদের এলাকায় একটি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বিষয়ে প্রতিবেদন লেখো।
বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির
স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গত রবিবার আমাদের এলাকায় একটি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে শিবিরটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন। রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ৩০০ জন মানুষ এই শিবির থেকে পরিষেবা গ্রহণ করেন।
চিকিৎসকেরা রোগ প্রতিরোধ, খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন। এলাকার বাসিন্দারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
তোমাদের বিদ্যালয়ে একটি বিজ্ঞান প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ওপর একটি প্রতিবেদন লেখো।
বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান প্রদর্শনী
গত ৫ সেপ্টেম্বর আমাদের বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে।
সৌরশক্তি, জল সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন মডেল প্রদর্শিত হয়। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের তৈরি মডেলের কার্যপ্রণালী দর্শকদের সামনে ব্যাখ্যা করে।
অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষও প্রদর্শনী দেখতে আসেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা বৃদ্ধি পায়।
তোমাদের এলাকায় প্রবল বর্ষণের ফলে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন লেখো।
প্রবল বর্ষণে জলমগ্ন এলাকা
টানা কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে গতকাল জেলার বেশ কয়েকটি এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বহু রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
নিচু এলাকার বেশ কিছু বাড়িতেও জল ঢুকে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পের সাহায্যে জল বের করার ব্যবস্থা করা হয়। বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কর্মীরাও বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে জলমগ্ন এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ওপর একটি প্রতিবেদন লেখো।
বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
গত ১০ জানুয়ারি আমাদের বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে।
দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
শেষে সফল প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাও ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তোমাদের এলাকায় একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ওপর প্রতিবেদন লেখো।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এলাকাবাসী
স্বচ্ছ ও দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গত রবিবার আমাদের এলাকায় একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় ক্লাব ও বাসিন্দাদের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় এবং নিকাশি নালাগুলিও পরিষ্কার করা হয়। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়।
প্রায় শতাধিক মানুষ এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। উদ্যোক্তারা জানান, শুধু একদিন পরিষ্কার করলেই হবে না; নিয়মিতভাবে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
৩. রচনা / প্রবন্ধ
৮টি গুরুত্বপূর্ণ রচনার বিষয় ও পূর্ণাঙ্গ নমুনা উত্তর
ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য
মানুষের জীবনে সময় অত্যন্ত মূল্যবান। অর্থ বা সম্পদ হারিয়ে গেলে তা আবার অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু একবার চলে যাওয়া সময় কখনো ফিরে আসে না। তাই ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য আরও বেশি।
ছাত্রজীবন মানুষের ভবিষ্যৎ গঠনের সময়। এই সময়ে পড়াশোনা, শরীরচর্চা, খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ এবং নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন ছাত্র নিজের ভবিষ্যৎ প্রস্তুত করে। কিন্তু সময়ের সঠিক ব্যবহার না করলে পরে তার ফল ভোগ করতে হয়।
বর্তমানে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিনোদনের কারণে অনেক ছাত্র অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় নষ্ট করে। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়। তাই প্রতিদিনের কাজের জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সূচি তৈরি করা দরকার।
সময়নিষ্ঠ মানুষ জীবনের কাজগুলি পরিকল্পনা করে করতে পারে। পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার পরিবর্তে প্রতিদিন নিয়মিত পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
তাই ছাত্রজীবনে সময়কে অবহেলা না করে তার সঠিক ব্যবহার করা উচিত। সময়ের মূল্য বুঝে যে ছাত্র এগিয়ে চলে, ভবিষ্যতে সাফল্যের সম্ভাবনা তারই বেশি।
পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা
মানুষ ও পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বনভূমি ধ্বংস, প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং দূষণের কারণে পরিবেশ আজ নানা সমস্যার সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ছাত্রছাত্রীরা প্রথমত নিজেদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করতে পারে। বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্লাস্টিকবিরোধী প্রচার এবং জল সংরক্ষণের মতো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা যায়।
শুধু গাছ লাগালেই পরিবেশ রক্ষা হয় না; লাগানো গাছের যত্ন নেওয়াও জরুরি। অপ্রয়োজনীয়ভাবে জল নষ্ট না করা, যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলাও পরিবেশ রক্ষার অংশ।
ছাত্রছাত্রীরা পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করতে পারে। তাদের ছোট ছোট অভ্যাস সমাজে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
তাই পরিবেশ রক্ষার কাজ শুধু সরকারের নয়। ছাত্রসমাজ সচেতন ও দায়িত্বশীল হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।
বিজ্ঞান: আশীর্বাদ না অভিশাপ
আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতির পেছনে বিজ্ঞানের অবদান অসীম। বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, যোগাযোগ, পরিবহণ, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি—জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ করেছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বহু কঠিন রোগের চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে অন্য প্রান্তের মানুষ মুহূর্তে যোগাযোগ করতে পারে। কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করছে।
কিন্তু বিজ্ঞানের অপব্যবহার বিপজ্জনক। যুদ্ধাস্ত্র, পারমাণবিক অস্ত্র এবং নানা ধ্বংসাত্মক প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় হুমকি। অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা মানুষের সামাজিক সম্পর্ক ও স্বাভাবিক জীবনেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই বিজ্ঞান নিজে আশীর্বাদ বা অভিশাপ নয়। মানুষ কীভাবে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করছে তার ওপর তার ফল নির্ভর করে। মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ব্যবহার করলে তা আশীর্বাদ; ধ্বংস ও শোষণের কাজে ব্যবহার করলে তা অভিশাপে পরিণত হয়।
বই পড়ার অভ্যাস
বই মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বন্ধু। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ শুধু জ্ঞান অর্জন করে না, তার চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও ভাষাজ্ঞানও বৃদ্ধি পায়। তাই ছাত্রজীবনে বই পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাঠ্যবই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় হলেও কেবল পাঠ্যবই পড়লেই জ্ঞানের পরিধি বাড়ে না। গল্প, উপন্যাস, জীবনী, বিজ্ঞানবিষয়ক বই, ইতিহাস ও ভ্রমণকাহিনি পড়লে নানা বিষয়ে নতুন ধারণা তৈরি হয়।
বর্তমানে মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বই পড়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই কমছে। কিন্তু নিয়মিত বই পড়া মনোযোগ ধরে রাখতে এবং গভীরভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন অল্প সময় হলেও বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা উচিত। বিদ্যালয় ও পরিবার থেকেও শিশুদের বই পড়তে উৎসাহিত করা দরকার।
বই মানুষের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে এবং তাকে চিন্তাশীল করে তোলে। তাই জীবনে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা
সুস্থ শরীরের জন্য যেমন পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন নিয়মিত খেলাধুলা। খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মনকেও সতেজ রাখে।
ছাত্রজীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব আরও বেশি। দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করার ফলে শরীর ও মন ক্লান্ত হয়ে যায়। খেলাধুলা সেই ক্লান্তি দূর করে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
খেলাধুলা থেকে নিয়মানুবর্তিতা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব, ধৈর্য এবং হার-জিতকে মেনে নেওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়। একজন খেলোয়াড় বুঝতে শেখে যে সাফল্যের জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রম দরকার।
বর্তমানে মোবাইল ও কম্পিউটারের কারণে অনেক ছাত্র মাঠের খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই প্রবণতা বদলানো দরকার।
তাই পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর নিয়মিত খেলাধুলার অভ্যাস থাকা উচিত। সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
সামাজিক জীবনে ইন্টারনেটের ভূমিকা
ইন্টারনেট আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। শিক্ষা, যোগাযোগ, ব্যবসা, চিকিৎসা, সরকারি পরিষেবা এবং বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার রয়েছে।
ছাত্রছাত্রীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল বই, শিক্ষামূলক ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্যভান্ডার পড়াশোনাকে সহজ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দূরে থাকা মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করা যায়। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার সময় নষ্ট করতে পারে এবং ভুল তথ্য, প্রতারণা ও অনলাইন হয়রানির মতো সমস্যাও তৈরি করতে পারে।
তাই ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি। ব্যক্তিগত তথ্য অযথা প্রকাশ না করা, সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা দরকার।
ইন্টারনেট একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি জ্ঞান ও উন্নতির হাতিয়ার; অসচেতন ব্যবহার করলে তা সমস্যার কারণ হতে পারে।
আমার প্রিয় শিক্ষক
শিক্ষকের স্থান মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ভালো শিক্ষক শুধু বইয়ের বিষয় শেখান না; তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঠিক পথে চলার শিক্ষাও দেন। আমার প্রিয় শিক্ষক হলেন আমাদের বাংলা শিক্ষক।
তিনি অত্যন্ত সহজভাবে কঠিন বিষয় বোঝান। কোনো ছাত্র কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে তিনি বিরক্ত হন না। বরং অন্যভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ক্লাসে শুধু বইয়ের প্রশ্ন নয়, সাহিত্য ও সমাজজীবনের নানা বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
তিনি আমাদের সময়ের মূল্য, শৃঙ্খলা এবং সততার গুরুত্ব শেখান। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হওয়াকেও তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
তাঁর ব্যবহার ছাত্রদের প্রতি আন্তরিক। কোনো ছাত্র সমস্যায় পড়লে তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করেন। তাঁর কাছ থেকে আমি শুধু বাংলা বিষয় নয়, জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি।
তাই আমার কাছে তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন; তিনি একজন পথপ্রদর্শক।
দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা
শৃঙ্খলা হলো নিয়ম মেনে সঠিকভাবে জীবন পরিচালনা করার অভ্যাস। ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের উন্নতির জন্য শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ছাত্রজীবনে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, পড়াশোনা করা, বিদ্যালয়ে যাওয়া, খেলাধুলা করা এবং বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস একজন ছাত্রের জীবনকে সুশৃঙ্খল করে।
শৃঙ্খলাহীন মানুষ অনেক সময় প্রতিভাবান হয়েও নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না। কারণ শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়; নিয়মিত পরিশ্রম ও সময়ের সঠিক ব্যবহারও দরকার।
সমাজজীবনেও শৃঙ্খলার প্রয়োজন রয়েছে। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, সারিতে দাঁড়ানো, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং অন্যের অধিকারকে সম্মান করা সামাজিক শৃঙ্খলার অংশ।
তাই শৃঙ্খলা কোনো বাধা নয়; বরং সাফল্য ও সুস্থ সমাজের ভিত্তি। ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলা উচিত।
৪. ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ
১০টি পরীক্ষোপযোগী Translation Practice